ভগবান নিজে কিছু করেন না আমাদেরকে দিয়েই করান : রতন বসাক

 রতন বসাক

ভগবান নিজে কিছু করেন না আমাদেরকে দিয়েই করান



পরম করুণাময় ঈশ্বরের দয়াতে আমরা এই ভুবনে আসি । শুধুমাত্র তাঁরই ইচ্ছাতে আমরা বেঁচে থাকি । তার শক্তি ও ক্ষমতার কোনো তুলনা হয় না । ঈশ্বর অর্থাৎ ভগবান এক ও অদ্বিতীয় । আমরা বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন রূপে ভগবান সৃষ্টি করে আলাদা আলাদা নাম দিয়ে তার পুজো করি । ভগবান কোন আলাদা বস্তু নয়, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই ভগবান বিরাজমান আছেন । তাইতো স্বামীজী বলে গেছেন " জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর । "

কিন্তু আজকের যুগে দেখা যাচ্ছে কিছু স্বার্থান্বেষী ও অনেক অনেক নিচু মনের মানুষের উদ্ভব হয়েছে আমাদের সমাজে । যারা শুধু নিজের ভালো ছাড়া আর কিছুই বোঝে না । শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এরা যে কোন অন্যায় কাজ করতে একবারও ভাবে না । এইসব মানুষরা কিছু দরীদ্র মানুষের সুযোগের দুর্বলতা নিয়ে তাদের ভুলভাল বুঝিয়ে দলে টেনে নিচ্ছে, ও সাময়িক কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের খুশি করছে । আর তাদের অন্যায় কাজ করতে বাধ্য করছে ।

এইসব স্বার্থান্বেষী মানুষ মন্দির, মসজিদ, গির্জায় যেখানে মানুষ ভগবানের প্রার্থনায় একত্রিত হয়, সেখানে গিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করছে নিরীহ সব সাধারণ মানুষের ওপর । তারা একটা আতঙ্কের বাতাবরণ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে । তারা নিজের ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মকে মান্যতা দেয় না । নিজেরাই শুধু ভালো থাকতে চায় ও রাজত্ব করতে চায় । এর জন্য যে কোন অপরাধ মূলক কাজ করতে এরা পিছপা হয় না ।

আমরা কল্পনার দ্বারা যে মূর্তি সৃষ্টি করে তার পুজো করি ও প্রার্থনা করি সে তো থাকে নিষ্প্রাণ । তার কোনো ক্ষমতাই নেই যে এইসব দুষ্কৃতীদের বাঁধা দেয় ও তাদের অন্যায়ের জন্য শাস্তি প্রদান করে । তাই ভগবান নিষ্পলক দাঁড়িয়ে থেকে এইসব দুষ্কৃতীদের আক্রমণে রক্তাক্ত হয়ে চলেছে দিনের পর দিন । ভগবান কোন সময়ও কিছু করেন না, তিনি আমাদের দিয়েই করাণ । সহ্যের একটা সীমা আছে, তাই আর চুপচাপ থাকা উচিত নয় ।

এইসব দুষ্কৃতীরা একবারও ভাবে না যে একা বাঁচা যায় না সমাজে । আমাদের প্রত্যেকের প্রত্যেককে প্রয়োজন আছে প্রতিদিন । ওরা যদি এভাবে মারতে থাকে নিরীহ মানুষকে, তাহলে একদিন কেউ থাকবে না, যে ওদের কাজে সহায়তা করবে । সেই দিন তারা নিজেরা নিজের কারণেই আর বাঁচতে পারবে না । কেননা তাদের বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কে দেবে ? এই কথা তারা একবারও ভাবে না নিজেরা কেউ ।

ভগবানকে আর রক্তাক্ত হতে দেওয়া যায় না । তাই এর প্রতিবাদ করার সময় এসে গেছে, তবে হিংসার মাধ্যমে নয় । হিংসায় হিংসা বাড়ে । নিরীহ সাধারণ মানুষকে অন্যায় ভাবে মেরে কোন লাভ হয় না, এতে নিজেরই ক্ষতি হয় এটা ওদের বোঝাতে হবে । এইভাবে অতর্কিত আক্রমন করে মানুষ মারতে মারতে যদি সব মানুষ শেষ করে দেয়, তাহলে তোমরা বাঁচবে কি করে ? তোমরা কি একা একাই সব কাজ করে নিতে পারবে ? তোমাদের কি আর কারো প্রয়োজন নেই ? একবার নিজেরাই নিজেকে এই সব প্রশ্নগুলো করে দেখো, কি উত্তর পাও ?


ভগবান সত্যিই আজ রক্তাক্ত । তার গায়ে রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে । এসবই তার সন্তানের রক্ত । ভগবান নিরুপায় হয়েই সব দেখে যাচ্ছে । আমরা সবাই যে ভগবানের সন্তান কেউ ভালো কেউ খারাপ । এইসব কিছু সামান্য খারাপ মানুষের জন্যই ভগবান রক্তাক্ত হয়ে চলেছে । চার দেওয়ালের মধ্যে যে মূর্তি থাকে আর যাকে আমরা ভগবান মানি সে তো নিষ্প্রাণ । তবে তার মানে ভগবানের ইচ্ছাই আমাদের সবার মধ্যে প্রবাহিত হয় । যারা এখনো অন্যায় কাজ করে চলেছে  তাদেরকে বোঝতে হবে ও বোঝাতে হবে যে এরা সবই অন্যায় করছে । মানুষকে মেরে কোন সময়ই সুখ বা ভালো হয় না জীবনে । একা একা থেকে কোন লাভ হয় না সবাইকে নিয়ে চলতে পারলেই জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতি হয় ।
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.