![]() |
| কিশলয় গুপ্ত'এর চারটি কবিতা |
বাউলানা_৫৭
হাতের সুখে রাখছি মাথা
সবুজ পাতায় চোখ
ইহা গল্প নয়
ফালতু নাচে ভাতের থালা
আঁধারপায়ী লোক
এবং অল্প ভয়
রাতের মুখে মোম জ্বেলে দি
একটু আলো হোক
ইচ্ছা উড়বে তাই
বাজারজাত শিল্প নাচে
রঙের দিকে ঝোঁক
হয়তো পুড়বে ছাই
পঙ্গপালের হামলা বড়
রসনার ছোঁক ছোঁক
নজরে কারচুপি
ওৎ পেতে সব সিঁধেল চোর
কীসের দিকে রোখ
হাতে কার টুপি
হাতের সুখে রাখছি মাথা বেশ
প্রেমিক আছে, পুরুষ নিরুদ্দেশ।
৫৮
সাম্প্রতিক ভাবনাগুলোর ভিতরে
উদ্দেশ্য প্রণোদিত দীর্ঘ পথ বসে আছে
নক্ষত্রের গোপন কথা লেখা থাকে
অনন্ত ছায়াপথ জুড়ে।
পথিকের কাঁধ ঝোলা বাহিত খবর
সরাইখানার রান্নাঘর রক্ষা করে।
নির্জন দুপুরের উপন্যাস যেমন কাঁদে
পথের মোড় তেমনি সজল।
অনেক ভাবনায় চয়ন করেছি
যে সকল শব্দ- বিপ্লব স্বপ্নে
তারা নক্ষত্র নাম নিয়ে আজও
সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে অক্লান্ত
সাম্প্রতিক ভাবনাগুলোর ভিতরে
লুকিয়ে আছে পথের মানচিত্র।
৫৯
দুই চোখে অনন্ত বিল্ব মঙ্গল
চিন্তার বিষয় মুনি ঋষিরা জঙ্গলে
কী খেয়ে জীবন ধারণ করতেন!
উত্তাপের জন্য আগুন- পাথর
পেটের জন্য শুধু মাত্র ফল?
ফলাফল যা দাঁড়ালো মশাই
সন্দেহপ্রবণ শয়তান মন রে আমার
কোথায় গিয়ে খুঁজবে মাটি
এখন কি সাপের লেজ ধরে আমায়
নদী পার করবে খাই খাই বয়সে
এই ধ্বংসাত্মক যৌনতা-
কেউ কি প্রত্যয় দিতে পারে
চিন্তার বিষয় বড় পোশাকে কাপড়ে
সময়কে বাঁধার কোন উপায় নেই।
৬০
জন্মসূত্রে আমি হরেকৃষ্ণ'র ছোটছেলে
চার মেয়ে, দুই ছেলের মধ্যে সর্বশেষ
বেত পুকুর,চক বামন গড়িয়া,৭১৩৫১৩
আর কিছু বছর পরে মহাজনসুত
বাড়ীতে অনেক তাঁত, লোকজন
সকলের আদরের- স্নেহ অথবা স্বার্থে
অমুকের বন্ধু, তমুকের শত্রু, পরিচিত
মাষ্টারমশাই'এর প্রিয় ছাত্র, দূরন্ত পড়ুয়া
ডানপিটের চূড়ান্ত উদাহরণ
সময় ঝরে যাচ্ছে- বদলে যাচ্ছে কাল
একটা কালে সঞ্চিতার স্বামী
বেকার, বাউন্ডুলে, অকর্মা নাস্তিক
এই রনাঙ্গনে কিশলয় গুপ্ত হতে পারছি কই!
ও হ্যাঁ- গত পনেরো বছর আমি সঞ্চারীর বাবা।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন