![]() |
| শারদীয়া : অরুণিমা মন্ডল দাস |
১)
পূজো আসছে বেঁকে বেঁকে
দুদিকে কেরোসিন, পেট্রোল র গন্ধ
কাশফুলেরা তখনো মায়ের কোলে ঘুমোচ্ছে
একটা আচমকা শব্দ
খটখট আওয়াজ
কেউ বা কারা দোরগোড়ায় “শারদীয়া শুভেচ্ছা”বলে চিৎকার করল
সকালের ব্রাশ মুখ থেকে পড়ে গেল
ফেসবুক, ওয়াট্সআপ গুলো একগাল
হাসাহাসি শুরু করল
পাখিদের ডাকগুলো আজ
ব্রেকফাস্টের আগে সূর্যকে নিয়ে
এতো টানাটানি করছিল
টিউশনি তে পড়তে যাওয়া ছেলে মেয়ের দলেরা বুঝতেই পারে নি
সকালটা উষার” ওড়না
ভেদ করে কখন সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গেছে--
শারদীয়া”
গুড়ের সন্দেশ আর তালের পিঠে
নারিকেলের নাড়ু
মাইকের গান গুলো
ছোট্ট ভাই বোনের পাগলামি
চারিদিকে পূজো র গন্ধ
মা আসবে
তাঁর জানান দিচ্ছে
শারদীয়া
বিকেলে আড়চোখে তাকিয়ে
আনমনা প্রজাপতিদের ঘোরাঘুরি
নতুন পোশাকে র চিৎকার
ফ্যাশান তখনো ঠাঁই একপাশে দাঁড়িয়ে
শারদীয়া র শুভেচ্ছা”---
মুচকি হেসে চলে যাওয়া কলেজের ক্রাশগুলি,পাড়ার প্রেমগুলি,শ্রদ্ধাগুলি
অক্সিজেন পেতে ব্যস্ত
সপ্তমী, অষ্টমী,দশমী
কখন এসে দুয়ারে
নাড়ু খেয়ে চলে যায়
বোঝা ই যায় না
ওই যে বললাম
তবু ও
“ শারদীয়া সাগরে প্রতি বছর ডুবতেই হয়!”
২)
কবিতা লিখতে যাব ঠিক সেই সময়
পূজো এলো
ধূপ বাজনা
সাজ
অনেকগুলো
কাজল চোখ
এলো
শেক্সপীয়ার কে পাশে বসিয়ে রাখলাম
পাঁচ মিনিটের ব্রেক
কবিতা আমাকে যেতে দেবে না
কিছুতেই
কলম গুলো ওয়ার্ডওয়ার্থের ভক্ত ছিল
পেনের নিপে কাগজ ছোঁয়াতেই
বাংলার হুমায়ুন আহমেদ
রবি ঠাকুর
জীবনানন্দ
দাস ভেসে ওঠে
ফ্ল্যাসব্যাক
পরপর দুবার
ফ্ল্যাসব্যাক
কবিতা আমাকে জানান
দিল
লিখতেই হবে
শূণ্য রুমটা আমাকে কষিয়ে থাপ্পড় মারল
কলম লিখল
“শারদীয়া কবিতা”!

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন