![]() |
| দেবশ্রী রায় |
১
বৃদ্ধাশ্রম
বাথরুমে ওডিকোলন আর খাবার টেবিলে
পোড়া মাংস,
পেছনের ব্যালকনিতে পরিত্যক্ত কার্টুনে পড়ে থাকে
আটপৌঢ়ে অবসাদ।
রেজাইয়ের নিচে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির
বিরিয়ানি ঘুম।
দূরের বৃদ্ধাশ্রম থেকে ভেসে আসে,
মায়ের আঁচলে লেগে থাকা গরম ভাতের গন্ধ।
২
ঘুষ
পাঁচ,আট কিংবা দশ এর পরে আরও
পাঁচটা শূন্যের লেনদেন।
রাজপথে আত্মহত্যার গল্প আঁকে ওরা।
অন্ন,বস্ত্র,শিক্ষা,চিকিৎসার অঙ্গীকার ছাড়াই
প্রকাশ্য দিবালোকে জন্ম দেয়,
অনশনে রুগ্ন হয়ে যাওয়া নবজাতককে।
কুণ্ডলী পাকিয়ে বিষ ঢুকে পড়ছে মানবতার
জানালা দিয়ে।
প্রচুর পরিমানে অ্যানটি ভেনম সিরাম দরকার।
৩
শিশুশ্রম
আস্তাকুঁড়ে ক্যাটারার ঘুমিয়ে পড়লে
শুরু হয় ওদের ম্যারাথন দৌড়।
আর এক দল,
সস্তায় সবুজ কেনা মুনাফায় নাগরিক সুখ কিনে,
চিলেকোঠায় মানবতার গান গুছিয়ে রাখে।
ক্ষুণ্ণবৃত্তির শপথ নিয়ে,
মৌন মোমবাতি হেঁটে যায় রাস্তায়।
আদালতে শিশুশ্রমের রিমেক বেজে চলে।
৪
সোস্যাল মিডিয়া
বারান্দার অন্ধকার সাঁপ্টে সরিসৃপ হয়,
একান্ত আলাপ।
বিকেলের ডাকে ছাতিমতলায় আজকাল আর
কোন চিঠি আসে না।
অ্যারোবিক ক্লাসে ঢুকে লজ্জা পায়
শাড়িতে গোলগাল রবিঠাকুরের সাধারন মেয়ে।
লেট নাইট চ্যাটিং এ রুগ্ন হয়ে যাওয়া ভালবাসা
১৪ই ফেব্রুয়ারিতে যত্রতত্র লুটোপুটি খায়।
৫
পণ্য
ওরা বিকছে।
কখনো বাজারে, কখনো অন্ধকার গলিতে।
কখনো আবার আলো,সানাই রোশনাইয়ের মধ্যেও
ওরা বিকছে।
আজকাল তো নিলামেও বিকছে ওরা।
আর না বিকোলে?
পুড়ছে।
কখনো অ্যাসিডে নয়তো কেরোসিনে।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন