গত দুদিন ধরে তোর নতুন বইটা (নির্বাচিত শূন্য) নিয়ে পড়ে আছি। আসলে বাংলাদেশ ঘুরে এসে একটু অলসতাও কাজ করছে। তাই কিছুটা ধীরে সুস্থে। একটা পত্রিকা পড়লাম। চৌকাঠ। ওঁদের জানালামও। তারপরই তোর বইটা। তোকে নিয়ে সবদিক দিয়েই খুব গর্ব অনুভব করি মনে মনে। তাই তোর বই পড়তে গিয়ে একটু সাবধান হতে হয় আমাকে। পাঠক হতে হয়। যদিও যেদিন বইটা তুই আমাকে দিয়েছিলি, সেদিন রাতেই তোর গড়ে ওঠার গদ্যটা পড়ে ফেলেছিলাম খুব দ্রুত। আসলে দেখতে চাইছিলাম, নিজের দেখায় নিজের ভাবনায় নিজের গড়ে ওঠার কাহিনিটা। জানতে চাইছিলাম। আবার এবারও বইয়ের গদ্যটাই, কিছু কবিতা সহ, আগে পড়লাম। তোর খোঁজ, তোর সাধারণের চেয়ে ভিন্ন ভাবনা, বাড়ির পরিবেশ, বন্ধু কৃষ্ণেন্দু, যৌথ যাত্রা, কবিতা আবৃত্তি, কবিতার প্রতি একটা টান অনুভব, কবিতা নিয়ে পড়াশুনা, একটু বীতস্পৃহ ভাব, কী লিখব, প্রথম থেকেই নিজের কবিতা নিজের মতো করে লিখব, অন্তত এটুকু ভাবনা, সঙ্গীতের প্রতি টান, বিশেষত রবীন্দ্রসংগীত আর পীযূষ কান্তি সরকার, তোর অর্কুট যুগ, ওয়েব বা ব্লগ পত্রিকা-যোগাযোগ, তারপর ২০১০ সাল প্রথম কবিতার বই, ১১ দ্বিতীয়, বিশেষ তেমন কারও সঙ্গেই পরিচয় নেই, নিজেরা নিজেরাই, একেকটি ধাপ পেরোনো, নিজেকে কবিতার প্রতি মগ্ন করা, বারীন দার সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি হওয়া, পসিবিলিটি ও টিসিবিলিপ, একটা মাৎ করে দেওয়া কাজ, একসময় আমাদের বেশ কিছুজনের সঙ্গে তোর পরিচয়, মতের ভাবনার আদান-প্রদান, বৃদ্ধ থেকে তরুণতমের সঙ্গে আলাপ পরিচয় আর আড্ডা। একে একে উটবিকার, ৯ আঁকা ০, আনুপাহাড়ের জলছবি, ঝরাপাখির চেকমেট, একেকটা পর্ব, একেকটা দশা, একেকটা করে ভ্রমণ জারি রাখার প্রতিশ্রুতি। এসবই এই গদ্যে উপজীব্য। গদ্যে তোর ভঙ্গিটি ভালো লাগার মতো। নিজেই ছোটো ছোটো করে প্রসঙ্গ উত্থাপন, নিজেই সেই প্রসঙ্গে বলা। আবার কখনো প্রশ্নাকারে তোলা, শিল্প ও কবিতাভাবনার দিকগুলো, নিজেকেই নিজের উত্তর দেওয়া। অনেকটা যেন গপ্পোচ্ছলে বলা, অনেকটা নিজের সঙ্গে নিজেরই আড্ডা। জমাটি। দাঁড়িয়ে পড়তে হয় না, থমকে যেতে হয় না, এমনই এক সুষম মালা। তাই গদ্যের নাম হয় ‘আমাকে আমি’। তোর গদ্য বেশ টানটান আর প্রত্যক্ষত, কোনো ঘুরিয়ে বলা নেই, অনেকটা সরাসরি। গদ্যের এই শৈলী আমার বেশ পছন্দের, নিজে লিখিও সেইভাবে। ফলে সুযোগ ঘটল স্যালুট জানিয়ে রাখার।
বইয়ের প্রথমে রাখা কবিতাগুলোও পড়লাম। তোর কবিতার সব বইগুলোই আমার পড়া। একে একে তোর সবগুলো ধাপ, তোর ছোটোখাটো বাঁক, বড়ো বাঁক সবই আমার চোখে ও মননে ভেসে উঠছে। এখানে তারই এক্সটেন্ডেড রূপ, যেখানে তোকে চেনা যায়, আবার পরিবর্তণগুলোও আলোকিত করে। এই মডেলে যতটুকু যা লক্ষ্য করলাম শব্দ ও ধ্বনি নিয়ে যে কারবার তার চেয়েও প্রাধান্য বেশি পাচ্ছে ভাবনা আর তার বিস্তার। আবার ধ্বনিখেলাগুলো যে কর্পুর হয়েছে তা বলা যাবে না। একটা সমন্বয়ের বাতাবরণ রয়েছে। অনেক বেশি করে এসেছে নিজস্ব পরিমণ্ডল, ফলে সমাজ মানুষ আর তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, এমনকি রাজনীতিও এসেছে পায়ে পায়ে। এখানে নতুনতর শব্দটি আমি ব্যবহার করব না। কারণ আমার মতে নতুনতর বলে কিছু হয় না। সবই নতুন, একের চেয়ে অন্য ধরণের নতুন। এই সিম্ফনি তোর কবিতায় আমি ‘ঝরাপাখিদের চেকমেট’ থেকেই লক্ষ্য করেছি। আজ আর নয়। তোর কবিতা নিয়ে কোনোদিন হয়তো কিছু কথা বলব নিজের মতো করে। বলতে পারলে নিজে খুশিই হব। কেননা তোর কবিতা পড়ে খুশি হই, ঋদ্ধ হই। এই বই নিয়ে এই-ই আমার প্রাথমিক সামান্যটুকু। ভালো থাকিস।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন