![]() |
| নষ্ট মেয়ের গল্প : কিশলয় গুপ্ত |
বাপটা শুধু জন্ম দিয়েই খালাস
জলে কাদায় কাঁদছি যখন
কেউ করেনি তালাশ।
মা রেখেছে বুকে-
মা বলেছে এমনি করেই বাঁচা
এর বাড়ীতে বাসন মাজা
ওর বাড়ীতে কাপড় কাচা
এমনি ভাবে দু'মুঠো দিতো মুখে।
একদিন মা'টাও গেল মরে
মেয়েবেলা জুড়ে আমার হাজার ঘুঘু চরে
পথ চলতি লক্ষ মানুষ
দেখলো না তো কেউ
সেই থেকেই বেশ শিখেছি খেউড়।
খিদের জ্বালায় খাচ্ছি মাটি
চাইতে গেলে চড় চাপাটি
বলছি খোদার কিরে
কেউ চাইলো না তো ফিরে।
রাস্তা জুড়ে পা মেলানো লোকে
আমার ক্ষুধার দিন গুলোতে
দেখলো না যে চোখে।
এমনি করে চলছিল বেশ ভালো
হঠাৎ দেখি চোখের সামনে
কেমন দিনের আলো।
যে দ্যাখে সে বলে দু'হাত নেড়ে
"পাছায় দারুণ মাংস আছে
পুরুষ্ট বুক।কে রে?
তাদের ডেকে বলি-
চাকরী দিবি?--না
খেতে দিবি?-- না
কাপড় দিবি?-- না
আশ্রয় দিবি?-- না
'না' এর সাথে বলে-
"চাওয়ার এত ঘটা কেন মেয়ে?
মন দিয়ে শোন- এর চেয়ে
চোখে তো তোর ঠমক আছে
শরীর জুড়ে চমক আছে
বুকে, পাছায় জমক আছে খুবই
এই মেয়েটা শুবি?
যা খেতে চাই পাবো?--- পাবি
গয়নাও চাই-- পাবি
ঘর বাড়ি চাই-- পাবি তবে কোঠা
আধখানা নয়, গোটা
শুনছি কি কানের ভুলে?
এত কিছু পাওয়া যাবে শুধুই কাপড় খুলে?
মা গিয়েছে মরে,বাপ গিয়েছে চলে
এখন তবু কত পুরুষ আসছে দলে দলে!
মাংসের এত দাম!
মাংস খেতে কেউ তো আমায়
জানতে চায় না নাম।
জানতে চায় না কোন ধর্মে পড়ি
আহা,মরি মরি
আয় বাবা আয়
আয় ভাই আয়
আয় দাদারা আয়
বসে এবং শুয়ে যদি
পেটটি ভরে যায়।
সেদিন থেকে শুয়ে
ঘর পাইনি,পেয়েছি কোঠা
কোঠায় গিয়ে নিচ্ছি শরীর ধুয়ে
আচ্ছা করে দামী সাবান জলে।
সেই থেকেই সবাই আমায় নষ্ট মেয়ে বলে।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন