![]() |
| কিশলয় গুপ্ত'এর একগুচ্ছ কবিতা |
বাউলানা_৬১
চাইলে সময় বলতে পারি নাম কত
চাইলে সময় বলতে পারি দাম কত
তুই ভেবেছিস অবহেলায় বন্ধ ব'লি
চল পাতলি গলি।
দেখতে গেলে খরচা অনেক ভেবে
বুক চেয়েছি নিখরচাতে- দেবে?
না দিলে বেশ, ভালো থেকো- চলি
চল পাতলি গলি।
শুনতে পেলে হৃদয়পুরের ডাক
যেতেই পারো- ইচ্ছা নেই তো থাক
ভুল করেছি ফুল ভেবে- কান মলি
চল পাতলি গলি।
চাইলে কত মালীরা হাত নাড়ে
ওর হাতেই ফুলের গন্ধ বাড়ে
তুই ভেবেছিস সত্য এখন কলি
চল পাতলি গলি।
৬২
যতটা দংশন চিহ্ন নিতে পারো বুকে
ততটাই অভিশাপ দেয়ার অধিকার আছে
অথচ উপবাসে,শিবব্রত উচ্ছাসে যায় দিন
সব কি মহানত্বে ভেসে যেতে পারে?
কী বিচারে মহানুভব হে শিকল দিয়েছ
জীবন্ত হাত পায়ে মায়াজাল নামের আড়ালে
শীৎকারে কে ভুলে যায় পোশাকের প্রেম
মশারীর বাঁধুনীতে কত কথোপকথন ঝোলে
তুমি জানলে ভাত রান্নার মতো সহজিয়া
বুকে বুকে ছড়িয়ে পড়ে অনুতাপ যদি
আমি তো পুরুষালী বিশ্বাসে শব্দ সাজাই
তোমার অভিশাপের তালিকায় আমিও আছি।
৬৩
কত গান থেকে যায় ঘুমের ভিতরে
কত গান ফেলে আসি পথে
সময় চিরে এগিয়ে যাচ্ছি
এগিয়ে যাচ্ছি নাকি শুধুই যাচ্ছি!
যেখানে শাদা কাপড় পরা মহিলা
হাত দেখায়,লিপ্ট চায়, গাড়ি থামে
চাকায় লেগে যায় ভুল দাগ
অন্ধকার টানেল থেকে বেরিয়ে আসি অশরীর।
এত গান নিয়ে অশরীর পর্যটন
লাগেজ হারিয়ে গেলে সহসা
কী আমার পরিচয় হে মহানুভব?
কত গান পড়ে থাকে চোখের আড়ালে
৬৪
"দুই পায়ের নীচে সর্ষে রাখলে
দুনিয়া হাতের তালুতে এসে দাঁড়ায়"
একথা তুমি না-ই মানতে পারো
আমি তো আকাশ মরীচ খেয়েছি
এবারের শীতে পর্ণমোচীকে বলবো
দেরী করে হাজির হবার কারণে
আমাকে অপরাধী ভেবে নাও
রাগ করো না গরম কাপড়ের সাথে।
এই ভাবে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা
বনভোজন ভুলে এগোতে চেয়েছিলেন
ভাত পুড়ে গেছে হাঁড়ির নীচে
ডাল জ্বলে কয়লা হয়েছে বার বার
বুক পকেট হাতড়ানোর অভ্যাস থাকলে
প্রেমিক বলা যেতেই পারে।
৬৫
মগজের কথা শুনে বেঁচে থাকা যায়।
অভিমানী শব্দ রাখো নিশ্চিন্ত বালিশে
বাসন কোসনে বেশি শব্দ হলে
সাউন্ড সিস্টেমে রবীন্দ্র সংগীত চালিও
নিদেন পক্ষে পল্লীগীতির ভালোবাসা।
উঠানে শালিক, চড়ুই আসবেই প্রতিদিন
ইচ্ছে হলে দানা খাওয়াতে পারো
না হলে ' এই উঠানে বড় ঘাসের উপদ্রব'
বলে বন্ধ করে দাও সদর দপ্তর।
ছাদের কার্নিশে বা ঘুলঘুলি জুড়ে
তৈরী হতে পারে মাকড়সার জালের মতো
অপ্রত্যাশিত গোপন কথা
চাবির গোছার সাথে বেঁধে রেখো সব।
জীবন্ত থাকতে চাইলে কান পাতো বুকে...
৬৬
এক- দুই- তিন- চার- পাঁচ
গুনতে থাকলে কি বয়স কমে যাবে?
বেশী কম কারো হাতে নেই।
এক্ষেত্রে ঈশ্বর মশাইও অপারগ।
সময়ের রাহাজানি মানতেই হবে
গণতন্ত্র, সাম্যবাদ,ইনক্লাব বলে চেঁচিয়ে
দু'একটা বিপ্লবীর জন্ম হতে পারে,
সময়ের বদল বড় আপেক্ষিক।
পুনরায় গুনতে থাকা নামতা দেখি-
ধারাপাত শিখে নিলে গতদিনের কোন
কষ্ট বুকে লেখা থাকে না।
জ্ঞানমূলক ভাষনের শেষে এখানে
চোখের সামনে চকলেট ঝোলানো নেই।
কবিতা পড়বে নাকি চরে বেড়াবে...
৬৭
কার হাতের রেখায় কী লেখা থাকে
একথা ভুলে যেতে পারলেও
জ্যোতিষীর বেশ খেয়ে পরে দিন কাটে।
বস্তুতঃ মৃত্যু আমাকে খুঁজে নেয়
নাকি আমিই মৃত্যুর কাছে যাই
বোঝার বাইরে এই সমস্যা আজও
আমার তো পঞ্চমুন্ডির আসন নেই
মানব করোটিতে মদ খাওয়ার সৌভাগ্য
হয়নি নির্জন শ্মশানে বসে।
শুধু ভিতর থেকে বের করে দিয়েছি
সব অহংকার,দুর্মতি,ভন্ড লোকেদের।
এখন নিজের মধ্যে একা আছি বেশ।
৬৮
তিন পংক্তি লিখতে চাইলাম সকালে
আগের রাতের খাবারে তড়কা মারলে তুমি
আমিও বেশ স্বাদের খপ্পরে নিজেকে
আকন্ঠ ডুবিয়ে বিকিয়ে দিলাম মাথা
আরশোলার পরিবর্তন হয়নি লক্ষ বছরে
আর পিঁপড়ের মরার আগে পাখা গজায়
নিজের মধ্যে আরশোলা আর পিঁপড়ে
দুটি প্রাণীই আছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস
আবার লিখি- মহাভারতের কথা অমৃত সমান
এ শুধু আমার ব্যক্তিগত রচনা...
৬৯
বর্ণপরিচয়ে শুরু গীতায় শেষ।হাহ- যত্তসব
আপত্তি নিয়ে রাস্তা ভাঙছি- ভাঙবো এবং ভাঙবো
লেজ বিহীন হয়েও শাখা প্রশাখায় ঘুরছি
লেজ থাকলে গোটা লঙ্কা জ্বালাতাম মাইরী
বড় দুর্বিনীত উল্লাস রাখছি বিছানায়
চাদরে শীতের কথা লেখা আছে।থাক।
যারা আমাকে ভালোবাসে না তারাই বেশী ভালো
প্রেমের কথা লিখতে গেলে কালি শেষ হয়ে যায়
অনেকটা রং জমিয়ে রেখেছি আগামী কালের জন্য
আবারও নয় পংক্তি লিখে নামহীন রাখলাম...

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন