![]() |
| মৃদুল শ্রীমানী |
এক থানার অফিসার ইন চার্জের সাথে গল্প হচ্ছিল। তিনি জানালেন শ্বশুর বাড়িতে পণনির্যাতিতা মেয়েকে নিয়ে বাপ মা এসেছেন থানায়। বক্তব্য এই যে মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পণের জন্য যন্ত্রণা দেওয়া হচ্ছে। থানা কর্তৃপক্ষ বললেন একটা লিখিত অভিযোগ দিন। তো মেয়ের বাপ চান মিলমিশ করিয়ে দিতে। কথায় কথায় জানা গেল, ছেলেটি এই বিয়ের আগেও দুইবার বিয়ে করেছিল। দুটো বউই অসময়ে মরেছে। আঁতকে উঠে ওসি বললেন, ওবাড়িতে আপনার মেয়েকে রেখে কাজ নেই।
মেয়ের বাপ বলেন হ্যাঁ।
আর সেই প্রথম দিনেই তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। তাই তো? ওসি বলে ওঠেন।
মেয়ের বাপ কবুল করেন, হ্যাঁ।
ওসি বললেন, একটু যদি সময় দিতেন, পাড়া প্রতিবেশীর কাছে খবর নিতেন, তাহলে পরে পরে যা জানতে পারলেন, তা আগেই জানতে পারতেন। এক দিনে দুম করে বিয়ে ঠিক করা মোটেও ভাল কাজ হয় নি। আপনারা মেয়েকে একটা বোঝা, একটা ঝঞ্ঝাট মনে করেছেন বলেই, এক কথায় বিয়ে ঠিক করেছেন। মারধোর খাবার পরেও ওই বাড়িতেই মেয়েকে রাখতে চাইছেন। এর পর আপনাদের মেয়ে কিন্তু পুলিশকেই দূষবে। পুলিশ কিছু করে না। সে দেখবে তার বাপের বাড়িতেও তার ঠাঁই নেই, আর পুলিশও কিছুই করল না। সে এরপর হয়তো আত্মহত্যা করবে। কিন্তু আসল দোষটা কার বলুন তো? মেয়ের বাপের চোয়ালটা ঝুলে যায়।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন