ভালোবাসার টানে : অজন্তা চক্রবর্তী

অজন্তা চক্রবর্তী
ভালোবাসার টানে

বাড়িতে চা পাতা শেষ বলে যাচ্ছিলাম একটু দার্জিলিংএ চা পাতা কিনতে ৷ কিন্তু ওই - স্মৃতিমেদুর বাঙালী ৷ হঠাৎ মনে হল অনেকদিন দেখা হয় না, এত ভালোবাসি, এসেছি যখন এদিকেই, একবার দেখা করে যাই ৷ কালিম্পং ৷

ব্রিটিশরা দার্জিলিংকে সাজিয়েছিল মনোরঞ্জন কেন্দ্র হিসেবে ৷ ম্যাল চিড়িয়াখানা রেস্তরাঁ ক্লাব রিভার-রাফটিং হর্স-রাইডিং দোকানপাট ঝকমকে পসরায় সাজানো গোছানো ক্যুইন অফ হিলস্ ৷ এখনো বাঙালী পর্যটকরা শুধু চা পাতা নয় বাক্সবন্দি করার জন্য উলের নানাবিধ জিনিস কিনে আনে ওখান থেকে ৷ ওখানকার স্থানীয় মানুষের বেশিরভাগেরই এই কেনাবেচার ওপরেই জীবিকা নির্ভরশীল ৷

আর কালিম্পং ছিল মিশনারিদের কাজের জায়গা ৷ খ্রীস্টধর্ম বিস্তৃত করতে মিশনারিদের কাজের সুবিধার্থে শ্রীরামপুর বা ফোর্টউইলিয়মের মত কালিম্পং এও বেশ কিছু স্কুল কলেজ তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ আমলেই ৷ ডন বসকো, সেন্ট যোশেফ, গ্রাহামস হোম ,স্কটিশ ইউনিভারসিটিস মিশন ইনস্টিট্যুট - আরও কত নামীদাী স্কুল কলেজ ৷ সাথে আছে বৌদ্ধ মনাস্ট্রি ৷ জন ঢোক পালরি ফোডাং মনাস্ট্রিতে আছে বহু তিব্বতি দুষ্প্রাপ্য পুঁথি ৷
শান্ত স্নিগ্ধ পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে সেসব স্কুল কলেজ আজও আছে ৷ হালে অবশ্য পর্যটক টানতে কিছু জায়গাকে ট্যুরিস্ট স্পট করে তোলা হয়েছে ৷
এখনো এখানে ম্যাল নেই, তেমন উচ্চমানের রেস্তরাঁ নেই, পসরাও নেই তেমন ৷ আছে প্রকৃতির অকৃত্রিম সৌন্দর্য আর অনেকটা নষ্ট হলেও আছে মানুষগুলোর সহজাত ইনোসেন্স ৷ বাংলায় বললে বলতে হয় অকৃত্রিম মন ৷ তারা সবাই খুব ভালো বা অহিংস তা বলতে চাইনা, কিন্তু তারা মুখোশ পরা সভ্য নয় ৷ তাই কেজো কাজে যাবার পথে কেউ দুদন্ড যদি কালিম্পং পাহাড়ে প্রকৃতির মাঝে কাটাতে যায় বিশেষতঃ শীতের রকমারি নাম না জানা ফুল আর অর্কিডের সমারোহে, তবে সে ভালোবেসে ফেলবেই তাকে ৷ যেমনটা আমার ৷ আগেও গেছি এবারও গেলাম আবারও যাব কথা দিয়ে এসেছি ৷ যেতে তো হবেই ভালোবাসার টানে ৷

Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.