মানুষ চেনার পাঠ : পিনাকী চৌধুরী

 পিনাকী চৌধুরী
মানুষ চেনার পাঠ : পিনাকী চৌধুরী

 পুঁথিগত শিক্ষা থাকলেই যে আপনি মানুষ চিনতে সক্ষম হবেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই ! জীবন বড়ই জটিল, আর জীবনের সবথেকে দুরুহ কাজ হল একজন মানুষকে চেনা! দীর্ঘদিন কারণে অকারণে মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছি, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ, এমনকি সমাজের প্রান্তিক মানুষজনকে খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছি! আপাতদৃষ্টিতে সবাই অমায়িক, সবাই so called ভদ্রলোক, কিন্তু কিছুতেই যেন তাঁদের ঠিকমতো চিনতে পারিনি আজও! 

হ্যাঁ, অতিরঞ্জিত না করেই বলছি, সমাজের প্রতিটি মানুষই মুখোশের আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন! মুশকিলটা হল, রঙ চটে গিয়ে খড়ের কাঠামোটি বেরিয়ে পড়লেই কিন্তু বোঝা যায় উদ্দিষ্ট মানুষটি কেমন! একশ্রেণীর মানুষ আছেন যাঁদের মুখে মিষ্টি, কিন্তু অন্তরে বিষ! শহরের আনাচে কানাচে এখনও বহু মানুষ রয়েছেন যাঁরা কিনা নিজেদের জাহির করতে বেশি পছন্দ করেন! যেকোনো মূল্যে তিনি সম্মান কিনতে আসরে নেমে পড়েন, এমনকি চরম মিথ্যাচার করেও! 

ভাবটা এমন যেন, সেই পাড়ার প্রতিটি গাছের পাতাও যেন তাঁর অঙ্গুলি হেলনে চলে !  এই ধরাধামে এমনও মানুষ সসম্মানে বিরাজমান, যিনি কিনা রাতারাতি নিজের অবস্থান বদল করেন! হ্যাঁ, নিজের স্বার্থসিদ্ধির তাগিদেই তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে শত্রু কে মিত্র এবং অবশ্যই মিত্র কে শত্রু বানিয়ে কাজ হাসিল করতে উদ্যত হন! সত্যি, এ বড়ই ভয়ঙ্কর প্রবণতা! 

আরেক শ্রেণীর কথা না বললেই নয়। নীতি ও আদর্শের কথা তাঁদের কাছে যেন তুচ্ছ ! হ্যাঁ, সেইসব মানুষজন কখনও কোনো চরিত্র সেজে অথবা কখনও আবার দু'কান কাটা চরিত্রহীন হয়ে নিরন্তর অভিনয় করে চলেছেন ! আজ বলতে দ্বিধা নেই যে, মানুষ তার মান আর হুঁশ হারিয়ে ফেলে অনেক নীচে নেমে গেছে ! তবে চোখে চোখ রেখে কথা বললে অসাধ্যসাধন হয়তোবা সম্ভব ! হ্যাঁ, অপর ব্যাক্তির চোখে চোখ রেখে যদি নম্র ভাবে কথা বলা যায় তাহলে অনেক 'গোপন' কথা বেরিয়ে আসতে বাধ্য ! অপর ব্যক্তির দিকে সুকৌশলে আঙুল তুলে আজকাল অনেকেই নিজের দোষত্রুটি গুলিকে এড়িয়ে যান, হ্যাঁ, নিজেকে তিনি কোনোমতেই সংশোধন করতে রাজি হননা! চরিত্র, নৈতিকতা, আদর্শ - এইসব শব্দগুলো বোধহয় অভিধানেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে! 

আজ প্রায় প্রতিটি মানুষ ভীষণ রকম aggressive!  যেকোনো উপায়ে তিনি আকাশে ডানা মেলতে উদ্যত হয়েছেন! যদিও কতিপয় ব্যতিক্রমী মানুষ আজও হয়তো রয়েছেন আমাদের সমাজে, যাঁরা কিনা আজও নিজের বিবেকের দ্বারা পরিচালিত হন , তাঁরা আজও ন্যায় কে জলাঞ্জলি দিতে পারেননি !  উচ্চাভিলাসী কোনো মহিলা যদি উচ্চস্বরে কথা বলেন, তাহলে বুঝতে হবে সেই পরিবারে কোনো শান্তি নেই , হ্যাঁ পরিবারের পুরুষ সদস্যদের থেকে মহিলার কন্ঠস্বরের তীব্রতায় অ-শান্তি অবশ্যম্ভাবী! পরিশেষে বলি, ভদ্রলোক সাজা আর সত্যিকারের ভালোমানুষ হাওয়া বোধহয় সমার্থক নয়। ধার্মিকের থেকে এখন বকধার্মিকের সংখ্যাটি অনেক বেশি সমাজে !


Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.