![]() |
| শামিমা এহেসানা |
( অনুগল্প )
এই বসন্তে, প্রথম যৌবনে পা রেখেছে আমগাছ। এই প্রথম তার ফুল ফুটেছে। অবশ্য আম গাছে ফুল ধরলে কেও ফুল বলে না। বলে মুকুল। গাছের মালিকের আশার থেকেও বেশি মুকুল ধরেছে।
বাবা বললেন, সব মুকুলে আম হয় না শ্রীমান রায়ান সরকার। অনেক মুকুল ঝড়ে যায় হালকা হাওয়াতে। অনেকগুলো কষ্টা আম বৃষ্টির আঘাতেই কুপোকাত হয়। তারপর, আচারি টক আম গুলোর অর্ধেক খেয়ে ফেলে কালবৈশাখী। তারপর নামে শিলা। পাকার আগেই পচিয়ে দেয় কত আম। টিকে থাকে মাত্র কটা। যে কটার সাহস অনেক, তারা মন আর শরীরের জোরে সব বাধা, আঘাত সত্বেও টিকে থাকে। সবাই পারে না বাবা। তবে যারা পারে, তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে পথিক, প্রতিবেশী, মালী, ব্যবসায়ী আর সব খাদ্য রসিক।
সব আম হয়নি। সাকুল্যে দশটা আম টিকেছিল। দান ধ্যান, মন্দির, পুরোহিত বাড়ির বাচ্চাদের দিয়ে বাবার সে বছর আম খাওয়া হয়নি। বলেছিলেন, পরের বার তিনি অবশ্যই খাবেন। কিন্তু কালবৈশাখীর মত করেই মৃত্যু কেড়ে নিল রায়ানার বাবাকে। এরপর, ব্যাবসায় বড় লোকসান, বিক্রি করতে হয়েছিল, ভিটেমাটি সহ আমগাছ। পাশের বস্তিতে ঠাঁই হয়েছিল তাদের। গোটা বাড়ির দুবেলা পেট ভরাতে ঝি এর কাজ করতে হয়েছে মিঃ সরকারের বিধবা স্ত্রীকে।
ঠিক আঠারো বছর পর বিদশের ইউনিভার্সিটিতে পড়ানোর সুযোগ পাওয়ার পর, প্রথম ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের মোটিভেশন জোগাতে বাবার বলা কথাগুলো ইংরেজিতে বললেন ডঃ রায়ান সরকার।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন