| শিক্ষক গোবিন্দ ধর একজন সাহিত্য সাধক : সংগীতা দেওয়ানজি |
তেমন করে বলার কিছু আছে কী! প্রথম দেখার পরে অন্ততঃ তাই মনে হবে। এই সাদাসিধে মানুষটির ঋজুতা কে বুঝতে হলে যেতে হবে অনেকটা ই গভীরে । খুব সহজ ভাবে নিজের কথাটি উত্থাপন করলেও তার থেকে যে এতোটুকু সরে যাবেন না, তাও যেন তার বলার মধ্যে ই স্পষ্ট হবে যায়। আর তাই কোথাও গিয়ে এই অটল ব্যাক্তিত্ব ও মোহনার অভিমুখ খুঁজে চলা 'স্রোত' সমার্থক হয়ে ওঠে।
আমার সংগে প্রথম পরিচয় বোধহয় স্রোত প্রকাশনা'র ষ্টলে । সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে বহুবার আমার বাড়িতে ও এসেছে। এই প্রসঙ্গে একটি কথা না বললেন না, একবার আমাকে ফোনে বললো-'দিদি কাল কুমারঘাট যাওয়ার আগে আপনার সংগে দেখা করতে চাই'। আমি ৮,৩০ র পরে আসতে বললাম। তার আগে না। পরদিন ভোর তখন ৬ টা ও বাজলো, ফোন 'দিদি আমি গেটের সামনে দাড়িয়ে আছি।’
আমি ভাবতে ই পারছিলাম না একটা লোক এতো ভেরো এলো কী করে বা কেন! ! বিশেষত যেখানে সময়টা ও বলা ছিলো । পরে বুঝতে পেরেছিলাম , অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর ভাবনা, দুরূহ কে অতিক্রম করার, লক্ষে অবিচল থাকা, স্রোতের বিপরীতে থেকেও মোহনার অভিমুখ খুঁজে চলার অবিরাম চেষ্টা তার ব্রত।
ছোট্ট এই জীবনের চড়াই উৎরাই কে সাপ-লুডো খেলার মতো করে নিয়ে সে চলেছে। আর এই ছোটার সাথে সাথে ঝুলিতে ভরে নিয়েছে অনেক কিছু। একাধারে কবি, কথাকার, প্রকাশক, লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক। সংগ্রাহক, চৈতন্য ফকিরের ঝুলি ইতিমধ্যেই দেশ -বিদেশের বহু সম্মাননায় ভরে উঠেছে ।
বাংলাদেশের বহু পত্র পত্রিকায় তার লেখা কবিতা , গল্প, প্রবন্ধ নিয়মিত প্রকাশিত হয়। রাজ্য ও রাজ্যের বাইরের বহু জায়গা থেকে তার লেখা প্রকাশ হয় । আসলে খুব সহজ ভাষায় সাধারণ বিষয়কে অসাধারণ এক পরিমণ্ডলে ঢেলে সাজানোর ক্ষমতা তার সহজাত। সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপের একটি হলোনলিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা। সম্পাদনার কাজে ও সাবলীলতার ছাপ সুস্পষ্ট। একজন সুদক্ষ সংগঠক তো অবশ্যই। এ পর্যন্ত তার লেখা বইয়ের সংখ্যা একক ও সম্পাদিত ৫০টির মতো প্রায়।
![]() |
| শিক্ষক গোবিন্দ ধর |
ব্যাক্তি জীবনে শিক্ষকতার সংগে যুক্ত এই মানুষটির ব্রত হলো সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা। সমস্ত ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে তার এই নিরন্তর চলা আরো বেগবান হবে জানি। জীবন হোক তার স্বচ্ছতোয়া নদীজল । সাহিত্য সংস্কৃতি হোক মুখাবয়ব। এগিয়ে চলুক 'গোবিন্দ ধর ' ।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন