রবীন্দ্রনাথ কালপ্রবাহের মাইল স্টোন : তৈমুর খান

রবীন্দ্রনাথ কালপ্রবাহের মাইল স্টোন : তৈমুর খান
রবীন্দ্রনাথ কালপ্রবাহের মাইল স্টোন : তৈমুর খান


হে রবীন্দ্রনাথ, আমরা কেমন আছি তা আমরা নিজেও জানি না। তবু মনে হয় ভালো নেই। চারিদিকে রক্তখেলা প্রাণহানি, সন্ত্রাস, দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ কখনোই আমাদের স্থির হতে দিচ্ছে না। স্থির হয়ে দু’দণ্ড ভাবব তার সময় কই ?

 নিজের মুখোমুখি হতে ভয় পাই। আত্মিকসংকট এমনভাবে আমাদের জাতীয়সত্তাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে সেখানে আমরা বিচ্ছিন্ন শিকড়হীন এক-একটা অশ্রুদ্বীপের মতো। অখণ্ড মানব রচনার সাধনা আমাদের নেই। বেঁচে থাকার গ্লানিময় দিনপাত শুধু। নির্ঝরের পাশে দাঁড়িয়ে রবিকরের উষ্ণ ওম মেখে উত্তরণের আবেগদীপ্ত স্বপ্ন কোথায় পাব আমরা ? রাজনীতি, মৃত্যুনীতি, ধর্মনীতি এবং বিচ্ছিন্ননীতি পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেখানে শুভইচ্ছা, মহান দেশসেবা, কল্যাণের ব্রত বড়ো হাস্যকর মনে হয়। তোমার সৃষ্টিসম্ভার আমাদের কী প্রয়োজনে লাগে ? তুমি লিখেছ —

“স্বার্থমগ্ন যেজন বিমুখ বৃহৎ জগৎ হতে,

সে কখনো শেখেনি বাঁচিতে।

মহাবিশ্বজীবনের তরঙ্গেতে নাচিতে নাচিতে

নির্ভয়ে ছুটিতে হবে সত্যেরে করিয়া ধ্রুবতারা।”

আজ সত্যের সমস্ত ধ্রুবতারা আমরা স্বার্থের অন্ধকারে হারিয়ে ফেলেছি। আত্মকেন্দ্রিক জীবনচর্যায় আত্মসুখেরই সন্ধান আমাদের। মহাবিশ্বজীবন আজ আত্মবিশ্বজীবনে রূপান্তরিত। এরকম করে কি পৃথিবী চলে রবীন্দ্রনাথ ? তবু চলছে। সভ্যতা এগোচ্ছে। চন্দ্রযান, মঙ্গলযান তৈরি হচ্ছে।

     ক্লোনিং প্রাণ এবং সন্তান উৎপাদনে অন্যের গর্ভভাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। নারীমুক্তি, যৌনমুক্তি, শোষণমুক্তিরও নিত্যনতুন আইন হচ্ছে। সভ্যতা এগোচ্ছে এভাবেই। শিক্ষার অধিকার আইন, বাল্যবিবাহ রোধের আইন, ডাইনি হত্যা রোধের আইন, সংখ্যালঘু সংরক্ষণ আইন ইত্যাদি কত কত আইন সর্বদা মানবিক স্বার্থ রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু কী হাস্যকর যুগ দ্যাখো রবীন্দ্রনাথ, সব আইনই কাগজের কুমির হয়ে কাচের সমুদ্রে ঢেউ তুলছে। আহা, কী ঢেউ ! তোমাকে অস্বীকার করছি অথচ কাচের সমুদ্রে মানবিক ঢেউ দেখছি । নিজের দিনরাত্রি, অন্তর্জ্বালা, আত্মঘাতী কৈফিয়ত, আত্মঅবমাননা যে বেড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত তার প্রকাশও ঘটাচ্ছি। আর এসবই আজকের সাহিত্যের উপাদান।

   সভ্যতার অগ্রগতির হিসেব আমরা শুধু বস্তুরূপেই করি। ভোগবিলাসের বস্তু, বাড়ি-গাড়ি ইঁট-কাঠ যন্ত্রের আয়োজন কতখানি তার হিসেবেই সভ্যতার অগ্রগতির হিসেব করি। তারপর গ্রহ-উপগ্রহ অভিযান, যৌনবিলাস এর সঙ্গে যুক্ত হয়। বাইরে ঢাল হিসেবে বিরাজ করে মানবিক সংবিধান। এই সংবিধানের কোনও কার্যকরী ভূমিকা নেই, শুধু আইনগত মৌখিক সামাজিক এক সৌন্দর্য আছে মাত্র।

 যে দৈশিক বৈশ্বিক চেতনা বিশ্বকে এক মহামন্ত্রে দীক্ষিত করতে পারে, রবীন্দ্রনাথ সে স্বপ্নই দেখেছিলেন। বাঙালির রাখি পরাবার উৎসব ছিল তার প্রতীক মাত্র। বিশ্বমানবিক জীবনে পৌঁছানোর পথই তিনি আজীবন খুঁজেছিলেন। আমরা সেইপথ থেকে বিচ্যুত অথবা পথভ্রষ্টও। শুধু নিজেকে বাঁচার ক্ষুৎ পিপাসা থেকে সংকীর্ণ স্বার্থগন্ধী আত্মপথের সন্ধানেই আমরা পীড়িত এবং নিবিষ্ট। এই কারণেই রবীন্দ্রনাথকে বর্জন করি।

কেরিয়ার নিয়ে, প্রতিযোগিতা নিয়ে যান্ত্রিক পড়াশুনোয় ব্যস্ত হই। সহজিয়া ভাবের মরমিয়া পথে আমাদের হাঁটার সময় কোথায় ? মানবিক শব্দটাও আমাদের কাছে অচ্ছুত এখন। হিংসাশ্রয়ী পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব পশুত্বের থেকেও নিঃস্ব ও নিম্নগামী। তাই বঞ্চনা ও কৌশল তার অস্ত্র। এই অস্ত্র পারিবারিক থেকে সামাজিক ও রাষ্ট্রিক সকল ক্ষেত্রেই তার “অদ্ভুত ক্রিয়া”  সচল রাখে। এই উদগ্র রক্তপিপাসু ধর্মান্ধ সম্প্রদায়ান্ধ মানুষের মাঝে সুচিন্তক সত্য অন্বেষণকারী রবীন্দ্রনাথের কী মর্যাদা থাকে আর ? পরিণতি তাইতো নতুন যুগের।

প্রেম হন্তারক নষ্ট স্বপ্নের হাহাকারে পর্যবেসিত মানুষ তার মানবিক সংজ্ঞাও পাল্টে নেয় । ব্যক্তিচরিতার্থের ছোট্টপৃথিবী তা নির্দয় নিষ্ঠুর হলেও রবীন্দ্রনাথ তার ভেতরেও মানবিক জ্যোতি দেখেছিলেন নবজীবনের প্রত্যয় বিমুগ্ধ প্রভাতে । জীর্ণ আবেশ কেটে সমস্ত স্বার্থবন্ধনের মুক্তি আকাঙ্ক্ষাও করেছিলেন। তাই “গীতাঞ্জলি”তে লিখেছেন —

  “এসো দুঃসহ, এসো এসো নির্দয়

                                    তোমারই হউক জয়

এসো নির্মল, এসো এসো নির্ভয়

                                   তোমারই হউক জয়।”

আমাদের প্রতিটি দুঃখযাত্রা, প্রেমহীনতা, দৈন্য যে আত্মিকসংকট রচনা করে চলেছে, সেই সংকটের দুর্বার নিঃস্বতাই আমরা রবীন্দ্রনাথকেও অস্বীকার করে চলেছি। দৈন্যের প্রতিটি পীড়নে মানবিক শিক্ষার ও মানবিক অনুশীলনের পৃথিবী ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে।

অবিশ্বাস, সংশয়বাদী চেতনা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিচ্ছিন্নতার দুর্মর গ্রাস সর্বদা আমাদের পীড়িত করছে। আমাদের অবিচ্ছিন্ন এক হৃদয় আছে, সহৃদয় হৃদয়সংবাদী আবেদন আছে এবং মানবিক সম্পর্কের আদিম টান আছে তা অস্বীকার করছি। এই অস্বীকার যে সত্য নয়।

রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথের সত্য অন্বেষণ যে মিথ্যা নয় তাও আমাদের কাছে বিদিত। একটা যুগপ্রেক্ষিতে, ভাষার অনির্বচনীয় ক্ষমতা রপ্ত করাতে এবং দর্শনহীন গড্ডালিকা জীবনের মোহে আমরা আপ্লুত। তাই ঐতিহ্য ও ইতিহাসকেও এভাবে আমাদের জীবন থেকে বাদ দিতে চাই। নতুনকে আহ্বান করি। কিন্তু কোনটা নতুন, কোনটা প্রাচীন এ বোধও আমাদের নেই। আদিম প্রবৃত্তিকে ধারণ করেই আমাদের জীবনযাত্রা। কোথাও তার সাংকেতিক ভাষা, কোথাও রূপক। কোথাও শুধু শূন্যতার গর্জন। প্রবহমান গতির সময়যাত্রা, স্মৃতিসত্তার পদধ্বনি তো সর্বযুগেই তাকে ধারণ করে অগ্রসর হয়।

এই গতিযাত্রায় রবীন্দ্রনাথ আমাদের মানসিক উৎকর্ষ বাড়িয়ে দিয়েছেন। অস্বীকার করার বোধ বা স্পৃহাকেও সক্রিয় করে দিয়েছেন। ব্যক্তি ও নৈর্ব্যক্তিকের তফাতটুকুও আমরা তাঁর কারণেই অনুধাবন করতে পারি। আত্মিকসংকট কতখানি দুর্মর এবং মানবিক অন্তরায় আমাদের অন্তঃসারশূন্য স্বপ্নবিহ্বল জীবনে তাও বুঝতে পারি। সুতরাং সভ্যতাযাত্রায় রবীন্দ্রনাথ একটি মাইল স্টোনও। “পোস্টমাস্টার”  ছোটগল্পে একটি অদ্ভুত মননবিক্রিয়া দেখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। শহরের ছেলে পোস্টমাস্টার গ্রামের অনাথ মেয়ে রতনকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। রতন প্রকৃতির নীরব নিরুচ্চার প্রেমের বাঁধনের মতো। পোস্টমাস্টার শহরের যান্ত্রিক জীবনের অভ্যাসে গড়ে ওঠা পুরুষ।

জলস্রোত ডিঙিয়ে নদী পেরিয়ে সে চলে যাচ্ছে….. “হৃদয়ের মধ্যে অত্যন্ত একটা বেদনা অনুভব করিতে লাগিলেন — একটি সামান্য গ্রাম্য বালিকার করুণ মুখচ্ছবি যেন এক বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অব্যক্ত মর্মব্যথা প্রকাশ করিতে লাগিল। একবার নিতান্ত ইচ্ছা হইল, ‘ফিরিয়া যাই জগতের ক্রোড় বিচ্যুত সেই অনাথিনীকে সঙ্গে করিয়া লইয়া আসিʼ — কিন্তু তখন পালে বাতাস পাইয়াছে, বর্ষার স্রোত খরতর বেগে বহিতেছে, গ্রাম অতিক্রম করিয়া নদীকূলের শ্মশান দেখা দিয়াছে এবং নদীপ্রবাহে ভাসমান পথিকের উদাস হৃদয়ে এই তত্ত্বের উদয় হইল জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।” প্রেম তো এভাবেই মরে যায়। বিচ্ছেদ, মৃত্যু যেমন দূরে ঠেলে দেয় তেমনি ভুলিয়েও দেয়। কিন্তু মনে একদিন, একটুক্ষণ মোচড় দিয়ে গেল যে অনুভূতি তা সত্য।

এই সত্যের কোনও বিকল্প পৃথিবীতে তৈরি হয়নি আজও। সাধারণত ব্যক্তিহৃদয় থেকেই আসে স্নেহ, করুণা ও ভালবাসা। এসবকে তো অস্বীকার করা যায় না। আর এইসব থেকেই তৈরি হয় মানবিক পৃথিবী। যে পৃথিবীতে আমরা ঘরবাঁধি। স্বপ্ন দেখি। কিন্তু প্রতিনিয়ত আমরাও যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে প্রবেশ করছি। অর্থ সম্পদ — বিজ্ঞান বস্তুপুঞ্জের ভিড়ে আমাদের হৃদয়ও প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে। হৃদয়বৃত্তির স্থান দখল করছে মেধাবৃত্তি বা বুদ্ধিবৃত্তি। আমাদের রতন নির্বাসিত হচ্ছে। তার অশ্রু, তার কাতরতা, তার হাহাকার, তার বিরহ আমরা দেখেও দেখি না। পৃথিবীতে কে কার ? আমাদের প্রতিযোগিতার দৌড়ে রবীন্দ্রনাথকে ভুলে যাই ঠিকই, কিন্তু একটু আশা, একটু বাসা, একটু ভালবাসার জন্য আমাদের রবীন্দ্রনাথেই ছুটে আসতে হয়।

       এই রক্ত, এই ঘোর অন্ধকারযুগের রাত্রি, এই বিনাশ আমরা কি আদৌ চাই? আমরা হন্তারক নই, সবাই মানবতার সৈনিক হতে চাই। নিজেকে যখন অন্যের ভেতর, এবং অন্যকে যখন নিজের ভেতর ভাবতে পারব তখনই এই সৈনিকজীবন ধন্য হবে। রবীন্দ্রআদর্শে যদি সে শিক্ষা, সে দীক্ষা না থাকে তাহলে আমাদের ব্যক্তিসত্তারও পূর্ণতাপ্রাপ্ত হওয়া সম্ভব নয়। ১৩৭৯ বঙ্গাব্দে লেখা “আমার স্বপ্ন” কাব্যের “রক্তমাখা সিঁড়ি” কবিতায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন —

“চাইনি এমন ঘোর কালবেলা, অসহিষ্ণু অবিশ্বাস ঘৃণা হৃৎপিণ্ডে অন্ধকার

                    কণ্ঠরুদ্ধ দিনরাত্রে এত হিংসা বিষ

প্রদীপ জ্বালার চেয়ে অগ্নিকাণ্ডে মুখ দেখাদেখি

চাইনি শ্মশান-শান্তি,

                       চাইনি পিচ্ছিল গলিঘুঁজি

সবাই পথিক তবু কে কোথায় যাবে ভুলে পথে মারামারি

                        চাইনি অস্ত্রের রোষ,”

সমস্তটাই মানবিকতার উচ্চারণ ।  কবিতার শেষ পংক্তিটি আরও দৃঢ় “রক্তমাখা নোংরা এই সিঁড়ি দিয়ে আমি কোনো স্বর্গে যাবো না।।”  প্রতিটি মানবজন্মের এই উচ্চারণই হওয়া উচিত। পৃথিবীকে যেমন বাসযোগ্য করার দায়িত্ব প্রতিটি মানুষের, তেমনি মানুষকে ভালবাসার চেয়ে বড়ো কোনও ধর্ম পালন করাও উচিত নয়। রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন ধরে এই মেসেজই আমাদের দিয়ে গেছেন।

আজ তাঁর প্রাসঙ্গিকতা শেষ হয়ে গেছে, রবীন্দ্র না পড়লেও কিছুই যায় আসে না —  এসব কথাবার্তার বহু যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু আমরা যারা যতদিন মন ও হৃদয় নিয়ে বাঁচতে চাই, ভালবাসতে চাই, কোনও আলোক সত্যের পানে অগ্রসর হতে চাই, তারা মডার্ন কিংবা পোস্টমডার্ন হয়েও রবীন্দ্রনাথকে গ্রহণ করব, অথবা নতুন পথসন্ধান করব। “ডাকঘর” নাটকে প্রহরী ও অমলের সংলাপে উঠে আসে এই পোস্টমডার্ন বা কালপ্রবাহের চিন্তনটুকুর ইংগিত —

“প্রহরী। ঘণ্টা এই সবাইকে বলে, সময় বসে নেই, কেবলই চলে যাচ্ছে।

অমল। কোথায় চলে যাচ্ছে? কোন্ দেশে?

প্রহরী। সেকথা কেউ জানে না।

অমল। সেদেশ বুঝি কেউ দেখে আসেনি ? আমার ভারি ইচ্ছে করছে ঐ সময়ের সঙ্গে চলে যাই — যে দেশের কথা কেউ জানে না সে অনেক দূরে।”

“ঐ সময়ের সঙ্গে চলে যাওয়া”  মনের ইচ্ছেটাই আদিম উৎসে ফিরে যাওয়ার নামান্তর। অমলের আত্মা সমূহ মানবাত্মার প্রতীক। যে আত্মা মুক্তি চায়, সে আত্মা সর্বত্রগামীও হতে চায়। স্থান কাল ব্যক্তি ভেদে তার বিস্তার হবার বাসনাই তো পোস্টমডার্ন ধারণার পর্যায়ে চলে যায়। আবার স্বপ্নচারিতাও তার আছে। “রাজার চিঠি”  পাবার বাসনাও আছে।

 কী বিচিত্র বাস্তব অধিবাস্তবে চলাচল, আবার বধির নিরক্ষর উপলব্ধিও। অর্থাৎ রাজার চিঠি না পাওয়ার ধারণায় অনুপম সৃষ্টি রহস্যে ব্যাখ্যাহীন পর্যাপ্ত নীরবতা রবীন্দ্রনাথ প্রতিটি সংলাপে গেঁথে দেওয়ার প্রয়াস পেয়েছেন এই নাটকে। সুতরাং অমলের মতো আমাদের ভগ্ন, বন্দি সত্তার হাহাকার অনুক্ত জীবনেরই মর্মসোপানে পৌঁছে দেয়। তখনই মনে হয় কোনও সৃষ্টিই প্রাসঙ্গিকতা হারায় না। ভাষা পাল্টায়, প্রতীক পাল্টায়, চিত্রকল্প পাল্টায় ; গুহা হয় অট্টালিকা, পাথর হয় পিস্তল, আদিমতা বা হিংস্রতা কৌশল পাল্টায়, নগ্নতার বদলে মসৃণ পোশাকে শরীর সুন্দর হয়ে ওঠে । 

মেজাজ-মানসিকতায় মেট্রোপলিটন শহুরে গন্ধ বিরাজ করে। চিৎকারের স্থান দখল করে মোবাইল রিংটোন্, কিন্তু আমরা হৃদয় পাল্টাতে পারি না। ভালবাসা পাল্টাতে পারি না। রাত্রি পাল্টাতে পারি না। আমাদের অপ্রকাশ ও প্রকাশ সবই সভ্যতার অঙ্গ। আমাদের লেখা না-লেখাও।

 আমরা রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকি। সময় আমাদের ছবি তুলে নেয়। আমরা মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ঈশ্বর গুপ্তের কাছেও দাঁড়িয়ে থাকি। সময় এসে ছবি তুলে নেয়। আমরা চণ্ডী দাসের, জ্ঞান দাসের পাশেও দাঁড়িয়ে থাকি। সময় এসে ফটো তুলে নেয়। অমলের মতো আমাদেরও ভারি ইচ্ছে “ঐ সময়ের সঙ্গে চলে যাই।”
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.