ইচ্ছে পূরণ : কাজী নিজামউদ্দীন

 কাজী নিজামউদ্দীন
ইচ্ছে পূরণ 


সেদিন সন্ধ্যায় অরূপ আর বেলা ঝিলের পারে একটা মস্ত গুঁড়িওয়ালা অশত্থ গাছের নীচে বসে ছিল।আলো আঁধারি রাস্তার ওপাশের আলো ঝিলের জলে এসে পড়েছে।পিছনের পার্কের আলোয় সব কিছুই দেখা যায়।অরূপ আর বেলা একসঙ্গে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে।এখন দুজনেই কলেজে পড়ায়।বিয়ে টা আর হয়ে ওঠে নি।অরূপ দিল্লীতে আর বেলা শিলিগুড়িতে।একটা কনফারেন্সে ওরা দুজনেই প্ল্যান করে কলকাতায় এসেছে।নলবনের ঝিলের ধারে ওরা বসে আছে।বেলা হঠাৎ বলে উঠল আচ্ছা ধরো আমরা যদি একসঙ্গে একসময়ে দুজন মারা যাই।অরূপ বললো সে বেশ হবে।একসঙ্গে বাঁচতে তো আর পারি নি।মরনই সই। আমার কেমন যেন ভয় করে জানো।যদি আমি বাঁচি আর তুমি যদি না থাকো।কাকে বলবো কষ্টের কথা।আনন্দের কথা।বেলা বলে ওঠে।অরূপ বলে হ্যাঁ তুমি না থাকলে কে মনে পড়িয়ে দেবে সুগার এর ওষুধ।প্রেসার মাপা।ডাক্তার দেখানো।ব্লাড টেস্ট?

কিন্তু বেলা তোমার মনে আছে?এই অশত্থগাছটির কাছে আমরা উইশফুলফিলমেন্ট প্রেয়ার করতাম?আর সবই তো পেয়ে যেতাম।এ তুমি ভালো ই বলেছ।আমাদের মৃত্যু এবার একই সঙ্গে হবে দেখো।
বেলার চোখ জলে ভরে উঠল।সে যেন ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।কি হল? অরূপ শুধালো।একটু সামলে নিয়ে বেলা বলল।আমি কতো স্বার্থপর কতো নিষ্ঠুর দেখো।তোমার মৃত্যু ও চেয়ে নিলাম।আমাকে ক্ষমা কোরো।
দূর পাগল।সে আর হয় নাকি?

হলে তো ভালো ই হবে।চলো আজ কমন ডিনার আছে হায়াত রিজেন্সিতে।গভর্নর সাহেব আসবেন।এই বলে ওরা হোটেলে ফিরে তৈরি হয়ে নিল।

অরূপ ফিরে যাওয়ার দিনেও বেলা খুব কেঁদেছিল। এর ঠিক তিনমাস পরে অরূপের ডেঙ্গি ধরা পড়লো।দিল্লীতে দেখাশোনার অভাব হবে বেলা কলকাতায় অরূপ কে নিয়ে এলো।নার্সিংহোমে চব্বিশ ঘন্টা অরূপের দেখাশোনা করলো।কিন্তু প্লেটলেট ফল করতে লাগলো।একদিন সকালে চিন্তা করতে করতে বেলা নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়লো।ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।বেলা অরূপের পাশের বেডে কেবিনে নিথর হয়ে পড়ে রইল।সকালে ভিজিটিং ডক্টর এসে আঁতকে উঠলেন-- ওহ নো।ঠিক তিন  মাসের মাথায় ওদের ইচ্ছেপূরণ হল।প্রতিবার যেমনটি হয়েছে।
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.