![]() |
| অভিমানী : সিদ্ধার্থ সিংহ |
না। একে তাকে ধরে, গেম টিচারের কাছে হাজার অনুনয়-বিনয় করেও স্কুলের ক্রিকেট টিমে জায়গা হল না তিমিরের। যতই সে ভাল খেলুক। ছুটে আসা এক-একটা আগুনের গোলাকে মেরে যতই তালগাছের উপর দিয়ে গ্রামের সীমানার ও পারে পাঠাক, চিলের চেয়েও ক্ষিপ্র গতিতে উড়ে গিয়ে বাতাসের কবল থেকে ছোঁ মেরে লুফে নিক এক-একটা বল, ব্যাটে কোনও রকমে বল ছুঁইয়েই চিতাবাঘের মতো দৌড়ে এক রানের জায়গায় নিয়ে নিক তিন রান, তবু কোনও স্কুল টিমে চান্স পাওয়ার জন্য শুধু এগুলোই যথেষ্ট নয়, তার জন্য অন্য কিছু লাগে।
তা হলে কী হবে! তিমির জিজ্ঞেস করতেই, গেম টিচার বললেন, তুই একটা কাজ কর। তুই বরং খো খো-য় নাম লেখা। ওখানে এখনও জায়গা আছে। দেরি করলে ওটাও হাতছাড়া হয়ে যাবে।
শেষ পর্যন্ত খো খো! হ্যাঁ, ছোটবেলা থেকে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে সে খো খো খেলেছে ঠিকই, কিন্তু তা বলে... ক্রিকেট থেকে একেবারে খো খো-য়!
ওর বাবা বলেন, যে কাজই করবি, সেটা যদি জুতো সেলাইও হয়, সেটাও মন দিয়ে করবি। দেখবি, একদিন না একদিন ঠিক তার কদর পাবি।
গেম টিচার বললেন, কী করবি বল?
গত বছর ওর ক্লাসেরই এক বন্ধু খো খো-য় নাম লিখিয়েছিল। এত খেলা থাকতে ও কেন খো খো-য় নাম লেখাল, জিজ্ঞেস করতেই ও বলেছিল, দ্যাখ, ক্রিকেট খেলতে গেলে যা খরচা হয়, তা আমাদের মতো তস্যগ্রামের হা-ভাতে ঘরের ছেলেদের পক্ষে সম্ভব নয়। তুই তো জানিস, আমার বাবা পরের পুকুরে মাছ ধরে। তাতে আর ক’টাকাই বা পায়, বল! অথচ ক্রিটেক খেলতে গেলে… একটা কিটসেরই কত দাম! অথচ খো খো খেলতে গেলে প্রায় কিছুই লাগে না। শুধু লাগে— অফুরন্ত দম, গতি, কৌশল, শক্তি, ক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা আর ভারসাম্য বজায় রাখা। ব্যাস। এগুলি হলেই হল।
ওর আর এক বন্ধু বলেছিল, আমাদের দেশে এই মুহূর্তে কত ছেলে ক্রিকেট খেলছে জানিস? পাড়ায় পাড়ায়, অলিতে গলিতে কত ক্রিকেট কোচিং সেন্টার গজিয়ে উঠেছে জানিস? যদি দশ লক্ষ ছেলেও খেলে, তার মধ্যে ক’জন চান্স পাবে বল তো? খুব বেশি হলে কুড়ি জন। তার মানে দলে জায়গা পেতে গেলে তোকে কত জনের সঙ্গে লড়তে হবে? সেই তুলনায় খো খো-য় তো ভিড় অনেক কম। আর তা ছাড়া, এটা হচ্ছে আমাদের দেশীয় খেলা। সেটা ছেড়ে আমরা কেন বিদেশের খেলা খেলতে যাব, বল?
মনের মধ্যে খুঁতখুঁত করলেও ওই কথাগুলো মনে পড়তেই তিমির বলল, ঠিক আছে, তা হলে তা-ই করি…
গেম টিচার বললেন, তা হলে কাল সকালে মাঠে চলে আসিস।
এমনিতেই খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে ও। ক’দিন ধরে আরও ভোরে উঠছে। উঠেই, কাঁচালঙ্কা আর নুন দিয়ে পান্তাভাত খেয়েই স্কুলের মাঠে চলে আসছে। সেখানে একেবারে নিয়ম মেনে কোর্ট কাটা হয়েছে। প্রতিদিন খেলার আগে গেম টিচারের দেখিয়ে দেওয়া কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করছে। এ মাথা থেকে ও মাথা দৌড়োচ্ছে।
গেম টিচার আগেই বলে দিয়েছেন, তোরা আগে যে ভাবে খো খো খেলতিস, সেটা ভুলে যা। মনে রাখবি এটা একটা দলগত খেলা। এক দল চেজ করে অন্য দল ডিফেন্স।
যারা চেজ করে, সেই দলের ন’জনের আট জন দু’দিকের দুই খুঁটির মাঝ বরাবর সমান্তরাল রেখাকে প্রস্থের দুই প্রান্ত ছুঁয়ে যে আটটি সমান দূরত্বের রেখা ভেদ করেছে, সেই আটটি সংযোগ স্থলে গিয়ে বসে। পরস্পর বিপরীতমুখী হয়ে। আর নবম জন দু’দিকের যে কোনও একটি খুঁটির কাছ থেকে চেজিং শুরু করে। চেজ মানে দৌড়ে গিয়ে ডিফেন্ডারকে ছোঁয়া। ছুঁলেই আউট। এই চেজারের মুখ যে দিকে থাকে তাকে সে দিকেই ছুটতে হয়। সে পিছন ফিরতে পারে না। পিছন দিকে যেতে গেলে সামনের খুঁটির ও পাশ থেকে ঘুরে আসতে হয়। এমনকী চেজারদের মাঝখান দিয়েও গলে যেতে পারে না।
আর যারা ডিফেন্স করে, তাদের ন’জন খেলোয়াড়ও একসঙ্গে মাঠে নামে না। সেই ন’জনকে দক্ষতা আর যোগ্যতা অনুযায়ী তিন জন করে তিনটে উপদলে ভাগ করা হয়। প্রথমে একটি উপদল নামে। তারা ম’র হয়ে গেলে, মানে আউট হয়ে গেলে পরের উপদলটি নামে। তারা ম’র হওয়ার পর শেষ উপদলটি। এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি তিনটি উপদলই ম’র হয়ে যায়, তা হলে আবার প্রথম উপদলটি নামে।
না। ন’মিনিট করে নয়। ওটা বড়দের জন্য। তাদের বয়েস যেহেতু আন্ডার টুয়েলভ, তাই সাত মিনিট করে এক-একটি পর্ব। মোট চারটি পর্বের খেলা। সাত-তিন-সাত-ছয়-সাত-তিন-সাত ছকে। আগের পর্বে যারা চেজিং করে, পরের পর্বে তারা ডিফেন্স করে। খেলা শেষে চেজাররা যত জনকে ম’র করে, তারা তত পয়েন্ট পায়। যে দল বেশি পয়েন্ট পায়, তারাই বিজয়ী হয়।
বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে চেজার আক্রমণ শুরু করেছে। যখন কোনও চেজার কোনও ডিফেন্ডারকে নাগালে পায়নি, তখন দুই খুঁটির মাঝ বরাবর বসে থাকা সব চেয়ে কাছের চেজারের পিঠ ছুঁয়ে ‘খো’ বলেছে। ‘খো’ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ও উঠে পড়েছে। আর তার জায়গায় বসে পড়েছে, যে তাকে ‘খো’ দিয়েছে, সে।
ক’দিন প্র্যাকটিস করেই সবাই মোটামুটি সড়গড় হয়ে গেছে। তবু গেম টিচার বললেন, কালকে কলকাতা থেকে বলরামবাবু আসবেন। দু’দিন থাকবেন। তিনি শুধু খো খো-র প্রশিক্ষকই নন, রাজ্য খো খো সংস্থার যুগ্ম সম্পাদকও। উনি তোদের পারফরম্যান্স দেখে ঠিক করে দেবেন কে কে টিমে থাকবে। কালকেই। সুতরাং কাল যে আসবে না, স্কুল টিমে তার আর জায়গা হবে না।
বলরামবাবু আসতেই, স্কুল পরিচালন কমিটির এক সদস্য তাঁকে বললেন, ‘এখানে খুব সাপের উপদ্রপ। রাত্রে আরও বাড়ে। আপনি বরং আমাদের বাড়িতে থাকবেন, চলুন।’ কিন্তু বলরামবাবু রাজি হলেন না। তাই তাঁর থাকার ব্যবস্থা হল স্কুলেরই একটি ঘরে।
ছেলেরা একটু আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। খানিক বাদেই গেম টিচারের সঙ্গে বলরামবাবুও মাঠে এলেন। এসেই বললেন, তোমরা খো খো খেলতে এসেছ। খুব ভাল কথা। কিন্তু তোমরা সবাই ভালবেসেই খো খো খেলতে এসেছ তো? নাকি, অন্য খেলায় সুযোগ পাওনি দেখে খো খো-য় এসেছ? যদি দ্বিতীয়টা হয়, তবে সাবধান। এ খেলা কিন্তু ভীষণ অভিমানী। তাকে ভালবেসে তার কাছে না এলে, সেও সহজে কাউকে কাছে টেনে নেয় না। বরং ছলে বলে কৌশলে ঠিক দূরে সরিয়ে দেয়। এটা মনে রেখো। কেমন?
আর একটা কথা, এই খেলায় সব চেয়ে সুবিধে হল, এতে খেলোয়াড় খাটো হলে ডিফেন্সের সময় যেমন ভড়কি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুবিধে পায়, তেমনি লম্বা হলেও চেজিংয়ের সময় বড় বড় পা ফেলে ছুটে গিয়ে অনেক দূর থেকেই হাত বাড়িয়ে ডিফেন্ডারকে ম’র করে দিতে পারে। তাই আমরা দু’ধরনের খেলোয়াড়কেই দু’রকম ভাবে তালিম দেব।
তবে তার আগে, এটা যেহেতু গ্রাম, ইনডোরে ম্যাট্রেসের উপরে ম্যাটের জুতো পরে তোমরা খেলছ না, তাই খো খো খেলার জন্য যেখানে কোর্ট কাটা হবে, সেই জায়গাটা আগে ভাল করে পরিষ্কার করে নেবে। যাতে সেখানে কোনও ইটের টুকরো বা ভাঁড় ভাঙা মাথা তুলে না থাকে। এতে ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবু হাতের কাছে সব সময় একটা ফার্স্ট এইড বক্স রাখবে।
এ সব বলে, ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যাবার আগে বলরামবাবু বলেছিলেন, তবে তোমরা কে কে শেষ পর্যন্ত স্কুল টিমে থাকবে, তা তোমাদের দৌড়, টার্নিং, ব্যালান্স আর খেলার কৌশল দেখার পরেই আমি ঠিক করব। তোমরা তিনটে নাগাদ চলে এসো। ঠিক আছে?
প্রত্যেকেই ঘাড় কাত করেছিল।
স্কুল টিমে কে কে চান্স পাবে আজই তার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তাই তিনটের আগেই সবাই মাঠে চলে এসেছে। এসেছেন বলরামবাবুও। কিন্তু খেলা শুরু হতে না-হতেই উনি খেলা থামিয়ে দিলেন। গেম টিচারকে বললেন, খুঁটি দুটোতে এত গাঁট কেন? ভাল করে চেঁছে একদম মসৃণ করে নেবেন। কারণ, চেজাররা যখন দৌড়ে গিয়ে ওটা ধরে বাঁক নেবে, তখন ওই গাঁটে লেগে হাতের তালু ছড়ে যেতে পারে। আর এমন ভাবে পোলটা পুঁতবেন, যাতে মাটির উপরে একশো কুড়ি সেন্টিমিটার দাঁড়িয়ে থাকে। এটাই নিয়ম। তাতে লম্বা হলেও কোনও খেলোয়াড়ের কোনও অসুবিধে হবে না।
ফের খেলা শুরু হল। খানিকক্ষণ পরেই উনি আবার খেলা থামিয়ে দিলেন। চেজারকে বললেন, নিজের গতি কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করো। ডিফেন্ডার ঝট করে সেন্টার লাইনের ও পারে চলে গেল, আর তুমি নিজের গতি সামলাতে না পেরে অতটা চলে গেলে! অতটা গিয়ে তুমি যাকে খো দিলে, সে যখন উঠে দাঁড়াল, ততক্ষণে ডিফেন্ডার তো নিরাপদ জায়গায় চলে গেল। তোমার যা গতি ছিল, তুমি যদি হাত বাড়িয়ে নিজেকে ওর দিকে ছুড়ে দিতে, তা হলে ও ঠিকই আউট হয়ে যেত। সব সময় বুদ্ধি করে খেলো। বুদ্ধি করে।
তোমাকে কী করতে হবে? ছুঁতে হবে। ফুটবল খেলার সময় যেমন বল বেশিক্ষণ পায়ে ধরে রাখতে নেই, তাতে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় এসে বল কেড়ে নিতে পারে, এখানেও তেমনি। পাস করো, পাস। যে সামনে আছে, তাতে খো দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আর যে সব চেজার বসে আছ, তারা একদম রেডি থাকো। যাতে খো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঝাঁপিয়ে পড়তে পারো, বুঝেছ?
তিমিরের হঠাৎ মনে হল, বলরামবাবু যা বলছেন, তাতে তো মনে হয় এটা আসলে একটা ছোঁয়াছুঁয়ির খেলা। ডিফেন্ডারকে আউট করতে হলে ছুঁতে হবে। আর এই খেলায় টিকে থাকতে হলে চেজারের ছোঁয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মানে সবটাই ছোঁয়াছুঁয়ির ব্যাপার। আহা, এটা যদি ছেলেদের সঙ্গে মেয়েদের হত! ভাবতে ভাবতে একটু অন্য মনস্ক হয়ে গিয়েছিল তিমির। ঠিক তখনই—
তোমাকে আর একটা কথা বলি। বলেই, উনি তিমিরকে বললেন, তুমি ওই পোলটাকে ধরে বাঁক নেওয়ার সময় নিজের ভারসাম্যটাকে ধরে রাখতে পারলে না কেন? শরীরটা ও দিকে এতটা ঝুঁকিয়ে দিলে যে আর একটু হলেই পোলটা ভেঙে যেত। ভাঙলে কী হত জানো? এর মধ্যে তোমরা যে পাঁচ জনকে ম’র করেছ, সেটা বাতিল হয়ে যেত। নাও নাও, শুরু করো...
আবার বাঁশি বেজে উঠল।
তিমির খুঁটির কাছে গিয়ে দাঁড়াল। এ বার সে চেজ করার জন্য এগোবে। সে এখন অনূর্ধ্ব বারোয় খেলছে। এর পর অনূর্ধ্ব চোদ্দোয় খেলবে। তার পর অনূর্ধ্ব উনিশে। স্কুল লেবেলে ঠিক মতো খেলতে পারলে এখান থেকেই সোজা জেলার টিমে। জেলা থেকে রাজ্য। রাজ্য থেকে জাতীয় টিমে।
না, জাতীয় টিমে নয়, গত বছর রাজ্যস্তরে চান্স পেয়েছিল তাদের গ্রামেরই এক ছেলে— নবাকু। সে তাকে বলেছিল, সে বার তাদের খেলা পড়েছিল কলকাতায়। রেড রোডের পাশে। রাজ্যস্তরের খেলা বলে কথা! সারা রাত দু’চোখের পাতা ও এক করতে পারেনি। শুধু স্বপ্ন দেখেছে। এমনিই, পাড়ায় পাড়ায় ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের সামান্য ম্যাচ হলেও কী ভিড় হয়ে যায়! সেখানে এটা তো রাজ্যস্তরের খেলা। সব ক’টা রাজ্য একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়বে। লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে। গ্যালারি উপচে ভিড় নেমে আসবে মাঠে। এক-একজন ম’র হলেই উল্লাসে ফেটে পড়বে গোটা মাঠ। যে দলই জিতুক, তাদের সাপোর্টাররা বাজি ফাটিয়ে কান ঝালাপালা করে দেবে। আকাশ ভরে যাবে রঙে রঙে।
কিন্তু সে যখন মাঠে গিয়ে পৌঁছল, প্রথমে ভেবেছিল, সে বুঝি ভুল করে অন্য কোথাও চলে এসেছে। কিন্তু যখন জানতে পারল, না। এটাই সেই মাঠ, তখন শুধু অবাকই নয়, একেবারে হতাশ হয়ে গিয়েছিল।
মাঠ কোথায়! এটা তো মাত্র কয়েক হাত জমি! গ্যালারি তো অনেক দূরের কথা, একজন দর্শকও নেই। যারা খেলবে শুধু তারাই এসেছে। এ রকম যে হতে পারে তার ধারণাই ছিল না।
সে বলেছিল, রাজ্যস্তরের খেলার কথা। কিন্তু রাজ্যস্তরে অমনটা হলেও তিমিরের দৃঢ় বিশ্বাস, জাতীয় স্তরে নিশ্চয়ই অতটা খারাপ অবস্থা হবে না। তাই মাঠে দাঁড়িয়ে তিমিরের মনে হল, স্কুল টিমে জায়গা পাওয়ার জন্য নয়, ও খেলতে নেমেছে জাতীয় দলের হয়ে। সামনেই কোর্টের মধ্যে তিন জন ডিফেন্ডার। কে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে ভাল করে দেখে নিচ্ছে ও। একজনকে টার্গেটও করে ফেলেছে। নিজে না পারলেও যে আট জন সঙ্গী সেন্টার লাইনে বিপরীতমুখী হয়ে পর পর বসে আছে, ও তাদের কাউকে না কাউকে ঠিক খো দিয়ে দেবে তাকে আউট করার জন্য।
খুঁটির কাছে দাঁড়িয়ে শেষ বারের মতো ও যখন দেখে নিচ্ছে ডিফেন্ডাররা কে কোথায়, ঠিক তখনই কান বিদীর্ণ করা একটা চিৎকার ভেসে এল বহু দূর থেকে। ওর চোখ চলে গেল সে দিকে। ও দেখল, ওর ছোট ভাই ওর নাম ধরে চিৎকার করে ডাকতে ডাকতে ছুটে আসছে। ওই ভাবে একটা ছেলেকে ছুটে আসতে দেখে বলরামবাবুও থমকে গেলেন। গেম টিচারও বাঁশি বাজাতে ভুলে গেলেন। তিমিরও দাঁড়িয়ে পড়ল।
ছেলেটা সামনে এসে হাঁফাতে হাঁফাতে তিমিরকে বলল, দাদা, এক্ষুনি বাড়ি চল। বাবাকে সাপে কেটেছে।
সেটা শুনে তিমির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দিকে ছুট লাগাল।
গেম টিচার চেঁচিয়ে উঠলেন, কীরে, কোথায় যাচ্ছিস? দাঁড়া দাঁড়া দাঁড়া। এ ভাবে চলে গেলে তোর নাম কিন্তু স্কুল টিম থেকে বাদ পড়ে যাবে। ফিরে আয়, ফিরে আয় বলছি। এই ভাবে চলে যাস না।
কিন্তু ফেরা তো দূরের কথা, তিমির পিছন ফিরেও তাকাল না। সোজা ছুটতে লাগল বাড়ির দিকে।
বাবাকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরে ডাক্তারবাবু যখন বললেন, ‘আর ভয়ের কোনও কারণ নেই’ তখন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিমিরের হঠাৎ মনে হল, বলরামবাবু ঠিকই বলেছিলেন, খো খো খেলা খুব অভিমানী। ভালবেসে তার কাছে না এলে, সেও সহজে কাউকে কাছে টেনে নেয় না। যে ভাবেই হোক, ছলে বলে কৌশলে ঠিক দূরে সরিয়ে দেয়, দূরে।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন