![]() |
| মৌমিতার ফটোগ্রাফি শেখা : মৃদুল শ্রীমানী |
মৌমিতা থানায় গিয়েছিল। ও ফটোগ্রাফি শিখত অনীশের কাছে। ব্যাংককর্মী অনীশের কাছে তার ব্যাংক অফিসার বউ ছন্দবাণী আর থাকে না। মৌমিতার কি হয়েছিল অনীশের একাকিত্ব ঘোচাবার একটা দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ফেলেছিল। অনীশ তাকে ফটোগ্রাফির জগতে অনেকটা এগিয়ে দেয়। আর ক্রমে মৌমিতার অবিবাহিত শরীরের অন্ধিসন্ধি জেনে নিতে থাকে। শিক্ষকের কাছে নিজেকে মেলে দিয়েছিল ছাত্রী। কিন্তু সম্পর্কটা টিকল না। অনীশ ছন্দবাণীর থেকে ডিভোর্স নেয় নি। দুজনে নিজেদের মতো করে আলাদা আলাদা থাকে। মৌমিতার শরীরের প্রতি একদিন মোহ হারালো অনীশ। এখন সে বাড়ির কাজের মেয়েকে নিয়ে তন্ত্রশাস্ত্রসম্মত ভৈরবীচক্র বসায় বাড়িতে। সেই সব জেনে মৌমিতা আপত্তি তুললে তাকে প্রচণ্ড গালি দিয়েছিল অনীশ। শাসিয়েছিল তার খোলামেলা শরীরের ছবিগুলি ফেসবুকে আপলোড করে দেবে। সাংঘাতিক ভয় পেয়েছিল মৌমিতা। সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে গিয়েছিল থানায়। পুলিশের বড়বাবু খ্যাঁক খ্যাঁক করে উঠে বলেছিলেন, "বেহায়া নির্বোধ মেয়ে, বাইরের লোকের কাছে পোশাক খোলার সময় মনে ছিল না? যান, দূর হয়ে যান। এমন করে নিজেকে বেআব্রু করলে তো মানুষ সুযোগ নেবেই।" বড়বাবুকে নিরস্ত করলেন এক তরুণ অফিসার। বললেন, তুমি মাথা গরম করছো কেন? মহিলা দরখাস্ত দিতে এসেছেন, নিয়ে নাও। সাইবার ক্রাইমে পাঠিয়ে দাও, ব্যস। ঝামেলা শেষ। ওঁর কথা শুনে ভাল লাগল মৌমিতার। অনীশের কাছে সে যে নিজেকে মেলে দিয়েছিল, সেই ছবি বাইরে বেরিয়ে গেলে পাড়ায় মুখ দেখানো ভার হবে। এমনিতেই ত্রিশ পেরোনো শরীরে পুরুষসঙ্গের চিহ্ন দেখে অনেকে কানাকানি করে। মেট্রো শহর বলে রক্ষে। গাঁ গঞ্জ হলে টিকতে দিত না। মৌমিতার মনে পড়ে তরুণ পুলিশ অফিসারটিকে, আর কৃতজ্ঞ হয়।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন