![]() |
| ঋদেনদিক মিত্রো |
জোকার
ঋদেনদিক মিত্রো
তোরা তো সব ভোটার,
সেই মূল্য দিই বলেতো
দেবোনা কিছুই আর !
তোরা তো সব ভোটার !
আমাদের-ও হাসি লাগে,
চেঁচাস অবিরাম,---
চাই শিক্ষা, অন্ন, বস্ত্র,
স্বাস্থ্য, বাসস্থান,
একই সাথে
ওষুধ এবং খাবারে চাস
স্বচ্ছ খাঁটি মান !
সব জিনিসের খাঁটি মাপ ও দাম,
বাজার মূল্য এমন হবে,
সবাই যেন বাঁচতে পারে
মানুষ হয়ে মর্যাদা সমান !
চাই বললেই পাবি কোথায়,
হারামজাদার দল,
কবে তোদের বোধবুদ্ধি...
হবে --- সেটাই বল !
আমরা যদি শান্তি দেবো
তোদের কোনোও ভাবে,
তবে কি আর ফেলতাম রে
তোদের অতল খাদে !
ভাল্লাগে না এ-দুস্টুমি,
তোদের এতো দাবি !
তোরাই তো দিস চোরের হাতে
ভাঁড়ার ঘরের চাবি !
চোরকে আবার দাবি করিস,
" ও চোর, কেন চোর !"
চোর তা শুনে হো-হো করে
হেসেই ওঠে জোর !
অপরাধীর কাছেতে চাস
অপরাধের বিচার !
সত্যি তোরা জোকার !
সত্যি তোরা জোকার !
আরে, তোরা তো ভোটার !
শিক্ষাকে যেই দুর্বল করি,
তোরা থাকিস চুপ,
ফাঁকি দিয়ে পড়াশুনায়
লোভটা তোদের খুব,
যুক্তিবিহীন জাতিভেদ আর
ধর্ম নিয়ে সন্ত্রাস,
এসব আমরা বানিয়ে দিলে,
তোরাও তো হাত মেলাস!
নানা বিভেদ বানিয়ে রেখে
ডাক দিই এক হ'তে,
দ্বিচারিতার কাজ করছি,
বুঝেও বুঝিস না যে !
হাজার নামের রাজনীতি দল,
গণতন্ত্রের রঙ্গ,
নানা রকম ভাবে তোদের
ভিতর আনি দ্বন্দ্ব,
স্বাধীন হবার পরে দেশে
কেন হাজার রকম...
রাজনীতি-দল তৈরী হয়ে
দেশটা করে জখম !
তোদের কোনো প্রশ্নই নেই,
থাকিস সেজে মুরগি,
কোন দাবিতে সুখ চাস রে?
না-খোলে যদি বুদ্ধি !
নেশা ছড়াই, ছড়াই জুয়া,
এমনি নানান ভাবে,
তোদের মাতাই তোদের ভিতর
সর্বনাশের কাজে !
তোরা তোদের মারতে-মারতে
চাইছিস ফের বাঁচার অধিকার !
সত্যি তোরা জোকার !
সত্যি তোরা জোকার !
শোষণটাকে চালিয়ে রাখি
কেমন তোদের ভিতর !
তোদের ভালো মনকে করি
নির্লজ্জ ইতর !
স্বার্থপর হতে থাকিস
তোরা সবাই সবার সাথেই পরস্পর !
ছোঁয়াচে রোগ মহামারি
দেশে যখন ছায়,
রোগটা আগে ছড়িয়ে দিয়ে
বিচিত্র কায়দায়...
লক ডাউন এর আইন টা করে,
থাকতে ব'লে ঘরে,
আবার বলি, বাইরে থেকে
আনিস বাজার করে !
কেউ তো দেখি বলিস না তো,
দেশ তো গরিব নয়,
তবে কেন লক ডাউন এ
নাগরিকরা ঘরে বসে
পাবে না সব কিছু,
যা প্রয়োজন হয় !
পথের কুকুর বেড়াল গুলো
না-খেয়ে সব মরবে কেন
লক ডাউন এর সময় !
পরিযায়ী শ্রমিকেরা ভুগবে কেন
সাহায্যহীন ভাবে,
কেউ বা পথেই চলতে-চলতে
উপোসে বা দুর্ঘটনায়
কেন মরে যাবে !
এসব প্রশ্ন করিসনা তো?
হো ! হো ! হো ! হো ! হো ! হো !
সরকারী সব প্রতিনিধির
কাছে এলে খাদ্য,
লুট হয়ে যায় চুপিচুপি,
এমন ত্রাণের কার্য !
তোরাও দেখি তবুও নীরব,
চোখের সামনে কেড়ে নিচ্ছে
তোদের আহার্য !
কে যে কেন --- কোন টাকা পায়,
কে যে কেন পায়না,
সেই কারণ-ও যুক্তি দিয়ে
কাউকে বলা যায়না !
হঠাৎ-হঠাৎ নানা রকম
কৌশল নিই মস্ত,
নানা ভাবে করি তোদের
অন্যমনস্ক !
আমরা এতে সতর্ক রই,
কখন কী যায় আনা,
আজব জিনিস নানা !
কখন কী কী বানাতে হয়,
কেমন করে মানাতে হয়,
প্রচারে কাদের কেমন করে
নামাতে হয়,
আমাদের তা জানা !
তোদের ভিতর কিছু-কিছু
জনের আছে মাথা,
আছে জ্ঞান ও চিন্তা, সাহস,
যেমন উচিত থাকা,
তারা কিছু করতে গেলে
বানাই রাজদ্রোহী,
তারপরে যা ব্যবস্থা নিই
জানিস মোটামোটি!
বিপ্লবীদের ছবি কিনে
রাখিস ঘরে-ঘরে,
আমাদেরকে মনে ভাবিস
তার-ও ওপরে !
তাঁদের আদর্শতে তোদের
নেইতো মনের টান,
আমরা যদি ডাকি তোদের
সহজে দিস প্রাণ !
এর পরেও তোদের দাবি
সুস্থ হয়ে বাঁচার অধিকার?
ওরে, তোরা শুধুই ভোটার,
তোরা তো সব জোকার !
*********
[ বি.দ্রঃ:- কবিতাটি রস বোধ সম্পন্ন পাঠক পাঠিকাদের জন্য একটি গোল্লারস কবিতা, এটা কেউ বিকৃত ভাবে নিয়ে ধরলে, সেটা তাঁর ভুল হতে পারে, কিন্তু, কবি কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্য নিয়ে লেখেন নি!:-- ( কবির আবেদন)

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন