![]() |
| সিদ্ধার্থ সিংহের ৩টি অসভ্য অণুগল্প |
শণাক্তকরণ
অবিনাশ ঝুলবারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। বউ গত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর। দুই ছেলেমেয়েই হস্টেলে থাকে। অফিসে বসে মাঝেমাঝেই ইন্টারনেটে নীল ছবি দেখেন। কোন সহকর্মী যেন সে কথা তুলে দিয়েছেন বড়সাহেবের কানে। বড় সাহেব তক্কে তক্কে ছিলেন। উনি বুঝতে পারেননি। গত কাল একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছেন। ছিঃ ছিঃ ছিঃ...
সেই থেকে মনটা একদম ভাল নেই। আজ অফিস পর্যন্ত যেতে পারেননি। ঝুলবারান্দায় দাঁড়ালে মনটা ফুরফুরে হয়ে যায়। সামনেই এই হাউসিং কমপ্লেক্সের প্রশস্ত লন। সারি সারি কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া। বাচ্চাদের জন্য দোলনা, ঢেকি, স্লিপ। বিকেল হলে বাচ্চাদের মেলা বসে যায়। বাচ্চাগুলো কী মিষ্টি, কী সুন্দর। একদম ডলপুতুলের মতো। অবিনাশের মাঝে মধ্যেই ইচ্ছে হয়, বাচ্চাগুলোর গাল টিপে একটু আদর করে আসবেন।
দোতলার এই ঝুলবারান্দা থেকেও উনি ঠিক চিনতে পারেন, কোন বাচ্চাটা জুঁইয়ের, কোনটা বৃষ্টির, কোনটা মেঘলার। বাচ্চাগুলোর মায়েদের উনি আরও ভাল করে চেনেন। বউ মারা যেতেই উনি ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু ক'দিন পরেই বুঝেছিলেন, যার বউ আছে, তার একটাই। কিন্তু যার বউ নেই, তার হাজারটা।
ওই বাচ্চাগুলোর বাবারা কি কিচ্ছু টের পায় না! ওই যে ওটা, ওটাও তো আমার, তাই না! শম্পা তো আমাকে সে রকমই বলেছিল!
কীর্তিমান
সারা পৃথিবী তাকিয়ে আছে। ওঁরা তিন তলোয়ারবিদ্ নাকি ভেলকি দেখাতে পারেন। গ্যালারি গমগম করছে। প্রথম জন উঠে এলেন রিংয়ে। মোটা কালো কাপড় দিয়ে তাঁর চোখ বেঁধে দেওয়া হল। তার পর কৌটো খুলে তাঁর সামনে ছেড়ে দেওয়া হল একটি মাছি। ডানার ফড়ফড় শব্দ শুনে তলোয়ার চালালেন তিনি। এক কোপেই দু'টুকরো। উইন্ডো স্ক্রিনে সে দৃশ্য দেখে করতালিতে ফেটে পড়ল গোটা গ্যালারি।
দ্বিতীয় জন তখন রিংয়ের মাঝখানে। হাতে চকচক করছে তলোয়ার। সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হল। তাঁর সামনে উড়ন্ত একটি মাছি। সাঁইসাঁই করে তিনি শুধু দু'বার ঘোরালেন সেই অস্ত্র। মাছিটা চার টুকরো হয়ে পড়ল লাল কার্পেটের ওপরে। পুরো গ্যালারি তাজ্জব। তিন টুকরো হলেও নয় ভাবা যেত, কিন্তু একেবারে চার টুকরো! এমনও হয়!
যখন সম্বিত ফিরল, রিংয়ে তখন তৃতীয় জন। তাঁর সামলেও ছেড়ে দেওয়া হল একটি মাছি। সেটা যখন উড়তে উড়তে রিং থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তিনি বসিয়ে দিলেন এক কোপ। মাছিটা তখনও একই রকম ভাবে উড়ছে। গ্যালারির দর্শকেরা এ ওঁর মুখ চাওয়াচাউয়ি করতে লাগলেন, ইনি সব চেয়ে দক্ষ! এঁর কেরামতি দেখতে এসেছেন তাঁরা! এঁর বেলায় তো চোখও বাঁধা হয়নি, আলোও নেভানো হয়নি। তবুও... হে হে হে হে...
ঠিক তখনই জুড়ি বোর্ড ঘোষণা করলেন ফলাফল। গুঞ্জন উঠল গ্যালারিতে। ইনিই প্রথম! কী করে হয়? কত দিয়েছে বাবা?
বিচারকরা তখন বললেন, উইন্ডো স্ক্রিনে দেখুন, ইনি মাছিটাকে দু'টুকরো করেননি ঠিকই, তবে যা করেছেন, তাতে ওই মাছিটা আর কোনও দিনই বাবা হতে পারবে না।
আইটেম বোম
হিন্দি সিনেমার আইটেম গার্ল। একেবারে ঝাক্কাস মেয়ে। ওয়ার্ল্ড ট্যুরে বেরোচ্ছেন। সুইজারল্যান্ডের সব চেয়ে বড় স্টেডিয়ামে তাঁর শো। লাইফ টেলিকাস্ট হবে চ্যানেল টু চ্যানেল। সারা পৃথিবী জুড়ে। তবু টিকিটের জন্য দাঙ্গা বেঁধে গেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ওই দিনের জন্য স্পেশাল ফ্লাইট দিচ্ছে। লোকে বলে, ডাক্তাররা নাকি এখন আর কাউকে ভায়াগ্রা প্রেসক্রাইব করেন না। বলেন, ওঁর নাচ দেখুন, তা হলেই হবে।
সব ঠিক আছে। কিন্তু সমস্যা হল, ওই শোয়ে কী পরবেন তিনি! এমন পোশাক চাই, যাতে তাঁর সমস্ত রেকর্ড ব্রেক করে যায়। উনি কল করলেন পৃথিবীখ্যাত এক ডিজাইনারকে। একটা ছোট্ট লেডিজ রুমাল দিয়ে বললেন, আমাকে এটা ড্রেস বানিয়ে দিন।
ডিজাইনার গালে হাত দিয়ে বসে পড়লেন। ভাবছেন আর ভাবছেন। মনে মনে কত কিছু কাট-ছাঁট করছেন। তাঁকে অত চিন্তাভাবনা করতে দেখে আইটেম গার্ল বললেন, কী হল? এতে হবে না?
ডিজাইনার বললেন, না না, হবে না কেন? হবে হবে। আমি ভাবছি, যে কাপড়টা বাঁচবে, সেটা দিয়ে কী বানাব!

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন