রবীন্দ্র গল্প "ছুটি" : শিশুদের সুবিচার পাবার অধিকার নিয়ে ভাবনা : মৃদুল শ্রীমানী

 রবীন্দ্র গল্প "ছুটি" : শিশুদের সুবিচার পাবার অধিকার নিয়ে ভাবনা : মৃদুল শ্রীমানী
 রবীন্দ্র গল্প "ছুটি" : শিশুদের সুবিচার পাবার অধিকার নিয়ে ভাবনা : মৃদুল শ্রীমানী

আজ খুব মনে পড়ছে ফটিক ও মাখনের মায়ের কথা। গ্রামের ভদ্র কিন্তু দরিদ্র পরিবারের সন্তান তারা। বিধবা মায়ের বালক সন্তান। আর্থিক অস্বচ্ছলতায় তাদের মা সংসার চালান। একদিন মামা এলেন দেখতে। বালকদুটি মামাকে সেভাবে দেখেই নি কোনোদিন। মুখটুকুও তারা চেনে না। মামাও চেনেন না নিজের বোনের শিশুদের। বর্ণহিন্দু সমাজেও বিয়ে হয়ে যাবার পর বোনকে যে কতদূর পর করে দেওয়া হয়, এই "ছুটি" গল্পে তা দেখেছি। অর্থকরী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, স্বামীহারা একটি মেয়ে, কিভাবে চলবেন, সমাজ তা ভাবতে চায় নি। মেয়েটির দাদা বা দাদার স্ত্রীও নিশ্চিন্তে এড়িয়ে থেকে গিয়েছেন। সমাজ থেকে বিধবার পাওনা হল অবহেলা, অসাড়তা।

শিশুর অধিকার নিয়ে ভাবতে গিয়ে "ছুটি" গল্পের ফটিকের কথা বার বার মনে আসছিল। বড়ো হতে থাকা বাপহারা বালকটি। আধো বড়ো আধো কচি।

 আজকের দিনের আইনি পরিচয়ে নির্ঘাৎ শিশু। ছোটোভাই মাখনের সাথে তার নানা দুষ্টুমি নিতান্তই শিশুসুলভ। ফটিকের অভাবী বিধবা মা তাতেই ব্যতিব্যস্ত। ভদ্রঘরের স্বামিহীনা যুবতীর সেদিন যে কি মাপের সংকট ছিল ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। মামাবাড়ি পাড়ি দিল ফটিক। মা বুঝতে পারেনি ফটিক আর ফিরে আসতে পারবে না। ভদ্রলোক মামা ভেবেছিলেন খেতে পরতে আর স্কুলে পড়তে দিলেই অভিভাবক হিসেবে তাঁর কর্তব্য শেষ। ওদিকে যে মামীর হাতে প্রতি মুহূর্তে ফটিক নিরানন্দময় জীবন কাটাচ্ছে সে কে আর জেনেছে? বাচ্চা ছেলেও জীবনে চলাফেরায় সম্মান পেতে চাইবে, এ বোধ তো বেশিদিনের নয়! অপমানভার সইতে সইতে গুমরে গুমরে বালক মরে। মা যখন দেখতে এল, তখন জীবনীশক্তি বড়ো বেশি বাকি নেই তার। 

একটি শিশু খাওয়া পরা আর শিক্ষা স্বাস্থ্যের পাশাপাশি স্বচ্ছন্দ জীবন সম্মানের দিনযাত্রাও পাবে, এভাবে আমাদের ভাবতে বাধ্য করেন রবীন্দ্র ঠাকুর। কিশোর কিশোরীর বড় হতে থাকার সমস্যা তুলে ধরেছেন তিনি। ছুটিতে ফটিকের বড় হতে থাকার সংকটের কথা ভুলব কি করে। গরিবের ছেলের উপকার করবেন বলে মায়ের কাছ থেকে ফটিককে মামাবাড়ি টেনে নিয়ে গেলেন, তার আপন মামা, ফটিক জ্ঞানত যাঁকে কোনো দিন দেখে নি। সেখানে মামীর হাতে ফটিকের দৈনিক হেনস্থার কথায় কতবার আমার চোখ চকচক করে উঠেছে। ফটিক, কিশোর সে যে, সে না শিশু, না বড়ো। তার বয়ঃসন্ধির কত যে সমস্যা! এই সময়টাতে বাপ মায়ের মতো আপনজনকে সর্বদা চাই। 

বালক কিশোর বয়সে বাড়ির লোকজনের স্নেহস্পর্শের আবশ‍্যিকতার কথা, সম্ভব হলে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া কিশোরদের বাড়িতে ভাল পরিবেশ পাবার অধিকার স্বীকার করেছেন আমাদের দেশের শিশু সুবিচার আইন। শিশু নির্যাতন বিরোধী আইনেও সে কথা বলা হয়েছে।
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.