![]() |
| আজব সব গল্পের কথা : মৃদুল শ্রীমানী |
অদ্ভুত রত্নাকর সভার প্রধান পণ্ডিত বাচস্পতি মশায়ের কথা পড়েছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কলমে। সেখানে নায়িকা নায়ককে বলছিল, দিন রাত তোমার ঐ হিদ হিদ হিদিক্কারে আমার পাঁজঞ্জুরিতে তিড়িতঙ্ক লাগে। মুখবুদবুদী শব্দের পসরা মেলে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওই বাচস্পতি গল্পে। সেখানে তিনি ফিরিচুঞ্চুসের একেবারে চিকচাকস আমদানি করেছেন। বাচস্পতি গল্পে একটি ছেলের বুঝকিন গোড়া থেকেই ছিল বুঝভুম্বুল গোছের। লেখকের হাতে তার খাসা নাম হল - বিচকুমকুর।
গল্পে রাজাউজির না মেরে ক্রেঙ্কটাকৃষ্ট ত্বরিৎত্রমান্ত পর্যুগাসন উত্থ্রংসিত নিরংকরালের সহিত যে গল্প ফাঁদেন বাচস্পতি মশায়, যেভাবে লোকটাকে সমুসদগারিত করে দেন, দেখে শুনে ছোটোলাট একেবারে টরেটম বনে গিয়েছিলেন।
অদ্ভুত রসের খেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় বাঘ সাজুনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সাফসুতরো হবে বলে গ্লিসারিন সোপ দাবি করেছে।
নজরুল ইসলামের কবিতায় পেয়েছি "অ মা, তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং, খাঁদা নাকে নাচছে ন্যাদা নাক ড্যাঙাড্যাঙড্যাং..."
তবু বাংলা সাহিত্যের সেরা ননসেন্স হিউমার পেশ করেছেন সুকুমার রায়। মাসি গো মাসি পাচ্ছে হাসি বলতে বলতে ছড়া কবিতা বলার তালিম পেয়েছি আমি। কুমড়ো দিয়ে ক্রিকেট খেলে কেন রাজার পিসি... ভাবতে গিয়ে ফেলছি হেসে ফ্যাক করে।
বিশ্ব সাহিত্যে লুই ক্যারল ননসেন্স হিউমার পরিবেশন করতে সর্বাগ্রগণ্য। ম্যাড হ্যাটার, হোয়াইট র্যাবিট, চেশায়ার ক্যাট, কুয়ীন অফ হার্টস, ক্যাটারপিলারকে নিয়ে আজব দেশে অ্যালিসের অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে যে গল্প ফাঁদেন লুই ক্যারল, তার তুলনা মেলা ভার।
চার্লস লুটউইজ ডজসন ( ২৭. ১. ১৮৩২ - ১৪.১. ১৮৯৮ ) লুই ক্যারল ছদ্মনামে লিখেছেন অ্যালিসেস অ্যাডভেঞ্চার ইন ওয়ান্ডার ল্যাণ্ড । শব্দ নিয়ে কারুবাসনা, লজিক আর ফ্যান্টাসিতে তিনি অমোঘ। একাধারে কবি ও কৃতী গণিতবিদ লুই ক্যারল ১৮৬২ সালে তেরোই নভেম্বরে, অ্যালিসের অপরূপকথা লিখতে শুরু করেন।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন