![]() |
| বিমান পাত্র |
যতদিন বহিবে নিশ্বাস
প্রাণের স্পন্দন রবে বুকে,
ততদিন হৃদয় আমার
হে কবি তোমার লাগি নিরবে কাঁদিবে।
হায় বৃথা তব বিশ্বের সম্মান
বৃথা তব কাব্যের সম্ভার,
যে রবি উদিয়াছিল তোমার জীবনে
আজ বুঝি অস্ত গিয়ে করিল আঁধার।
তোমার কবিতা আজ পুরানোর দলে
বলে তারা ভাব তার হয়েছে মলিন,
আজিকার নতুন কবি যত
আধুনিক কবিতার ভাবেতে বিলীন।
যতবার পড়িয়াছে তোমার কবিতা
তব গল্পের ভাণ্ডার,
ততবার পুরাতন আখ্যা দিয়ে
উপহাস হইয়াছে তার।
ওরা রেখেছে করুণা করি
কিছু ছবি কিছু তব গান,
শুধু এই প্রাপ্তি রহিয়াছে তব
এই শুধু রয়ে গেছে তোমার সম্মান।
দেশময় পাঠাগারে—
কত ছবি কত পাঠ্য নিত্য বহি আনে,
নতুন এসেছে পাঠ্য পুরাতন হায়
শীর্ণ হয়ে হারিয়েছে ২২শে শ্রাবণে।
অথচ সে পুরাতন জাতীয় সংগীত
পুরাতন গান ঘরে ঘরে,
প্রতিবেশী সেও তোমার সংগীতে
জাতীয়তা রাখিয়াছে ধরে।
এরা বলে পুরানোর দিন আজ শেষ
নতুনের কত আড়ম্বর,
আপনার পরিচয়ে বলে
যে দেশে ‘রবীর’ জন্ম সেই মোর ঘর।
আজ ভাবেতে কবিতা লিখে কবি
মনন গভীরে নাহি যায়,
গান নাহি ধরে হৃদয়েতে
তবু বলে ‘রবী’ আজ উদিত কোথায়।
ধিক্ ধিক্ শত ধিক্ তোরে
ওরে অকৃতজ্ঞ জাতি,
কারে আজ বসাও আসনে
কার লাগি হৃদাসন রাখিয়াছ পাতি ?
প্রবেশিয়া সৃষ্টির অনন্ত গভীরে
সাহিত্য মুক্তায় ভরি করিলে প্রকাশ,
বাঁচিবারে চেয়েছিলে জীবন্ত হৃদয়ে
মানবের কাছে তব এই ছিল আশ।
হে কবি—
যদি কোথা হতে কোনো বাণী শুনি কোনোদিন
যদি স্বপ্নেও তব দেখা পাই,
যদি সেই বাণী সেই দেখা ভ্রান্তি হয় মোর
তবু সেই ভ্রান্তি হার গলে নিতে চাই।
যদি একটি পঙক্তি মোর পায় কোনোমতে
সে সাহিত্যে করে নিতে স্থান
যদি দোষী হয় অনুসারী হয়ে না পায় প্রকাশ
তবে পান্ডুলিপি মোর
হে কবি চরণে তোমার করে যাব দান।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন