![]() |
| ডাইনি : মৃদুল শ্রীমানী |
সামনের ফ্ল্যাটেই থাকে মেয়েটি। তারই মতো সিঙ্গল। পোশাকে আশাকে দুরন্ত সে আধুনিকা। সুতনুর ফেরার সময়ের সাথে ওর ফেরার সময়টাও প্রায় মিলে যায়। একসাথেই লিফটে ওঠা। একটা সুগন্ধ টের পায়। সুগন্ধ বদলে বদলে যায়। আকর্ষণটা বদলায় না। কেউ আলাপ করিয়ে না দিলে ভদ্র সমাজে আজকাল কেউ পরস্পর কথা বলে না। হাই হ্যালো - আজকের দিনটা বড্ডো গরম - মোহনবাগান আজ জিতবে কি না, এসব বলার চেষ্টা যে সুতনু করে নি, তা নয়। কিন্তু ও মেয়ের সামনে কথা বলতে গিয়ে গলা শুকিয়ে এসেছে। এদেরই কি ডানাকাটা পরী বলে? মা মাসি বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। মেয়েও দেখে রাখা আছে বেশ অনেক দিন আগে থেকেই। ছোটমাসির ননদের মেয়ে। চেনা শোনা। ঘরোয়া। কিন্তু সামনের ফ্ল্যাটের মেয়েটিকে দেখার পর থেকে ঘরোয়া মেয়েটির কথা মনে পড়ে না। ফোনে মা বারবার বলেন আশীর্বাদের দিন ঠিক করতে। ছোটমাসি সেদিন বলেই বসলো, "কোনো ডাইনির খপ্পরে পড়িস নি তো বাবা?" আচ্ছা, ছোটমাসি কি কিছু আঁচ করেছে?
সুতনু সাবধান হয়। রাতে তার স্বপ্নের ভিতরে সামনের ফ্ল্যাটের রূপসী কন্যা কথা বলে, গান গায়, সুইমিংপুলে সাঁতার কাটে।
সকালে উঠে সুতনু দ্যাখে ফ্ল্যাটের সিঁড়িতে লোকে লোকারণ্য। টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুইসাইড করেছে। কাগজ আর চ্যানেলের রিপোর্টাররা বাইট নিচ্ছে কেয়ারটেকারের।
সুতনু অফিস যেতে যেতে মাকে ফোন করল, "খুব শিগগিরই আশীর্বাদের ডেট ঠিক করো মা।"
শুনতে পেল, "আহা, বাছা আমার ডাইনির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।"

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন