রবিঠাকুর বহিরাগত ঠিক-ঋদেনদিক মিত্রো

রবিঠাকুর বহিরাগত ঠিক-ঋদেনদিক মিত্রো

রবিঠাকুর বহিরাগত ঠিক 

ঋদেনদিক মিত্রো

রবিঠাকুরকে "বহিরাগত" 
  বলছেন তো তাঁরই তৈরী 
   শিক্ষালয়ের সুমহান  উপাচার্য, 
    স্থানটা বিশ্বভারতী, 
আমরা শুনছি, যারা দাবী করি
   আমরা সবাই রবিঠাকুরের সারথি !
 
কোরো না গো উপহাস, 
ইনিই কলির মূর্খ সে  কালিদাস, 
     যে-ডালে বসে সেই ডাল কাটে 
          মূর্খের যেটা কার্য ! 
হতেও পারেন তিনি কোনো উপাচার্য !

বলা তো যায়না এই একদিন
   পড়াশুনা করে হতে পারে পন্ডিত, 
    মূর্খরা পায় বড় বড় পদ, 
       ভারতবর্ষে ঠিক, 

পদ থেকে যেই অবসর নেবে 
     পড়াশুনা শুরু করবে, 
তারপর শালা শুয়োর-বাচ্চা 
     পন্ডিত হয়ে চরবে,

চরবে মানে, সে পার্লামেন্টে
     হবে তো সদস্য, 
এইসব লোক ভারতবর্ষে 
     সবচে' নমস্য ! 

কী ধরণের পরীক্ষাতে 
     পাস ক'রে এরা 
         বড়-বড় পদ পায়,  

এটাই তো সেই ভারতবর্ষ, 
     পরীক্ষাতে পাসফেল উঠে যায় !

হয়ে যায় ভাই নোবেল ছুরি 
     নেই কারো প্রতিবাদ, 
এতো দিন কেন জ্ঞানী জনগণ 
     হয়নি তো সজাগ !

উপাচার্য মালটা বুঝেছে
      এই গর্ধভ-দেশে, 
বিশ্বকবিকে গালাগালি দিলে 
      প্রাপ্তিটা আছে শেষে, 

এম-এল-এ, এম -পি, কিংবা মন্ত্রী, 
      কিংবা পাঁচশ কোটি,  
সেই মতো তো চুক্তি রয়েছে, 
      লাভ আছে, নেই ক্ষতি ! 

ওই এলাকার এম-এল-এ,  এম-পি, 
      সবাই কেন বা চুপ,
কোরোনার ভয়ে লকডাউন ব'লে 
      তাই তো বোবার রূপ ! 

আসলে এদেশে সব নেতাদের 
     জিভ থাকে লকডাউন,  
অন্যায় দেখে নীরব থাকাই 
     এদের চরিত্রগুণ!

ইস্যু ভিত্তিক চালাকি করেই 
    কথা ব'লে যায় এরা, 
সেটাকে আমরা প্রতিবাদ ভেবে 
    হয়ে থাকি বোকা ভেড়া !  

প্রতিবাদ নয়,  সরাসরি ওকে 
    দাও থাপ্পড় গালে, 
কোনো বাঞ্চোৎ যেন না আসে 
   ওই পদে কোনো কালে !

ফেকো জনগণ বোবা কালা থেকে 
     দেওয়ালেতে পিঠ ঠাসা, 
এই মন নিয়ে মিছিল করিস --
     মহান বাংলাভাষা !

এই মন নিয়ে হে ভারতবাসি 
     পাকিস্তানকে গালি, 
উগ্রপন্থীদের সভাতেই
      যারা দিস হাততালি !

কোনো রাজনীতি,  জাত বা ধর্ম, 
     সবকেই করে তুচ্ছ, 
যে-জন করবে ঠিক প্রতিবাদ,
    সেই তো মানুষ উচ্চ !
 
আমাদের মাঝে প্রফুল্লচাকী 
    ক্ষুদিরাম,  প্রীতিলতা, 
আছে যদি ঠিক রক্ত ধারায় --
     কেন তবে নীরবতা !

জনগণ যদি বোবা কালা থাকে, 
     আমি কেন রুখে দাঁড়াবো,
 বুদ্ধিজীবীর তকমাটা নিয়ে 
      নেতাদের হাত বাড়াবো !

নির্বোধ এই জনগণদের 
     ভালো কিছু চাওয়া বৃথা, 
রবীন্দ্রনাথ বহিরাগত ---
      আমার কাছেও মিঠা !

উপাচার্য,  তোমাকে আজকে 
     "দাদাভাই" ব'লে মানি, 
একটুকু গালি দিয়েছি প্রথমে 
      আবেগের বসে আমি !

যে-দেশে মানুষ শিক্ষা নিয়েও 
      অশিক্ষিতের ভঙ্গী, 
সেই দেশে যদি ভালো কিছু করি, 
     আমাকে বলবে -- ফন্দি !

জনগণকেই যারাই বুঝেছো 
     তারাই হয়েছ নেতা, 
আমি গরু বলে বুঝেছি গো  পরে, 
     অনেক দেরিতে এটা !

মৌন মিছিল করার জন্য 
     জনগণ থাকে প্রস্তুত, 
ওহে নেতাগণ তোমরাই জ্ঞানী, 
     আমি এক কিম্ভুত !  

সত্যিই যদি পরিবর্তন 
     চাইতো এ জনগণ, 
হাজার-হাজার বছর ধরেই 
     কেন বা এক রকম !

হে ভারতের নেতা গন,  শোনো, 
      তোমাদের করি নমো, 
তোমরাই জ্ঞানী, চিনেছো এ দেশ, 
      আমাকে তোমরা ক্ষমো !
-------------------------------------------
( 21: 08 রাত্রি 25 অগাস্ট 2020,  লক ডাউন,  কলকাতা, Ridendick Mitro )

বিঃদ্রঃ :-- কবিতাটি কোনো ব্যক্তিকে বা গোষ্ঠীকে  অপমান করার জন্য লেখা হয় নি, যারা জাতীয় কবি তথা বিশ্ব কবিকে নিয়ে নানা ভাবে বিপন্ন করছে,  তাদেরকে নিয়ে একটা সামগ্রিক ছবি তুলে ধরা হলো,  এবং এটাও জানানো হলো যে,  যে-দেশে জনগণ সঠিক উপলব্ধি সম্পন্ন নয় ও সঠিক  প্রতিবাদী নয়, সেই দেশে নেতারাও কিংকর্তব্য বিমূঢ় ! তাই এখানে শেষে নেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে যুক্তি দেখিয়েই !:- কবি

Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.