টাঁকশাল কাহিনি : পিনাকী চৌধুরী

পিনাকী চৌধুরী   

টাঁকশাল কাহিনি

পিনাকী চৌধুরী   

আপনি আমি যা কিছু কাজ করি তা শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে ! কেউ হয়তো বেশি অর্থ উপার্জন করে, আবার কেউ তুলনায় কম ! তবে আজ এই একবিংশ শতাব্দীর চরম ব্যস্ততার যুগে দাঁড়িয়েও বলতে হয় টাকার কোনো বিকল্প নেই !( যদিও শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেব বলে গেছেন " টাকা মাটি, মাটি টাকা ) কিন্তু টাকার এই নতুন প্রতীক ₹ এর প্রচলন কবে শুরু হল ? ২০১০ সালের ১৫ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট রুপির একটি নতুন প্রতীক নির্বাচন করেন। এই নতুন প্রতীক '₹' আসলে দেবনাগরী ( র ) এবং রোমান বড় হাতের R অক্ষরদুটির সমন্বয়ে গঠিত!  ১৭৫৯ -৬০ সালের সেইসব সাদা কালো দিনে কলকাতায় প্রথম টাঁকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়।ওই টাঁকশালের নাম ছিল' ক্যালকাটা মিন্ট' ,এখান থেকে কিন্তু মুর্শিদাবাদের নামে মুদ্রা উৎপাদিত হত! ১৭৯০ সাল নাগাদ ইংল্যান্ড থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি এনে দ্বিতীয় ক্যালকাটা মিন্ট' স্থাপন করা হয়।  ১৮২৪ সালের মার্চ মাসে তৃতীয় টাঁকশালের শিলান্যাস করা হয় । তদানীন্তন স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত ওই টাঁকশালটির নাম ছিল' ওল্ড সিলভার মিন্ট' ! এখানে মুদ্রা উৎপাদন ছাড়াও ব্রিটিশ যুগের নানা ধরনের পদক এই টাঁকশাল থেকে নির্মিত হত ! সময় থেমে থাকেনি ! তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল ! ১৯৫২ সালে এই টাঁকশালটি আলিপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে তার আগে ১৯৩০ এর দশকে আলিপুরে একটি নতুন টাঁকশাল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৯৪২ এর গোড়ার দিকে, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার দরুণ সেই কাজ থমকে যায় ! অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ! ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিকে কাজ সম্পূর্ণ হয় । আর ১৯৫২ সালের ১৯ মার্চ ভারতের তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী সি. ডি দেশমুখ এই নতুন ভবনটির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে মাঝেরহাটের সামান্য আগে এই টাঁকশালটি হয়তো সবার নজর কাড়ে ! বর্তমানে সেই প্রসিদ্ধ টাঁকশালটি 'ভারত সরকার টাঁকশাল, কলকাতা' নামেই সুপরিচিত ! এমনকি এখানকার বাস স্টপেজ 'মিন্ট স্টপেজ' নামেই সকলে চেনেন !
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.