টুকলি : পিনাকী চৌধুরী

টুকলি : পিনাকী চৌধুরী
টুকলি : পিনাকী চৌধুরী 

 টুকলি একটি ছোট্ট শব্দ, কিন্তু গভীর অর্থবহ ! টুকলির আভিধানিক অর্থ হল টোকাটুকি ! আর গোদা বাঙলায় আমরা চোতা নামেও অভিহিত করে থাকি ! বস্তুতঃ এমন কোনো বাঙালি নেই, যিনি কিনা কোনোদিন টুকলি করেননি ! বাস্তবে পরীক্ষায় নকল করা ( টুকলি) একটি মহান শিল্প ! ছাত্রাবস্থায় অনেক ছাত্র ও ছাত্রী জ্যামিতি বক্স অথবা জামাকাপড়ের ভাঁজে এমনকি গোপন অন্তর্বাসেও চোতা নিয়ে পরীক্ষার হলে গিয়ে হাজির হয় !

তবে যদি পরীক্ষার হলে কোনো গার্ড সেই টুকলি ধরে ফেলেন , তাহলেই যেন উক্ত ছাত্রের সাড়ে সর্বনাশের সূচনা হয় ! অনেকটা ধরা পড়লে ধনঞ্জয়, আর না পড়লে এনজয় ! এপ্রসঙ্গে একটা কথা বলি, টুকলি কিন্তু সবাই তেমন ভাবে করতে পারে না ! তার জন্য যথেষ্ট সূক্ষ্ম বুদ্ধির প্রয়োজন ! তবে আবহমান কাল ধরে টুকলির আয়োজনের কোনো খামতি থাকে না ! শহরের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলেও হামেশাই বিশেষ কোনো ছাত্রের জন্য তার অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধু শ্রেণীকক্ষের ঠিক পাশেই গাছের ডালে উঠে গোপনে চোতা সাপ্লাই দিতে থাকে !  তবে সারা বছর না পড়ে শুধুমাত্র টুকলির ওপর নির্ভর করে পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব নয়, উক্ত ছাত্র অবশ্যই রাতজেগে পড়াশোনা করে যদি পাশাপাশি টুকলির ওপর নির্ভর করে, তাহলেই পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া সম্ভব ! কারণ, পাশের ছাত্রের দেখে যদি অবিকল তার ফটোকপি করা হয় , তাহলে বিপদ অনিবার্য ! মেধা ও মননের পাশাপাশি টুকলি করতে এক বুক সাহসের প্রয়োজন ! " ...... যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ঔরঙ্গজেব ভাঙ্গিয়া পরিতেন "- এই বাক্যটিকে পাশের ছাত্রের খাতা অস্পষ্ট ভাবে দেখে অপর ছাত্র পরীক্ষায় বেমালুম লিখে দিয়েছিল " যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ঔরঙ্গজেব জাঙ্গিয়া পরিতেন "! ভাবুন একবার  তারপরে কি কান্ডটাই না হয়েছিল ! পরিশেষে বলি , ক্লাসের ফার্স্ট বয়ও কিন্তু টুকলি করতে ওস্তাদ ! আর পরীক্ষায় ভালো ফল করতে কার না মন চায় ! বিজ্ঞাপনের ভাষা ধার করে বলতে হয় " এ দিল মাঙ্গে মোর "!
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.