![]() |
| প্রেমের পঞ্চাশ/রুমির কবিতা : কালো বরন পারই |
সুফি সাধক শায়ক জালালুদ্দিনের নাম আমি শুনেছি। শায়েরি পড়িনি । আপনার ভাষান্তর পড়ে বারবার শিহরিত হয়েছি । চমকিত হয়েছি ।হতে পারে সে সময়কালে ভারতে ভাববাদের প্রাবল্যের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সুফি সাধনার চল ও বিস্তার ঈশ্বরের প্রতি মানুষের মনকে আত্মনিবেদনে প্রাণিত ও ব্রতী করেছিল ।সাতশো বছর আগের ইতিহাসে শংকরাচার্য ও তুলসীদাস দুই জাগ্রত ব্যক্তিত্ব । শায়ক রুমি মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশ ভ্রমণ করেছেন । নানা ভাষা রপ্ত করেছেন । বিভিন্ন ভাষায় কবিতা লিখেছেন ।তাই দু-তিনটি দেশ তাঁকে তাদের জাতীয় কবির স্বীকৃতি দিয়েছে বা দাবি করে ।এই শায়েরিগুলি নিশ্চিত অমর খৈয়ামকে অনুপ্রাণিত করেছিল। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই ।
যাই হোক , এবার আপনার ভাষান্তর প্রসঙ্গে আসা যাক । এক কথায় অসাধারণ ।আমি অভিভূত ।একে আমি রুমির অনুবাদ না বলে নির্দ্বিধায় অচিনের ভাবান্তর বলতে পারি । মধ্যযুগীয় বাঁচল আশা করি এমন ছিল না । হ্যাঁ আরব্য রজনী ইত্যাদি প্রভৃতির কথা মাথায় রেখেই বলছি । ভাববাদ ভালোবাসাবাদ যা চিরকালীন প্রবহমান তার হয়তো বর্তমানের তুলনায় প্রগাঢ়তর ছিল ।তাই অনুরাগের পরিণতি আত্মনিবেদনের তৃপ্তিতে দর্শনকে পরিচালনায় নির্দিষ্ট করেছে । তা বলে এ সময়ের এক কবি তাঁর নিজস্ব ভাষা ও শব্দ ব্যবহারের কুশলতা তথা সাবলীলতা দিয়ে সাতশো বছরের আগের লেখাকে আধুনিক পাঠকের কাছে যেভাবে তুলে ধরেছেন , তা না পড়লে বুঝতাম না ।শায়েরির ছন্দ আমরা শুনি এবং জানি ।কবি অচিন সেসব ভেঙে গুঁড়িয়ে বাঙালি পাঠকের বাকরীতি /ছন্দরীতি ধারায় শুধু ব্যাপ্ত করেননি, গতিদানও করেছেন। যথেষ্ট আধুনিক এ ভাষান্তর। আমরা রুমি পাঠে রুমির সঙ্গে আর একটি কবিহৃদয়ের স্পর্শ পেলাম। ' যতটা মরতে পারে / প্রেমিকের ততটাই বাঁচা ' । তাই রুমি ততটাই বেঁচে আছেন আজও আর থাকবেনও ।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন