![]() |
| কুয়াশার সংলাপ : সন্দীপ কুমার ঝা |
পাহাড়গাছির পুকুরের জলে,বিকেলের সূর্যটা গলে যেতে শুরু করলে,আমি বেঞ্চে গিয়ে বসি,অখ্যাত এক স্টেশনের পাশে।ঘরে ফিরতে অনুৎসাহী,দুচারটে পাখি তখনো উড়ে বেড়ায়। ইতঃস্তত..
স্বপ্নের মত নির্জন এসব ষ্টেশনে,হাতে গোনা ট্রেন।আসে আর দুচারটে যাত্রী রেখে,চলে যায়। নিরর্থক এই বসে থাকার পাশে,তাদের এই আসা-যাওয়া, আমার বেশ লাগে।
ট্রেন চলে গেলে,পেছনে উন্মুক্ত হয়ে থাকে একজোড়া খয়েরি লাইন।কখনো মিলবেনা জেনেও পাশাপাশি শুয়ে থাকে,আজীবন নির্বিবাদ!
কুয়াশা ঘিরে ধরে।আমি নিঃশব্দে উঠে যাই।তারপর লাইনের বুকে জমা,অভিমানের পাশ ধরে হাঁটতে থাকি!এটাই বোধহয় একমাত্র চলা,যেখানে কোথাও পৌঁছনোর দায় রাখা থাকে থাকেনা।আমিও তো কোনও অভিমান জমা রাখিনি!
হাঁটতে হাঁটতে দেখি,লাইনের ধারে অগণিত জীবনের ভাঙাচোরা মুখ।ভাঙা আয়না।হয়তো এই জীবনে মুখ দেখার প্রয়োজন ফুরিয়েছিল,কারোও।
জানি,আমার মুখটাও রোজ,একটু একটু করে ঢেকে দিচ্ছে কুয়াশা।পুরোপুরি মুছে দেওয়ার আগে,একদিন গিলে খাবে,সমগ্ৰ আমাকে।মরশুমি ফুলের নীচে,একটাও নিরুদ্দেশ বিজ্ঞপ্তি থাকবে না,এই পাথুরে শহরে! জানি!
তবুও বেশ লাগে!প্রয়োজনের এত আয়োজন এর পাশে,অপ্রয়োজনের এইসব হেঁটে যাওয়া।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন