![]() |
| কিশলয় গুপ্ত |
নতুনের শপথ
যদিও অন্ধকার; বন্ধুকে হাত বাড়াতে ভয়
তবু এ শহর জানে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়
কীভাবে মানচিত্র এঁকে শস্য গোলা ঢাকে চাষী
কীভাবে নতুন বৃষ্টিতে কাদা ধুয়ে নেয় বানভাসি
"এ শহর ভালো জানে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়"
ক'টা ছায়াপথ পেরিয়ে আগুন মাড়াতে হয়
কতটা বারুদ জমিয়ে শত্রুকে হারাতে হয়
কোন পথে ফিরে আসে রাতের শেষ ট্রাম
চৌকিদার চেঁচায়- অনেক হয়েছে- বিশ্রাম
"এ শহর নিশ্চিত জানে কখন ঘুরে দাঁড়াতে হয়"
যদিও অন্ধকার; আঁধারের বল্কল ছাড়াতে হয়
বিপ্লব বেঁচে আছে। এখনও প্রতি পাড়াতে হয়
শুধু অসময়ে ঘরে ঘরে থাকে দুয়ার আঁটা
পিছনে ওৎ পেতে আছে চওড়া বুকের পাটা
"জানি তো, প্রতিটি যুদ্ধ বিশ্বাসের খাঁড়াতে জয়
এ শহর ভালো জানে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়"
এইমেয়েশোনবন্দীমানে
শর্তে নাকি প্রাতঃভ্রমন রাস্তা চলা বারন তো
পায়েরপাতা নকশাকাটা ফালতু হাঁটা কারণ তোর
তার পিছনে বাদ্য বাজে খাদ্য সকল বাড়ন্ত
এই মেয়ে তোর লাস্য ছবি হাস্য মানে চাস তো
তিনফসলী জমির উপর লাঙল চলা চাষ তোর
ব্যস্ত সকাল কলজে ধরে বিদ্যা মরে যে আস্ত
বর্গী এলে বঙ্গে আবার স্বর্গীয়রা ভাববে
অসামাজিক ফালতু চেঁচায় দু'ঠোঁট ভরে- আব্বে
দেখছি এবং শুনছি সবই রাখছি লিখে কাব্যে
গর্তে থাকা বীর পুঙ্গব প্রেমের নামে কাঁপছে
এই দ্যাখো না সুবিধাবাদী মানচিত্র আঁকছে
আমিও যদি ঘুমিয়ে পড়ি সত্যি বলছি পাপ সে
বলে গেছেন বাপ দাদারা আমরা নাকি আর্য
গোলক মারা ভূমিকম্প মাথায় মাথায় ধার্য্য
এলেম লাগে বুক থাবড়ে করতে কিছু কার্য
এই মেয়ে শোন বন্দী মানে বন্ধ ঘরের দরজা
অন্ধ চোখে মন্দ তো নয় নিত্য নতুন তরজা
বন্ধ কপাট কিন্তু সপাট কলজেখানা গর্জায়
অনন্ত এক একলা ছাদে
অনন্ত এক একলা ছাদে
একটা তারা এমনি কাঁদে
কান্না দেখে বৃষ্টি বোবা
গ্রহণ লাগে ফর্সা চাঁদে
অনন্ত এক একলা ছাদে
কাল বয়সীর আর্তনাদে
ফুল ঝরে যায় বৃন্ত ভুলে
স্বপ্ন তখন গভীর খাদে
অনন্ত এক একলা ছাদে
ষড়যন্ত্রী গল্প ফাঁদে
চরিত্ররা পর্ব মেনে
নিজের নিজের তল্পি বাঁধে
অনন্ত এক একলা ছাদে
চাঁদকে পেড়ে শুক্তো রাঁধে
চালাক চতুর মন প্রেমিকে
একটা তারা এমনি কাঁদে
বন্দী বন্দী খেলা
আজকে যদি আমায় নিয়ে অন্যে মাথা ঘামায়
করবো না আর আগের মতো ফোঁস
বলবো সবই ঠিক আঁধার ভরা চতুর্দিক
সবটা ছিল আমার একার দোষ
রোদ দেখেই লোকে কাঁদে আলতু ফালতু শোকে
ভিজিয়েছিল লক্ষ হাজার বালিশ
নোংরা কানায় কানায় বলো আর কাকেই মানায়
বাঁচার নামে কাঁধের ঝোলা খালি
দিনের শেষে সবে মাতে এ কীসের উৎসবে
আলোর নীচে নাচে নিরেট খুলি
রঙীন আলো জ্বেলে সব পিঁপড়ে পাখা মেলে
পায়ের কাছে বানায় নয়ানজুলি
আজকে যদি আমায় কেউ চলতে গেলে থামায়
কুর্নিশে থাক তাদের সকল সাহস
বলবো সবই ঠিক আঁধার ভরা চতুর্দিক
সবটা হবে আমার একার দোষ
সর্বনাশের কথা
আর কী আছে বুকের ভিতর
হাড়ের ভিতর অসুখ ভরা
ও মনমরা- আমায় কি তুই চাস
আমার যত পাগল হাওয়া
কষ্ট এবং মৃত্যু,জরা
পারবি নিতে সকল সর্বনাশ?
আর কী আছে রক্ত জুড়ে
আকাশ দ্যাখে অসুখী চোখ
গোটা নজর পথের খবর জানে
পান্থশালায় বসলে যখন
নেমে আসে অনন্ত শোক
প্রেমিক তখন গজল ধরে টানে।
আর কী আছে বুকের ভিতর
কলজে জুড়ে তুমুল খরা
এবং কিছু ফালতু কথার চাষ
আমার যত আঁধার গুলো
অনুভূতির দলটা মরা
পারবি নিতে সকল সর্বনাশ?
বিমূর্ত শিল্পজীবন
ভাঙা বুকটায় শোনে শ্লোগান
ফোটে ভাতে ভাত ভাতে সাতসুর
খুঁজি নুন কই এত গুন গাই
নিজে খুন হই তিন হাত দূর
বাজে কান্না মাঝে গান গাই
কত টান রয় নাচে হাড়ে হাড়
আর কী আঁধার চলা রাস্তায়
বলা শক্ত এ জীবন কার
ভাঙা স্বপ্ন কে জোড়া দেয়
উড়ে যাচ্ছে পাখী ময়না
কথা কয় না খিদে পাচ্ছে
কারা হাসছে দুখ হয় না?
বাজে রাত্রি ঝাঁঝে ইচ্ছা
খাঁজে থেকে যায় কত রাত। ধুর
ভাঙা বুকটায় শোনে শ্লোগান
ফোটে ভাতে ভাত ভাতে সাত সুর
কষ্ট পেতে তৈরী আছি
কষ্ট পেতে তৈরী আছি
সামলে রাখো কটাক্ষ চোখ
কালকে যদি আর না বাঁচি
আজকে মনের ফায়সালা হোক
তোমার পায়ে নূপুর বাঁধা
কাদের মুখে আশকারা গান
আমি দুখের খাচ্ছি আধা
হারাম চোখে মাশকারা টান
হাসছো তুমি আরামখাকী
কলম আমার লিখছে প্রলাপ
স্রোত পেরোনো সহজ নাকি
কী ভেবে এই চূড়ান্ত লাফ
বুকের হাড়ে সর্দি বসা
নজর জুড়ে বাধার প্রাচীর
এক বা দুটি তারাখসা
চিয়ার করে কানামাছি'র
কষ্ট পেতে তৈরী আছি
এমনি সময় ভুখা পেটে
গামছা কষে বেঁধে নাচি
সুখ তুমি সব নাও না চেটে
সকাল সকাল কয়েক পংক্তি
বানজারা মন টান ছাড়া থাকে আহ্লাদে
গান পাগলের সাথে তুই আজ পাল্লা দে
ভাটিয়ালী জানে কত সুখ মাঝি মাল্লাদের
যাযাবর ঝড় ঘর ঘর সুখ মন্দ নয়
পথের খেয়া ক্ষতের অসুখ বন্ধ নয়
দুই পা জানে হাড়ের চাওয়া অন্ধ নয়
রক্ত জড়ায় ধূলো মাটির কোন্দলে
চোখ বুঝে গেছে দুই হাত থাকে কোন দলে
কান খুলে রাখ চামড়াটা কী শোন বলে
বুকের আধা গোলকধাঁধার বন্ধকে
প্রশ্ন করে জানতে পারি অন্ধ'কে
এবং বুঝি কে ভালো আর মন্দ কে
সব ফতোয়ার সন্ধ্যা বেলা অস্ত হয়
ভাবতে ভাবতে স্বপ্ন ব্যথা মস্ত হয়
ভাবনার হুঁশ অকারনে অগ্যস্ত হয়

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন