সোমলতার বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই থেকে আলাপ। বিয়ের দিন তার মাকে দেখলাম আর দেখলাম তার ছোড়দিদাকে। তিনি বেশ সুন্দর সেজেছিলেন। সোনার চশমায় , রাশভারী প্রবীণাকে ভালো দেখাচ্ছিল। জানতাম সোমলতা কলেজে পড়ায়। কমপিউটার। তার পর জানলাম সোমলতার ছোড়দিদাও বিজ্ঞানের শিক্ষিকা ছিলেন। সেদিন জানলাম তার বাড়ির অনেকেই বিজ্ঞানের শিক্ষিকা। সোমলতার বিয়েতে গিয়েছিলাম, আবার বিবাহ বিচ্ছেদের প্রসঙ্গটাও শুনতে হল মাস তিন চারেকের মাথায়।
মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে বললাম, কেন সোমলতা ?
সৌম্যের রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না। আরও কি কি রোগ আছে ।
জানতে চাইলাম, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করাও নি তোমাদের ?
সোমলতা মাথা নিচু করে বলে, মনে ছিল না।
সৌম্যের চাকরিটা পাকা নয়। খুব দুর্বল চুক্তিতে ভারি নড়বড়ে অবস্থানে কাজ করে। জানতে চাইলাম - বিয়ের আগে পাত্রের ইনকাম ট্যাক্সের রিটার্ন দেখতে চাও নি সোমলতা ?
সোমলতা মাথা নিচু করে বলে মনে ছিল না।
একদিন সে ফোন করে বলল - ছোড়দিদার খুব অসুখ । কোমায় চলে গিয়েছেন ।
বলা গেল - মন শক্ত করো সোম , মানুষ চিরকাল থাকে না। তাকে যেতে হয় । যেতে দিতেও হয় ।
আর এই সেদিন সে মেসেজ করে বলল - ছোড়দিদা চলে গেলেন , আমরা এখন "বডি" নিয়ে শ্মশানে ...
আমি একদিন জানতে চাইলাম, সোম, তোমার ছোড়দিদার কে কে আছে?
একটাই ছেলে । সে আবার ভিস্যুয়ালি হ্যাণ্ডিক্যাপড ।
দেখতে পান?
সোমলতা বলল - হ্যাঁ , পান , খুব সামান্য । তাও কমে আসছে।
তাই?
হ্যাঁ , সোমলতা বলল।
আমি পরে বললাম, তোমার ছোড়দিদা বিজ্ঞানের শিক্ষিকা ছিলেন । তুমিও তাই । তোমার বাড়ির অনেকেই তাই । তুমি ছোড়দিদার চোখটা কাজে লাগানোর কথা ভেবেছিলে? মরণোত্তর দেহদানের কথা ভেবেছিলে?
সোমলতা মাথা নিচু করে বলে, মনে ছিল না।
সোমলতার কিছু মনে পড়েনা সময় মতোন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন