বৈষ্ণব সিরিজ : সূরজ দাশ

সূরজ দাশ
বৈষ্ণব সিরিজ

ক.  
 
রাধার কি হৈল অন্তরে ব্যথা

খুলছে না দুপুরের গিঁট, স্বপ্নের রেলিঙে বাঁধা আছি
হাত কাঁপে খুব, তবু ধরে রাখি অতীত মাল্লার
ভাবছি শ্রাবণ হবো, মেঘে মেঘে খুঁজব তোমাকে
ঝড় এলে বিদ্যুতের ফাঁকে হবো প্রবেশ-চাতুরী সার

তার রেখে যাওয়া গানের খাতা আজ টলমল বৃষ্টি
বারান্দার পাশে যেটুকু রোদ্দুরে তুমি ঠোঁট ঘষো
কাঁচা সেই রোদগন্ধে হাত রাখি, উড়তে পারি না
যেন সে চাঁদ-চতুর, লজ্জা লজ্জা সুন্দরীর সন্ধ্যা, ভাসো

শীতের নিঃশ্বাস রাখি টানটান, দুখজাগানিয়া
চাওয়া হয়নি কিছু, তবু খুলে পড়ে  নদীর আগল
তুমি যদি থেকে যেতে, যদি তুমি বুঝতে পাগল
এমন পিরীতি, দুঁহু কোরে দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া


খ. 

সই কে বা শুনাইল শ্যামনাম

আত্রেয়ী যমুনা নয় জানি, তবু তার তীরে ভেঁপু, জলযান
কদমডালের ছায়া, কত সব, আড্ডার পীড়নে তুমি রাই
এসেছ আমার মুখে কতবার, এক পা পিছনে রেখে পালোয়ান
রেখেছি নিজের ক্ষত ঢেকে, মুখ বুজে, শূন্যতার ছাই

কি অবলীলায় পোড়াচ্ছি সই তোমার যত্নে লেখা চিঠি
সেই কবে লিখেছিলে, মনে আছে ? টানা জোছনার
পায়ে ভবিষ্যৎ লুটোপুটি, তবু কত কথা ছিল, কাউকে বলিনি
শুধু জানি, সাঁকোর ওপারে তুমি অতীত, একলার 

আত্রেয়ীর পাড়ে মেঘলা খোয়াব, আনকোরা ঢেউ
বৃষ্টির মেজাজে কতসব, মুখোমুখি, কলমে জোয়ার
আনে লালনের গান, শুধু এইটুকু ব্যাস, বাকিটুকু কেউ
লেখো, যা বলার আছে, আমি হবো বান্ধব-জীবন সই তোমার


গ.  

সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু

উড়তে এসেছ কেন ঘর, নদীপাড়ে ? কেন ভেসে গেল
সন্ধ্যা সন্ধ্যা বিকেলের কুচিরোদ ? কেন বাতাসেরা
চুলের ভেতর সুড়ঙ্গ বানায় ? বুঝতে বুঝতে
আরো একবার ভেঙেছি এ ঘর, বেয়াদব, মুখপোড়া

এই দেখো, রাত্রি পতনের আগে, অনলে পুড়িয়া গেল সব
শিয়রের পাশে ছাই, ছাইয়ের পাশে পোড়া ছবি তুমি
দরজা ছিল না, একা একা এ গলি ও গলি খুঁজে
কি বিস্ময়, সেই সুখ, সেই আহ্বান, আর আমি !

অন্ধকারে অন্ধকার গড়ি একা, কান্নার দাগের মত ঢেউ
ফুলে ফুলে ওঠে, এখনও রয়েছি আমি একা, এই পোড়োবাড়ী
ভাঙতে দেবো না, অসংখ্য দুঃখের কুহুমতি, সেউ
বলেছিল- 'আমি আছি', প্রতিশ্রুতি, রোদ্দুরেও দেবো পাড়ি


ঘ.  

এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর

কতটুকু অবশিষ্ট ছিল ! রাস্তায় দাঁড়ানো গল্প আর
দুঃখের পিছনে দুঃখ, ভাঙা জমিদারী, অথবা রহস্য
সীমান্ত পেরিয়ে কত পাখি শীতরোদ, হাওয়ার
জানো তুমি ? সেই তেপান্তর, সেই সময়, নমস্য

বয়ে যাওয়া অদৃষ্টের সঙ্গদোষে সারারাত স্বপ্নের ধকল
বাঁধানো চত্তরে রোজ সকালের নিয়মমাফিক বদনাম
টিউশনে ডালভাত, কিছু ফূর্তি, তবু তো সকল
কিছু নয়, ভাবছি ময়ূর হবো, সংবাদ শিরোনাম

এভাবে চলতে গিয়ে যদি তুমি হও গন্ধলেবু
বৃষ্টির শরীরে যদি জল ঢালা মাত্র পেয়ে যাও ফের
দুপাতা অক্ষর, আমি ভুলে যাব গ্রীষ্ম পরিযায়ীদের
সন্ধ্যার ওপারে উড়ে যাব, হাতে নিয়ে কামনা রঙের ভেঁপু
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.