মধ্যবিত্ত বাঙালি : পিনাকী চৌধুরী
বিত্তের মাপকাঠিতে যিনি মধ্যস্থানে অবস্থান করেন, তিনিই মধ্যবিত্ত ! সুদূর অতীতে এই মধ্যবিত্ত বাঙালির বেশ একটা ঐতিহ্য ছিল , আরাম - আয়েশের পাশাপাশি শিক্ষার প্রতি অনুরাগ মধ্যবিত্তের বৈশিষ্ট্য ছিল । আর তারসঙ্গে অবশ্যই ছিল আদর্শনিষ্ঠ জীবনযাপন ! বিশেষ কিছু মূল্যবোধ এইসব মধ্যবিত্তকে নিয়ন্ত্রণ করতো ! কিন্তু সেসব এখন সোনালী অতীত ! পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্তরা এখন শপিং মলে পুজোর কেনাকাটা করতে গিয়ে সেলফি ( নিজস্বী) তুলে, সেই ছবি সোশ্যাল সাইটগুলোতে আপলোড করেন ! অতীতে এইসব মধ্যবিত্তের কাছে পুজো মানেই যেন ছিল পুজো বার্ষিকী পড়ার আনন্দ, আর এখন ? সেসব অতীত , পাঁচতলা মল - পুরোটাই ইন্টারনেট ! হ্যাঁ, মধ্যবিত্ত এখন গভীর রাতে দুষ্টু দুষ্টু ওয়েবসাইটে বিচরণ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ! মধ্যবিত্তের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর আগেও ছিল, এখনও আছে ! তবে মধ্যবিত্ত বাঙালি তাঁর সহনশীল মানসিকতার জন্য অতীতের মতো আজও অনেক' শ্লেষ' সহ্য করতে হয় ! আরও আশ্চর্যের বিষয় হল যিনি মধ্যবিত্তের দিকে শ্লেষের তিরটি নিক্ষেপ করেন, তিনিও বাঙালি ! মধ্যবিত্ত বাঙালি মানেই রকে বসে নির্ভেজাল আড্ডা ! আর মধ্যবিত্ত বাঙালি মানেই মহাষ্টমীর অঞ্জলীর পরে সুন্দরী কোনো কন্যের সাথে দু'পলকের দৃষ্টি বিনিময় ! আর মহানবমীর সেই চিরাচরিত ধুনুচি নাচতো আজও মধ্যবিত্তের মজ্জাগত ! আর পাশের বাড়ির মেয়ের প্রেমে পড়াটাও কিন্তু মধ্যবিত্তের একজন বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক ! তবে এখন যুগ বদলেছে ! পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই একবিংশ শতাব্দীতে মধ্যবিত্তের কোনোকিছুই আর স্পষ্ট করে বলা হয়তোবা সম্ভব নয় ! তবে এটুকু নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, মধ্যবিত্ত মানেই আজও যেন প্রাণখোলা হাসি ! জলে মজ্জমান ব্যক্তির তৃণখন্ড ধরে ভেসে থাকবার মতো আজও মধ্যবিত্ত পরচর্চা পরনিন্দা করে ভেসে থাকতে পছন্দ করে, বলা ভালো, এইভাবেই মধ্যবিত্ত রসেবশে থাকে !
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন