![]() |
| কবি অরুণেশ ঘোষ-এর স্মৃতি : মাধবী দাস |
"আমি মাথা নীচু করে প্রণাম করেছিলাম বেশ্যাকে,বেশ্যাতো থ.....সে আমাকে শেখাল দুঃখের গণিত,আমি মূর্খদের চিনতে শিখলাম....বেশ্যাকে আমি প্রণাম করেছিলাম অন্ধকারে।নারীকে ক্রুশবিদ্ধ করলে ক্রুশকাষ্ঠ কী অপমানিত বোধ করে?"---এই বেশ্যা প্রণামের মধ্য দিয়েই গত শতাব্দীর ষাটের দশকের কবি পচাগলা সভ্যতার তীব্র বিরোধিতা করেন।র্যাঁবো, বোদলেয়ার কিংবা সার্থক অস্তিবাদী (Authentic existence) সার্ত্রে,কাফকা, কামু,হাইডেগার প্রমুখের মতোই তিনি এসমাজের ভণ্ডামো দেখে এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে এ সমাজের ঈশ্বরের প্রতিও অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন। কবির আরাধ্য হয়ে ওঠে জীবনানন্দ দাশ। পারিপার্শ্বিক "ইনটেলেক্ট ন্যাকামি '' দেখতে দেখতে ক্লান্ত কবির মধ্যে বড়ো হয়ে ওঠে এক গভীর বিপন্নতাবোধ।বেশ্যাপল্লী হয়ে ওঠে তীর্থক্ষেত্র। ভণ্ড ছদ্মবেশী সমাজ ত্যাগ করতেই কবি অরুণেশ -এর নায়ক ল্যাংটা হয়ে আপাত সভ্য সমাজকে শ্লেষে বিদ্রূপে বিধ্বস্ত করে বিপ্লব ঘটিয়েছেন।বলেছেন- "সহজ লোকের মতো কে চলিতে পারে!/কে থামিতে পারে এই আলোয় আঁধারে / সহজ লোকের মতো তাদের মতন ভাষা কথা / কে বলিতে পারে আর..."। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর প্রজন্ম পৃথিবীর আত্মধ্বংস রোধ করে অন্তর বাহিরে এমন বোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুক যা জীবন মৃত্যুকে সমান মর্যাদা দেবে।
গতকাল ছিল কবির প্রয়াণ দিবস।
প্রতিনিয়ত ও তাই বোঝার চেষ্টা করি কেন জীবদ্দশায় তিনি শব সন্ন্যাসী হয়ে উঠেছিলেন।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন