![]() |
| রতন বসাক |
আমাদের প্রত্যেকের জীবনে পরিবেশের দান অপরিসীম ও অতুলনীয় । সুন্দর পরিবেশ ছাড়া আমরা এক পা'ও এগোতে পারি না । সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে বাঁচার জন্য সুন্দর, নির্মল ও পরিষ্কার পরিবেশের প্রয়োজন আছে প্রত্যেকের । পরিবেশ আমাদের জীবনে অনেক প্রভাব ফেলে । এই পরিবেশের ওপর নির্ভর করেই আমরা কেউ শক্ত সমর্থক হই, আবার কেউ দুর্বল প্রকৃতির হই । দেখা গেছে সমতলভূমির মানুষের থেকে পাহাড়ি এলাকার মানুষেরা একটু শক্তপোক্ত ধরণের হয় । সাধারণ মানুষেরা যতটা না কাজ করতে পারে, তার থেকে অনেক কঠিন ও বেশি কাজ করতে পারে পাহাড়ি এলাকার মানুষেরা ।
আমাদের এই পৃথিবীর ভূখণ্ডে এক-এক জায়গায় এক-এক রকমের পরিবেশ দেখা যায় । কোথাও শীতল তো কোথাও গরম, আবার কোথাও শুষ্ক তো কোথাও অনবরত বৃষ্টি ধারা বইছে । আবার এও দেখা গেছে কোথাও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ । এই পরিবেশের ওপরেই মানুষের কর্মদক্ষতা নির্ভর করে । মানুষের বুদ্ধির বিকাশও পরিবেশের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে থাকে । পরিবেশ অনুকূল হলে জীবন সহজ হয় আর প্রতিকূল হলে জীবন কঠিনময় হয়ে পড়ে । পরিবেশকে আমরা কোন সময় অবহেলা করতে পারি না ; এতে আমাদেরই নিজেদেরই ক্ষতি হয় ।
আমাদের এই পৃথিবীতে তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল আছে । আর একদম শুরুতে গিয়ে দেখলে, দেখা যাবে যে তখন বন জঙ্গলে ও সবুজে ঘেরা ছিল সমস্ত ভূখণ্ড । এরপর ধীরে ধীরে মানুষের বিস্তার হতে থাকলো আর বন জঙ্গল কেটে শহরের পর শহর তৈরী করতে থাকলো । মানুষের দৈনিন্দন চাহিদার প্রয়োজন মেটানোর জন্যই বিভিন্ন কলকারখানা ও মোটর গাড়ির উদ্ভাবন হলো । আর সেইসঙ্গে পরিবেশে বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রার পরিমাণও বাড়তে থাকলো ।জীবনের জন্য অক্সিজেনের মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বাড়তে থাকলো ।
সবুজায়নের কমে যাওয়ার জন্যই পৃথিবীতে উষ্ণতার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে । যার ফলে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে সমুদ্রে জলের পরিমাণ বাড়ছে ধীরে ধীরে । আর এই ভাবে যদি বরফ গলতে থাকে আর সমুদ্রের জলের লেভেল বাড়তে থাকে । তাহলে এই পৃথিবীতে যেটুকু স্থল আছে তার পুরোটাই একদিন জলের নিচে চলে যাবে । মানুষের বেঁচে থাকার মতো স্থান আর পাওয়া যাবে না । বৃক্ষের পরিমাণ কমে যাওয়ার জন্যই যথার্থ পরিমাণে আজকাল বৃষ্টিপাতও হয় না । আর এতেই পৃথিবীর উষ্ণতা ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে ।
এখন সময় এসে গেছে আমাদের ভাববার আর দেরি না করে । যদিও অনেক দেরি হয়ে গেছে, তবুও হাতে এখনো সময় আছে কিছু একটা করার । পরিবেশের কথা আমাদের প্রত্যেকের মাথায় রেখে পরিবেশের জন্য কিছু করা । পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে তবেই আমরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারব । একজন দুজন নয় আমাদের প্রত্যেককেই এখন খালি জায়গায় একটা করে গাছ লাগাতে হবে প্রতিদিন এবং তার পরিচর্যাও করতে হবে যতদিন না গাছটি বড় হয়ে যায় । বৃক্ষই একমাত্র আমাদের উপকারী বন্ধু যে আমাদের খাদ্য দেয়, অক্সিজেন দেয় ও পরিবেশকে পরিষ্কার করে রাখে ।
এছাড়া নোংরা আবর্জনা আমরা গঙ্গা কিংবা কোন জলাশয়ে ফেলবো না ও অপরিষ্কার হতে দেব না । পৃথিবীতে শুদ্ধ পানীয় জলের পরিমাণ অনেক কম । তাই জলের অপচয় করব না ও কাউকে করতেও দেব না । জলের অপর নাম জীবন তাই জলকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে পুকুর, খাল, বিল কেটে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ করে । অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া মোটর গাড়ির ব্যবহার আমরা করব না । সাইকেল ও পা'য়ে চালানো রিকশার ব্যবহার করাই ঠিক হবে । আমার আশপাশ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । ময়লা আবর্জনা একটা নির্দিষ্ট স্থানেই ফেলতে হবে । এবং তার রিসাইকেলের ব্যবস্থাও করতে হবে ।
পরিবেশের উন্নতির জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে নিজের মন থেকে । পরিবেশকে কিভাবে আরো পরিষ্কার ও সুন্দর করা যায় সে কথা ভাবতে হবে সবাইকেই । অজ্ঞ ও নিরক্ষর মানুষদের বোঝাতে হবে পরিবেশের গুণাবলী । পাড়ার বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগে আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করার জন্য সবাই মিলে এগিয়ে আসতে হবে । পরিবেশ সচেতনতা প্রোগ্রাম করে সবাইকে বোঝাতে হবে । পরিবেশকে যদি আমরা ভালোবাসি, পরিবেশও আমাদেরকে অবশ্যই ভালোবাসবে । পরিবেশকে সুন্দর ও স্বচ্ছ বানাতে যা যা করার প্রয়োজন তাই তাই অবশ্যই করতে হবে । কেননা পরিবেশ আমাদের জীবনে বিশাল প্রভাব বিস্তার করে আছে । পরিবেশকে নষ্ট করেও তাকে অস্বীকার করে আমরা বাঁচতে পারি না ভালোভাবে ।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন