ভাবের ঘরে অভাব যদি আসে : পুষ্পজিৎ পতি

পুষ্পজিৎ পতি
ভাবের ঘরে অভাব যদি আসে  

পুষ্পজিৎ পতি


থমকে যাওয়া জীবনে ভাব আসে না গো, ছন্দময় গতির জীবন ধারায়
আসে কবির ভাবনা, অচল সময়ের মূল্যহীন অবকাশে
কবিতারা আজ পাহাড় সমান। এ বোঝা তোলা আমার সাধ্যে নেই.
কর্মহীন মজুর ভাতের চিন্তায় অস্থির, চাষীর ফসল মাঠে মাঠে
নির্জন তপ্ত দুপুরের নীরবতা ভাঙা ফেরিওয়ালার সুরেলা সেই ডাক
যেন কতদিন শুনিনি...

শুনিনি তাসের আড্ডার হঠাৎ করে জেগে ওঠা কোরাস অট্টহাসি
শুনিনি পাশের বাড়ির কাকিমার চড়া সেই ঝাঁজালো সুর,
'তোমার আজ হবে, যত বুড়ো হচ্ছো তত ভীমরতি.'
এই শব্দ গুলো, এই তো কদিন আগেও কানে এলে বিরক্ত হতাম, আর আজ!!!
যেন তারই স্মৃতিকে আঁকড়ে, বেঁচে আছি নতুন সকালের অপেক্ষায়

কবিতার ভাব সত্যিই হারিয়ে গেছে, অদৃশ্য অঙ্কের হিসেবে ভূল করা ধাঁধার মতো
বেকার ছেলেটা বাড়ি ঘুরে পড়াত, ঘরে হয়তো বৃদ্ধ বাবা মা
জীবনের তাগিদে ভাব খুঁজে না পাওয়া আমার কলমের মতোই নিত্য জীবন
চুরি করে লিখবে না কোনো কাব্য কথা,
সে আমার ঘরে সিঁধ দিতেই পারে, পেটের টানে কিংবা মায়ের পথ্য কেনায়
কিংবা সবর পাড়ার যুবতী মেয়েটা আঁচল খসিয়ে বলতেই পারে
"দুটা চাল দে বাবু, সব ঠিক হলে পুষিয়ে দেবো."

কিংবা পাড়ার বখাটে ছেলেটা, হঠাৎ হামলা করে করে ছিনিয়ে নিতেই পারে
রান্না করা ভাতের থালাটা, কবিতার ভাব কোথায় পাবো গো তবে?
জীবন যে থমকে গেছে, রাখালের বাঁশি এখন সুর তুলে না আর,
তার প্রাণের ভ্রমরা হারিয়ে গেছে
সমাজের ব্যবধানে, নতুন সকালের আশায়, নতুন স্বপ্ন নিয়ে
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.