![]() |
| সাতপাকের সাতকাহন : পিনাকী চৌধুরী |
সাতপাকের সাতকাহন : পিনাকী চৌধুরী
বিবাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে পবিত্র অগ্নিশিখাকে সাক্ষী রেখে এক নতুন সম্পর্কের সূচনা হয় এবং অবশ্যই তা সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে। শহরের আনাচে কানাচে এখন বিবাহ বাসরগুলি সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে। মাঘ ফাল্গুনের মধুমাসে অনেক সুখী দাম্পত্যের লম্বা ইনিংস রচিত হবে। মানবসমাজের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান হল বিবাহ। এবং একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে ধর্ম। সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই ধর্মীয় আইনের দ্বারাই শাসিত হতো সমাজ সংসার।
মনুস্মৃতি ও অর্থশাস্ত্রে আট প্রকার বিবাহ পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। যথা - ব্রাহ্ম , দৈব, প্রজাপত্য, আর্য, অসুর, রাক্ষস, পৈশাচ ও গান্ধর্ব। এই আট ধরনের বিবাহের মধ্যে ব্রাহ্ম বিবাহই শুধু গ্রহণযোগ্য ছিল। অতীতের ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী নিজ বর্ণের মধ্যে বিবাহ ছিল সাধারণ নিয়ম। কৌটিল্যের মতে পুত্র প্রজননই ছিল নারীর প্রধান কাজ। আমাদের দেশে আবার প্রাচীনকাল থেকেই বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল।
জীমূতবাহনের ব্যাখ্যায় ও প্রাচীন শিলালিপিতে তার প্রমাণ মেলে। ধর্মীয় শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী ব্রাহ্মণ চার পত্নী , ক্ষত্রিয় তিন পত্নী, আর বৈশ্য দুই পত্নী গ্রহণ করতে পারতেন। বিবাহ কর্ম আরম্ভ থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত মাঙ্গলিক আচার অনুষ্ঠানগুলি হল শুভদৃষ্টি, মাল্যদান, মন্ত্র পাঠ, যজ্ঞসম্পাদন, কন্যাদান, পানিগ্রহণ, অগ্নি প্রদক্ষিন, সপ্তপদীগমন এবং স্বস্তিবচন। আমাদের হিন্দু সমাজে বিয়ের আগে পাত্র পাত্রীর কোষ্ঠীবিচার করে দেখার রীতি প্রচলিত রয়েছে। বিবাহের আগের দিনকে বলা হয় অধিবাস। ওইদিন বরকনেকে পুজো করতে হয় এবং মধ্যরাতে নতুন কাপড়, গহনা এবং পরে পাঁচ পদ দিয়ে খাবার খেতে হয়। বিয়ের পরদিন থাকে ' বাসিবিবাহ' , সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় বউভাত এবং অবশ্যই ফুলশয্যা !
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন