স্ত্রীকে বশে রাখবেন কীভাবে : রত্নদীপা দে ঘোষ

স্ত্রীকে বশে রাখবেন কীভাবে : রত্নদীপা দে ঘোষ
স্ত্রীকে বশে রাখবেন কীভাবে : রত্নদীপা দে ঘোষ 

অন্তহীনা সে। তাঁরই সমগ্রে জেগে আছে নক্ষত্রের ঠুংরি। শুনুন মন দিয়ে পরনের আলোশাড়ি। দেবজাতিকার ঘুঙুর, শরৎশশীর বাতিটিকে ফোয়ারায় শিহরিত রাখুন।
সপ্ত অঙ্গনের কারুকাজ, টাটকা সবুজ। তাঁকে ছুঁয়ে প্রতিদিন জন্মে যাচ্ছে আপনার বিবাহদিন।  শাঁখাপলার লগ্নবাসরে, প্রেমের পঞ্চতট। সানাইয়ের জ্যোৎস্না, এয়োচিহ্নসকল। সরোবরে লুটোপুটির পাখাডানা। কখনো মসলিনের গরাদে তাঁকে বন্দী রাখবেন না।
স্পর্ধাকে চেনার চেষ্টা করুন তাঁর, অন্দরে পিয়াসার গেলাসলিপি। একপাতে বসে আঁকুন ছবি।
মনে  রাখবেন, ঘোমটাদার জোনাকি কিন্তু ততখানি আশাকুহু নয়।
যতখানি চিনিদার বাখরখানির জিওন। তাকে দিন প্যাস্টেল কালারের প্রতিশ্রুতি।
আঁকতে পারেন হৃষীকেশ নদীটি। চাঁপাফুলে আক্রান্ত পাহাড়। হ্রদের এলোজলে বসবেন দু’জনে। একখানা আকাশ ভাগ করে নেবেন, বৃষ্টির চুড়ি পরিয়ে দেবেন তাকে। বসন্তের ঝুড়ি বোঝাই বেলিফুলের ঘুড়ি। ঘ্রাণের তর্জমায় উড়ুক কূর্চিভোর, আদুরে বাতাসের সামিয়ানাকে অগ্রাহ্য করবেন না।  
আপনাদের ভুবন জুড়ে রাগ-সারং আর রাগ-বৃন্দাবন। নবঘনকান্ত। যেন যমুনা আর পুলিন। শ্রান্তমেঘের একান্তে শ্যামজ ঝর্না। মনে রাখবেন, যৌনতা সবরোদ নয়, সরোদও নয়।
আত্মার সাথে আত্মার ফিসফিস চিরকালের, এই বাস্তুতন্ত্র কিন্তু ক্ষণিকের ফুসফুস নয়। 
আপনার না লেখা পংক্তিগুলি তাঁরই শ্রীময়ী-ভাণ্ডার। বাদলদিনের একমাত্র কেয়াফুল যার কাছে হেরে বসে আছে পৃথিবীর তাবৎ কদম। 
লহমার তীর। হাত ধরুন তার। ভালবাসুন জড়োয়া তানপুরা, আশ্চর্য তারাময় মল্লারঘন ডাকনাম। আপনার কবজি থেকে মুছে যাক ব্যস্তঘড়ির হাতছানি। তাকে দিন এক ঝলক জামদানির দুষ্টুমি।
স্পর্শ করুন তাঁর খুনসুটির গহনা। লালপাড় হাসি। চোখের দর্পণ।
দুই প্রস্থ গৃহস্থ, এক আয়নায় হোক একাকার।
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.