শেষ যাত্রা : ঈদারুল ইসলাম

 শেষ যাত্রা : ঈদারুল ইসলাম
 শেষ যাত্রা : ঈদারুল ইসলাম


বিয়ের পর অনেকদিন হয়ে গেছে কামনা বাবা-মা কে দেখে নি। সেই কবে দেখেছে মনে নেই ; কতদিন বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠেনি ! বাড়িতে কে কেমন আছে ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে তার। বাবা-মায়ের একমাত্র আদুরে মেয়ে কামনা এখন আর আগের মতো একটুতেই কাঁদে না। তাঁদের সেই ছোট্ট খুকি আজ অনেক বড় হয়েছে। সারাদিন এতো বেশি পরিশ্রান্ত থাকে যে, রাতে আর ফোন করা হয়ে ওঠে না। রান্নাবান্না, ঘরের কাজ সবই করতে শিখেছে; একাই সব সামলে নিয়ে যেটুকু সময় পায় একটু জিরিয়ে নিয়েই আবার কাজে লেগে যাওয়া। এদিকে স্বামী অর্ণব রোজই অফিস থেকে মদ্যপ অবস্থায় গভীর রাতে বাড়ি ফিরেই শুরু করে দেয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। কথা বলবার বা একা কোথাও যাওয়ার স্বাধীনতা টুকুও কামনার নেই। ছুটির দিনগুলোতে বন্ধুদের আড্ডায় তাকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেটা ঠিক আড্ডা নয়, নেশায় মত্ত হয়ে একে অপরের সাথে ঢলাঢলি করা !

দিনে দিনে এই মদ্যপ পার্টির সাথে সাথে শারীরিকভাবে অত্যাচারের মাত্রাও বেড়ে যায়। ক্রমশঃ কামনার জীবনে আঁধার ঘনিয়ে আসতে থাকে। অর্ণব আজকাল আর মদ্যপ অবস্থায় ঘরে ফেরে না, বরং আরও অনেক কিছুই করে; বাড়িতে জানালে সবাই কষ্ট পাবে বলে কোনোদিন বলে নি। রোজ রাতে বাড়িতেই মদ্যপ বন্ধুদের নিয়ে মদের আসর বসায় আর কামনাকেই ওদের গ্লাস সাজিয়ে পরিবেশন করতে হয়। একটু কম বেশি হতেই অর্ণব লাথি মেরে ফেলে দেয়, কখনও বা লোহার রড দিয়েও আঘাত করে !

রোজই প্রায় গভীর রাত জেগে ওই মদ্যপ পশুদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে হয় তাকে ! ওরা সবাই মিলে মধ্যরাত পর্যন্ত কামনার শরীরের সাথে অমানবিক অত্যাচার চালায় ! উফফফ কি অসহ্য যন্ত্রণা, কি অমানবিক নির্যাতন ! মাসের ওই বিশেষ দিন গুলোতেও ওরা ছেড়ে কথা বলে না। লজ্জায়-অপমানে এবং অসহ্য যন্ত্রণায় তার জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আর ব্যথা সহ্য হচ্ছে না, একটু পরেই আবার ওই পশুগুলো শুরু করে দেবে !  সহ্য করতে করতে আজ সে বড্ড ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ।

আজ মায়ের কোলে মাথা রেখে একটু ঘুমিয়ে পড়তে বড্ড ইচ্ছে করছে তার; চির প্রশান্তি পেতে চায় সে।  চোখ দুটো ধীরে ধীরে বুজে আসছে, সর্ব শরীর অসাড় হয়ে যাচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস আড়ষ্ট হয়ে আসছে ; সবই ঝাপসা হয়ে পড়ছে। একটু একটু করে সে মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছে। সবকিছুই ঝাপসা-অন্ধকারময় হয়ে পড়েছে ; কাছেই পড়ে থাকা খালি বিষের শিশি'টাও অস্পষ্ট ! দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গেছে, সেই ছোট্ট বেলার কথা মনে পড়ছে তার ! ক্রমে ক্রমে ঘন অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে সে। আজ মা'কে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু আদর করতে ইচ্ছে করছে তার, একটু....!
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.