বীজ : ঋদেনদিক মিত্রো

ঋদেনদিক মিত্রো 

বীজ   

ঋদেনদিক মিত্রো 

তুমিই নাকি গাছ, 
একদিন তো বীজের রূপে 
পড়ে ছিলে ধুলায় চুপে, 
অবহেলার কঠিন দুখে... 
পরনে নেই সাজ, 
কখনো বা মাটির গভীর 
একা থেকে বোবা,  বধির, 
তুললে মাথা হঠাৎ করে, 
দেখতে পেলাম আজ, 
তুমিই নাকি গাছ !

সেই বীজ আজ মহীরুহ, 
ভেদ করেছো পাতাল ব্যূহ, 
নীরবতায় কতো ভাষা, 
ক্ষমতা আর ভালোবাসা, 
ধৈর্য দিয়ে 
সাহস নিয়ে 
জয় করা যায়  সকল বাধা,
কালকের  বীজ,  আজকে মহীরুহ ! 

হে বীজ তুমি যেথায় থাকো...
মাটি,  পাহাড়,  খাদে, 
কিংবা থাকো জলে ভেসে 
যে কোনোও ভাবে, 
কিংবা আছো পথের ধুলায়, 
মানুষ তাতে পা ফেলে যায়, 
কী বয়ে যায় তাতে, 
বীজের ধর্ম বৃক্ষ হওয়া, 
কোনো ভাবেই যায়না খওয়া,
কোনোও  আঘাতে ! 

শান বাঁধানো ঘাটের ভিতর 
গোপন ইটের খাঁজে, 
কিংবা কোনো দেওয়াল, প্রাচীর, 
কোথাও  গোপন ভাবে... 
থাকলে ঢুকে কংক্রিটেরই 
ভিতর কোথাও চুপ, 
চুপিচুপি বের করে দাও 
তোমার আসল রূপ, 
একটু-একটু করে, 
কেউ বা তখন ছিঁড়ে দিলো, 
কিংবা কাটে ধ'রে !
 
তুমি আবার মাথা তোলো, 
বেপরোয়া রূপে, 
সকল বাধা, আঘাত সয়েও 
আবার সেজে উঠে 
কখনো হও লতা গুল্ম, 
কখনো  হও গাছ, 
পাখপাখালি তোমার ভিতর
করতে থাকে নাচ! .
সবুজ হয়ে মাটি সাজাও 
যখন তুমি ঘাস! 

হে বীজ, তুমি অন্ধকারে 
বন্দী হয়ে থাকলে তুমি
                কোথাও  একা, 
ক্ষণিক ভ্যাবাচেকা,
চারিদিকে স্তব্ধ ঘন কালো,   
কণ্ঠ খুলে বলো হঠাৎ ---
     আলো  কোথায়,  আলো ! 

আলো তখন বাইরে থেকে 
হাঁক দিয়ে সে বলে ডেকে --- 
আয় বেরিয়ে ওরে ও বীজ, 
 থাকুক যতই তোকে ঘিরে গাঢ় অন্ধকার, 
আলোকে যে ডাকতে পারে
    যায় খুলে তার সকল বন্ধ দ্বার !

ভয় কী রে বীজ,  কাঁদিস কেনো, 
     কালকে হবি গাছ, 
বাতাস এসে বন্ধু হয়ে, করবে কেমন নাচ, 
সেটাই হবে ঝড়, সেটাই হবে ভয়, 
আজকের  তুই  তুচ্ছ যে-বীজ... 
      কালকে আনিস  জয় !! 

মৃত্যু-পরেও তুই হোস আগুন
          মানুষ জ্বালানি করে, 
কিংবা থাকিস স্নানের ঘাটে, 
         অনেক স্মৃতি ধ'রে, 
কিংবা কোনো এলিয়ে পড়া 
 দেওয়ালেতে ঠেকিয়ে ধরা
         কাজে মানুষ লাগায়, 
আবার তারা তোকে দিয়ে 
        বাড়ি,  সেতু  বানায় ! 
মৃত্যু ব'লে তোর কিছু নেই, 
        সকল রূপেই গ্রাহ্য, 
একটি বীজ,  তুচ্ছ কত, 
        বিশ্ব জুড়ে কার্য্য !
        প্রাণীরও আহার্য্য !
যৌবনেরই চিরন্তনে  সকল সময় তাজা,
         দিলদার এক রাজা,
যখন তোকে ঘিরে ধরে অন্ধকারের কালো, 
এমনি তখন হাঁক দিয়ে যাস:-
 আলো কোথায়,  আলো ! 

আবার তুই অমাবস্যাতে---
খেলতে থাকিস নিশার সাথে,
   সঙ্গে থাকে হাওয়া, 
জোৎস্না এলে রূপকথাতে 
    তখন মিশে যাওয়া !
কত না কীট,  তোর ভিতরে, 
খেলতে থাকে চুপটি করে, 
পাখির বাসা তোর-ই  ভিতর, 
ফড়িং খেলে রোমাঞ্চকর, 
তুই ঘাস হলে তোরই ওপর, 
      প্রাণীরা শোয়,  হাঁটে,,
বৃক্ষ হলে তারাই বসে
     ছায়ায় --- তোর তলাতে !
    
মজে নানা অনুভবের রসে, 
তারা শোয় ও বসে !
তোকে নিয়ে অস্ত্র বানায় 
     আত্ম-রক্ষা কাজে,
সভ্যতাকে ধরে রাখিস
     কতরকম ভাবে !
তোর থেকে তো মানুষেরই
     সকল জ্ঞানের শিক্ষ, 
     বীজ থেকে হয় বৃক্ষ !
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.