বরুণা আর করুণা : মৃদুল শ্রীমানী

বরুণা আর করুণা : মৃদুল শ্রীমানী
বরুণা আর করুণা : মৃদুল শ্রীমানী

(রবীন্দ্রনাথের "সামান্য ক্ষতি" কবিতা নিয়ে আমার এখনকার পাঠ, যে সময়ে শাসক ভিটে মাটি থেকে গরিবকে উচ্ছেদ করে।)
বরুণা নামে নদী । ভারি স্বচ্ছতোয়া। শক্ত শব্দ হল? আচ্ছা বলি কাকচক্ষু জল। তাও শক্ত হল? কবি যে বলেছেন স্বচ্ছ সলিলা। মানে জলটা ভারি পরিষ্কার। এবার তো সহজ হল। কিন্তু কেসটা গুবলেট করলেন করুণা। কে করুণা?  করুণা মানে দয়া, মায়া, মমতা নয়। করুণা হলেন কাশীরাজের মহিষী। না না, মহিষাসুরের কেউ নয়, রাজরাণী কে মহিষী বলে। তো করুণা নামে রাণী গিয়েছিলেন বরুণায় নাইতে। শীত শীত পড়ছে, চলো গো নেয়ে আসি নদী হতে।  বরুণা নদীতে নাইতে গেল করুণা নামে রাণী।
রাণীর নাওয়া সাধারণ লোকে দেখবে কেন? যাও চলে যাও। রাণী নাইবে, সঙ্গিনীরা নাইবে। দাসীরা গাত্রমার্জনা করবে। অঙ্গরাগ করবে। তোরা সাধারণ লোক দেখবি কেন? দূর হয়ে যা।
নদীতীরে ঘরগুলি ফাঁকা করা হয়েছিল। তারপর স্নান সেরে করুণা উঠলেন। হাওয়া দিল শিরশিরিয়ে। তখন নদীচরের কুঁড়ে ঘরগুলোতে আগুন লাগিয়ে ওম পোহাবেন কাশীরাজের মহিষী করুণা। করুণা মানে দয়া, মায়া, মমতা। এক দাসী প্রশ্ন তুলল গরিবের কুটিরগুলি পুড়িয়ে দিলে তারা যে ভারি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। করুণা নামে রানী সেই  কূট প্রশ্নকারিণীকে অপমান করে দূর করে দিলেন। আরে মেয়ে, তুই কি জানিস রাণীর এক প্রহরের আরাম করতে গিয়ে রাজকোষের কত খরচ ঘটে?
তার পর কি হয়েছিল কবিতায়, সে সব গল্প কথা।
  "সামান্য ক্ষতি" কবিতাটা আমার স্নায়ুতে শিরায় পাক খাচ্ছে।
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.