![]() |
| অনন্ত আচ্ছন্নে ইতর ঈশ্বর : কিশলয় গুপ্ত |
আমি কি এতটাই বখে গেছি- বলো
এত অবজ্ঞা ছুঁড়ে দাও মাটি টলোমলো
ফসলের উচ্ছ্বাসে নাচে নবান্ন মন
তার কোন দায় নেই অসুখী চুম্বন
আমি তো অক্ষরের মায়ায় থাকি মজে
পাপে তাপে লেগে আছি কলমে কাগজে।
অশিক্ষিত মাছের মতো নোনা জলে
ভিজিয়ে রাখি না বুক।এত দুর্বলের
যাপনে পেতে রাখি অনাবিল হাসি
তবু তুমি চোখে চোখে এত অবিশ্বাসী?
ঠিক আছে- আঁধার দিলাম পদরজে
পাপে তাপে লেগে আছি কলমে কাগজে।
২
অবিশ্বাসী সম্পর্কের অধিকারকে দাবী
মেনে ঘাড় গুঁজে থাকে কুলাঙ্গার মেধাবী।
তুমিও মিছিলে স্বেচ্ছায় যোগ দিতে পারো
একদিন বালুকাবেলা হবে যমুনার পাড়ও
আমি চৌকিদার সেজে সজ্ঞানে প্রতি রাতে
বেরিয়ে পড়ি আঁধারে- মোমবাতি হাতে
তারপর দিনের জন্ম হয়, প্রতিটি ভোরে
বুক জোড়া আলো, নতুন পাখায় কাল ওড়ে
শুধু দেখে গেলে স্বপ্নের জন্ম হত?
সব বাক্য আজ নাটকের কাছে পদানত
তবু আমি চৌকিদার সাজি সেই চেনা খাতে
বেরিয়ে পড়ি আঁধারে- মোমবাতি হাতে।
৩
প্রতিদিন কারা ছেড়ে চলে যায় খাঁচা
কারা লিখে রাখে এই সব মিছে বাঁচা
খিড়কি দুয়ারে কে অনন্ত চেঁচায়
কোন রাত দখল হয় নিশাচর পেঁচায়
সব পা শেষ দিনে মিশে যায় রনে
এসো হাতে হাত রাখি এই শুভক্ষণে
আমি তো আগেই জানি শুধু বলা বাকী
আড়ালে তোমাকে ধরে আমি বেঁচে থাকি
রথে রথে পিষে যায় যতগুলো চাকা
শুভনাম লিখে গরীবের ভালো থাকা
যাপন লুকায় কিছু শব্দের আড়ালে
কোন পথে কোন ভাবে পা দুটি বাড়ালে
প্রতিদিন কারা ছেড়ে চলে যায় দেহ
কে কাকে ভালোবাসে কে করে সন্দেহ
কারা বুকে নাম পাতে কারা পাতে পিঁড়ি
সব কিছু ভুলে দেখি স্বর্গীয় সিঁড়ি
৪
হাড়ে হাড় মিলে গেলে- কী দারুন
চেষ্টায় ক্ষতি কী? পারুন আর না পারুন
আসুন, এইবেলা যাবতীয় ভদ্রতা সারি
আঁধার নামার আগে যাবো যে যার বাড়ী
"তখন রক্তের লোহিত কণিকা এক নদী"
মোহের কাছে বিকিয়ে গেলে পৈতৃক চোখ
থেমে যেতে পারে গতজন্মের শব শোক
কানে কানে বলে যায় এই খবর হাওয়া
পথের মোড়ে লেখা থাকে কি সকলের যাওয়া
"ইতিহাসের প্রতি বাক্যে লেখা থাকতো যদি"
হাড়ে হাড় মিশে গেলে- কিছু নাচিয়ে
প্রান্তিক পথে ভাগাড়ের জলকাদা বাঁচিয়ে
এগিয়ে চলে পায়ে পায়ে সরল মৃত্যুর দিকে
প্রাথমিক পাঠে আপাতত এই টুকু শিখে
"সকলেই যেতে পারে বৈতরণী অবধি"

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন