সিটি অফ জয়, অথবা তিলোত্তমা কলকাতা- যে নামেই অভিহিত করিনা কেন, আজও যেন ঐতিহ্যের শহরের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে আছে এই হাতে টানা রিক্সার নাম ! মাঝেমধ্যেই উত্তর কলকাতা অথবা দক্ষিণের হাজরার ওদিকটায় কর্মসূত্রে হয়তো যেতে হয় আমাকে, ( লক ডাউন পর্ব বাদে )। তখন কদাচিৎ চোখ পড়ে সেই বহুশ্রুত হাতে টানা রিক্সা ! আজ থেকে প্রায় বছর দুয়েক আগে সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হয়েছিল এই কথোপকথনটি -" এই রিক্সা যাবি ?" উত্তরে সবিনয়ে রিক্সাওয়ালা " হ্যাঁ, বাবু, কোথায় যাবেন ?"
![]() |
| পিনাকী চৌধুরী |
সত্যি, কি অমানুষিক পরিশ্রম করতেন সেই সব রিক্সাওয়ালারা । কিন্তু প্রথম কবে চালু হয়েছিল এই হাতে টানা রিক্সা ? ১৮৮০ সালের সেইসব সাদা কালো দিনে জাপানে প্রথম চালু হয় এই হাতে টানা রিক্সা।তার প্রায় বছর কুড়ি পরে আমাদের এই ভারতবর্ষে চালু হয়ে যায় এইধরনের রিক্সা। যেহেতু তখন ব্রিটিশ শাসনকাল, সেহেতু সিমলা শহরে ব্রিটিশ আমলাদের বিনোদন এবং অবশ্যই সরকারী কাজের জন্য এই হাতে টানা রিক্সার প্রচলন শুরু হয় ! কিন্তু সেইসব রিক্সা মোটেও এখনকার মতো দেখতে ছিল না, অতীতের সেইসব রিক্সাকে টেনে নিয়ে যেতে চারজন মানুষকে নিযুক্ত করা হত, আর চারদিক থেকে টানতে হত! হ্যাঁ, ভাবতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি! তবে কলকাতার আনাচে কানাচে এই হাতে টানা রিক্সা চলাচল শুরু করে কিন্তু ১৯৮০ সাল নাগাদ।
সময় থেমে থাকেনি, তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে ! বাস্তবে কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এইসব হাতে টানা রিক্সা ! মূলত গত শতাব্দীর ৮০'র দশকে অনেকেই প্রমোদ ভ্রমণ করতেন এইসব রিক্সায় চড়ে ! অনেক উত্থান পতন, ঘাত প্রতিঘাতের সাক্ষী এইসব রিক্সা! বৈচিত্র্যে, বিন্যাসে এবং অভিনবত্বে এইসব হাতে টানা রিক্সার জুড়ি মেলা ভার ! বস্তুতঃ বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে রিক্সা !
যদিও ২০০৬ সাল নাগাদ তৎকালীন বাম সরকার এইসব হাতে টানা রিক্সা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে ! তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ জানান রিক্সাওয়ালারা । সেইসময় কলকাতার বিখ্যাত গবেষকরাও সরকারের এহেন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন । যদিও শেষমেশ শহর কলকাতা থেকে এইসব রিক্সাকে একেবারে তুলে দেওয়া যায় নি ! তবে আর যাই হোক না কেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যদি ইতিহাস খনন করে, তাহলে অবধারিতভাবে উঠে আসবে এইসব হাতে টানা রিক্সার কথা !

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন