![]() |
| কিশলয় গুপ্ত'এর একগুচ্ছ কবিতা |
বাউলানা_৯২
ঘেমো জামা- গন্ধ মোজা
ল্যাংড়া বাঁকা অন্ধ সোজা
দু'চোখ বুজে বন্ধ খোঁজা
অন্ধকার
হাত ঘুরছে অন্ত্যমিলে
ক'টা সাধু সন্ত মিলে
ধুঁকছে। পয়মন্ত পিলে
বন্ধ কার?
নারী মাংস ভোজের পাতে
ভন্ড কিছু মজায় মাতে
অন্ডকোষের নাচন সাথে
মন্দ দোষ
হায় সংসার কী জমকালো
কষ্ট সকল কী কম কালো?
তবুও এখন বেদম ভালো
নন্দ ঘোষ।
প্রেম লেগে থাক বুকের চুলে
ফূর্তি চুলোয় মুখের ভুলে
কষ্ট থাকে সুখের ফুলে
ছন্দ রোষ।
৯৩
কিছু চিহ্ন ধরে এগিয়ে যাচ্ছি
জামা কাপড়ে যে পরিচয় ঝোলে
রাত হলে তার মূল্য নেই,
বিছানায় ধর্ম থাকে না তো
চামড়ার কষ্ট ডাকে কোন মূর্তি
নিরাকার উদ্দেশ্য কার বুকে
ঘৃণার জন্ম দেয় কত কত যুগ
উপসংহার চাই না সংহারে
রাম মন্দির আর বাবরি মসজিদ
মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি অনন্ত কাল
মানুষের পৃথিবীতে এক খন্ড
শুয়ে থাকা জমি চাই- আর কিছু নয়।
৯৪
বুক হাতড়ালে যে ছাই পাওয়া যায়
আমারই লাশ পুড়ে জন্ম তাদের
রাবনের চিতার গল্প জানে পিঁপড়ে দল
পতঙ্গ তবু আগুন ভালোবাসে
প্রিয় ছাই বুকে মাখলে সন্ন্যাসী, আর
মুখের এখানে ওখানে সংসারী কীট
আলুর বাজারদর জানতে জানতে শেষ
একটা জন্ম- একটা ঐতিহাসিক যুগ
বড় মজার কথা হে লালন সাঁই
আমার বুক পোড়া ছাই- ওরা দাঁত মাজে
৯৫
স্বরলিপি মেনে চলো
সঠিক সুরে থাক পথ
এমন নয় লঘু বয়সে
কাদা ঘেঁটে সার হল
ধূলোবালি মাখা চরনে
এলেই কি ঈশ্বর রুপ!
চেয়ারে প্রেম থাকে থাক
মাটিও নরম থাক বুকে
শ্বাসে বিশ্বাস জন্মান্তর
স্বরলিপি মেনে চলো।
৯৬
হাড়ে দুব্বা গজানোর আগে
মাটির কাছে নতজানু হ মন
মনের ভিতর বাঁশের বাঁশরী হাতে
দাঁড়িয়ে আছে যে হারামজাদা
তাকে গুরু মানে বখাটে ছেলে।
বুকে কার উল্কি আঁকা অকারন
বারনের পিঠে বসে গণতন্ত্র
সন্ধি ভুল জপে তসবি ধরে
সাঁই আমাকে আপন করো প্রেমে
ভেসে যাই নদী পথে বহুদূর
ঘাসে ঘাসে শিশিরের দীর্ঘ লম্ফন
সয়ে যায় অসহায় গঙ্গা ফড়িং
মাটির কাছে নতজানু হ মন
বাঁশীতে ফুঁ দে হারামজাদা।
৯৭
প্রতিদিন ভয় পেয়ে চামড়া কুঁচকে আসে
বলিরেখা জেঁকে বসে যাপনে
থালা থেকে হারিয়ে যায় প্রিয় খাবার
ঋতু বদল ধরে বাঁকা শিরদাঁড়া
প্রতিদিন আকাশ হেলে যায় একটু একটু করে
আতঙ্কতাড়িত হাওয়া গোটা পাড়া
কাঁপিয়ে পাহারা দেয় মোড়ে মোড়ে
তারপর দরজার কড়া বেজে ওঠে।
এখানে কেউ অজাতশত্রু নেই
লাঠিয়াল ধরে অধিগ্রহণ হেতু জমিতে
এপিটাফ লেখার সাহস নেই কারো
সব মাঈ কা লাল দুধ খেয়ে মানুষ।
প্রতিদিন ভয় পেতে পেতে ভালো ছেলে
নীরবে হেঁটে যায় রাতের দিকে।
৯৮
আরও কিছু শব্দ জমা হলে
গুছিয়ে নেবো কাঁধের ঝোলা
তাতে কিছু বিশ্বাস, অনেকটা প্রেম
আর সমুদ্র সৈকতের বালি থাকবে
ইউনিকর্নের চোখে থাকে স্বপ্ন
যার টানে মুসাফির কাঁদে
অলীক নয় এই পথ চলার শেষ
ছায়াপথ জুড়ে ধ্যান শুয়ে থাকে
অক্ষরের দিব্যি দিয়ে লিখি যে
গোটা বাক্যে একজন প্রেমিক
আরও কিছু প্রিয় শব্দ জমুক
তারপর ভন্ডামী ছেড়ে দেবো।
৯৯
চাঁদের অপর পিঠে হেঁটে গেলে প্রেম
পিঁড়ি পাতে পথে জালিম জমানা
লা ইলাহা বুকে প্রেম নাচে বয়সে
ঋতু মেনে রঙ লাগে না নজরে
বেমিসাল হদ পার করে জিয়া
ধড়কন তোর জন্য বাঁচিয়ে রাখি
হে কৃষ্ণ নবীমন চায় ক্রুশিফায়ার
মক্কা, বৃন্দাবন,বেথলেহেম আয় হাতে
চাঁদের অপর পিঠে হেঁটে গেলে প্রেম
এদিকে জমানা ডাকে এমনি এমনি...

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন