![]() |
| কবি কাকে বলে : মৃদুল শ্রীমানী |
জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যার ঘটনার সূত্রে কবি কাকে বলে, তার একটা ধারণা গড়ে তুলেছি মনে মনে। সেদিন মাইকেল ও' ডায়ারের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ পঞ্জাবের নিরীহ জনতার উপর গুলি ছোঁড়ে, আর হতাহত হয় প্রচুর মানুষ ঢোকা ও বেরোনর পথ ছিল সংকীর্ণ, পুলিশের তরফে সভাস্থল খালি করে দেবার জন্যে সময় দেওয়া হয়েছিল সামান্য। আসলে ব্রিটিশ প্রশাসন চেয়েছিলেন এক অংশের ভারতীয়দের হত্যা করে অন্য অংশের ভারতীয়দের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে। ওরা সফল হয়েছিল। যারা ছিলেন আগুনখেকো নেতা, ব্রিটিশ শাসনকে গালি না দিয়ে যারা জলটুকু খেতেন না, তারা জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যা দেখে শিউরে উঠলেন। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কি চেহারা নেয় জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যার বিপুলতা তা টের পাইয়ে দিয়েছিল বাঘা বাঘা বিপ্লবী নেতৃত্ব তখন চুপ।
এক কবি হতে পারে তিনি জমিদার পরিবারের সন্তান। হতে পারে তিনি দুধে মধুতে বড় হয়ে ওঠা বুর্জোয়া, হতে পারে তিনি কোনোদিন লাঙল টানেননি নিজে হাতে। কারখানার ভোঁ শুনে দৌড়োতে হয়নি তাঁকে বয়লার ঘরে। সেই কবি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বললেন প্রতিবাদ ধ্বনিত করতে। তখন ব্রিটিশের নখ দাঁত দেখে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব থরহরি কম্পমান। আগুনখেকো নেতারা রয়েছেন আড়ালে আবডালে
বেরিয়ে এসে বুক চিতিয়ে প্রতিবাদের সময় নয়। এই ছিল তাঁদের মত বাঘা বাঘা বিপ্লবী নেতৃত্ব তখন বোবা কালা সেজেছেন। তখন এক কবি, হতে পারে তিনি ছন্দের সুষমায় প্রাণ ঢেলেছেন, হতে পারে তিনি গানের সুরে পাখনা মেলেছেন। তিনি বললেন, তাহলে আমাকেই কিছু করতে হয়। সেই কবি আশ্চর্য সমৃদ্ধ ভাষায় ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ পদাধিকারীকে লিখলেন এক পত্র। তাতে বললেন, যেভাবে জালিয়ান ওয়ালাবাগের গণহত্যা হল, তা মানবিক সমস্ত ধারণাকে পদদলিত করেছে। এক কবি রাষ্ট্রীয় নেকড়ে হায়েনা শ্বাপদের ধারালো দাঁতের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালেন। আমার দেশবাসীকে যে অবমাননা করেছ,আমাকেও ঠেলে দাও সেই নিচে। কবি পারে এই কথা বলতে... সেই থেকে জানি কাকে কবি বলে ...

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন