![]() |
আদিকথা । মাধবী দাস। কবিতা পাক্ষিক : গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় |
আদিকথা । মাধবী দাস। কবিতা পাক্ষিক : গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
পৃথিবীতে প্রথম দিন থেকে কবিদের কাজ হলো অন্যায় এবং অস্থিরতার বিরুদ্ধে প্রচার করা। মানুষের চেতনাকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাকে এই কাজটি করতে হয়।মাধবী তার ব্যতিক্রম নয়। তার বর্তমান 'আদি ধর্মকথায়'-য় সে স্বচ্ছন্দে বলতে পারে
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনের কামরাগুলি
প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার ধার ধারে না।
( এসি টু টায়ার)
কবি তার যে কাজটি করতে পছন্দ করতেন তা হলো একটি সুন্দর পৃথিবীর সন্ধান।
বুকে জমা ডিপ্রেশন জানলা খুলে দাও
( হারিয়ে যেও না)
এরকম অনেক পঙক্তি উল্লেখ করা যেতে পারে।কিন্তু মাধবী তার জীবনের বেদনা একটু নতুন ভাবে প্রকাশ করে-
এমন শরৎকাল আর ফিরে আসবে না, (অনুভব)
অথবা,
কোনও সুখেই আনন্দ খুঁজে পাই না আর
( আগুন জ্বলে না)
অথচ বেঁচে থাকার সন্ধান মাধবীর কবিতায় অজস্রবার এসেছে।
'কুয়াশার হিম-ছোঁয়ায় পৃথিবীর খুব
আপন হয় পাতা-ঝরা শীত
গাছ ছুঁয়ে, মাটি ছুঁয়ে,জল ছুঁয়ে
অনুভবে অন্তরঙ্গ হই আমি...' (একেশ্বরী মন)
নস্টালজিক ভাবনার বৃত্তে মাধবী নানা ভাবে ধরা পড়েছে। জীবনতো কবিদের সূক্ষ্ম অনুভূতির তারে নস্টালজিয়ার সংগীত বাজাতে পছন্দ করে।এতে আক্রান্ত হয় না এমন কোনো কবি নেই।মাধবী স্বীকার করে-
' আমি তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়াই সেই মানচিত্র ' ( ঘৃণা) কিন্তু জীবনবোধ বাস্তবতার মুখোমুখি এনে দিলে কবি বলতে বাধ্য যে, ' মিথ্যা বেশিদিন কারো মাতৃভাষা নয়' ( ব্রাহ্মীশাকের দিব্যি), ' প্রতিদিন এত পাপ করি জানে না কেউ ' ( সূর্যাস্ত )।
কতকগুলি কবিতা মাধবীর সামাজিক ও রাষ্ট্রিক যন্ত্রণার সাক্ষী হয়ে থাকে।যেমন ' ছিট-মহল', 'ছায়া',
'অন্বেষণ', ' অববাহিকা'।
মাধবীর কবিতায় চিত্রকল্প এসেছে অনাবিল ভাবে। স্বভাব কবিদের কাছে এটাই প্রত্যাশিত। কবি সাজাবে আর পাঠক ছবির মধ্য দিয়ে দেখবেন চেনা পৃথিবীকে। মাধবী এক্ষেত্রে অনেক বেশী ঋজু। যেমন -
'অ্যাসিড বৃষ্টি হয় শহরতলিতে
বসন্তের স্বপ্নগুলো পুড়ে যায়'
( অসময়ের কান্না)
' লাটাগুড়ি,রায় মাটাং,মেটেলি,রকি আইল্যান্ড
রিকিসুম-এর রূপ যেন ঝুঁকে পড়েছে তিস্তার চরে'
(স্বপ্ন)
এগুলিকে বলা যায় পোস্টমডার্ন চিত্রকল্প। যে কবি খুব গভীর ভাবে এই সব ছবি আঁকে সে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী ও রূপতত্ত্বে নিমগ্ন।মাধবী সংসারের যন্ত্রণাকে খুব আন্তরিক ভাবে দেখে। ' সরে যেও না ', 'জয় পরাজয়' কবিতাগুলি তার সাক্ষী। মাধবী আপনার ' খোঁজ ', ' কবিতার স্বপ্ন ', আপনার ' যে যায় সে যাক 'কবিতার একাকিত্ব আমাদের মর্ম স্পর্শ করে।
মলাটের পিছনে কবি প্রভাত চৌধুরীর কথকতা অত্যন্ত সম্মানের।আপনি অবশ্যই তার উপযুক্ত।
পতত্রী চক্রবর্তীর প্রচ্ছদ প্রশংসনীয়।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন