স্ত্রী - বাজার আছে , যেতে হবে না তো ,কালকেই তো এনেছো ভুলে গেলে ?
স্বামী - না মানে ওই একটু তাজা শাক সবজি আর কিছু ছোট মাছ বোরোলি বা মরোলা যদি পাই নিয়ে আসি।
স্ত্রী -রোজ যেতে হবেনা এখন দরকার পড়লে সেদ্ধ ভাত আর খিচুড়ি খাবো ,জানোনা বাজার থেকেই বেশী রোগসংক্রমণ ছড়াতে পারে ? ঘরে একটা বাচ্চা আছে।
( কণ্ঠে কাতরতা )
স্বামী - হ্যা জানি তো কিন্তু আমি তো মাস্ক পরে এই যাবো আর আসবো দেরী করবোনা, দূরত্ব বজায় রেখেই ...
স্ত্রী - তোমার অত কথায় কাজ নেই যেতে হবেনা ব্যাস।
চায়ের কাপ রেখে কিচেনের দিকে যায়।
স্বামী - এই শোনোনা কোথায় তুমি .? ( খালি কাপ প্লেট হাতে )
স্ত্রী --কী হলো আবার ! (খুন্তি হাতে )
স্বামী --না মানে কাল , না কাল না পরশু দিন ওই মুদির দোকানদারের কাছে খুচরো ছিলোনা তাই রেখে চলে এসেছি যাই একবার টুক করে চেঞ্জ টা নিয়েই চলে আসবো।
স্ত্রী--থাকুক ওর কাছেই চেঞ্জটা পরের দিন যখন যাবে নিয়ে নেবে। সপ্তাহে একবার যাবে শুধু বাইরে।
তোমার যেতে হবেনা আজকে বললাম নাহ ?
স্বামী -- (সোফায় বসে )অগত্যা নিউজ পেপারের পাতা মুখস্ত করে।
স্ত্রী -- বাবানকে একটু অঙ্ক গুলো করাও তো আমি জলখাবার তৈরী করছি।
স্বামী -শোনোনা মনে পড়েছে বাবানের হাত পায়ের নখ গুলো খুব বড়ো হয়েছে আর আমারও দাঁড়ি কাটতে হবে যাই একটু একটা নতুন ব্লেড নিয়ে আসি।
(ব্লেড হাতে বসার ঘরে আসে স্ত্রী )
স্ত্রী -এই নাও ব্লেড ধরো কাটো গিয়ে দাঁড়ি।
যও সব বাইরে বেরোনোর বাহানা।
স্ত্রী -- খেতে আসো , বাবন চলে আসো গরম গরম আলুর পরোটা আর টকদই।
স্বামী -- (ডাইনিং টেবিলে বসে ) যাইনা একবার (কাকুতি ) বলছিলাম কি - মানে মিষ্টির দোকান গুলো খুলেছে আর জলখাবারে বাবানও মিষ্টি খেতে খুব পছন্দ করে, যাই একটু চারটে মিষ্টি নিয়েই চলে আসবো মোড়ের দোকান থেকে। আর বের হবো না কয়েকদিন বলছি তো।
বাবান - ঠোঁট উল্টায় মিষ্টি খেতে সে ভালোবাসে কি জানি ?
পরোটা খেতে মন দেয়।
স্ত্রী - জানি জানি তুমি আবার কালকেও কোনো না কোনো বাহানায় ঠিক বেরহবে। মিষ্টি খেতে হবে না ; ঐটুকু বাচ্চাও বোঝে বর্তমান ভয়ানক পরিস্থিতি।
আর দেখছো না (টিভিতে দেখাচ্ছে আমেরিকা লন্ডন চীন আর ইতালির খবরগুলো ,গণকবর দিচ্ছে -পরিজন ছাড়াই , লক্ষ লোক মৃত , ডাক্তারাও আক্তান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে , হাসপাতালে জায়গা নেই সিল করে দিচ্ছে সব একে একে। )
আমাদের ভারতের পরিকাঠামো উন্নত দেশগুলোর মতো নয়। সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে হবে সবাইকে।
আচ্ছা লজ্জা করে না যখন লক ডাউন হয়নি তখন তো
এতো বেশী বের হতে না ? বাজারের নামে তো মুখ .... যাকগে তখন তো বলতে ঘুমোতে দাও একটু অফিসের কাজ খুব চাপ হ্যান ত্যান কত কী !
ঘরেই থাকবে আর স্নানের আগে একটু ঘরের ঝুল আর পাখাগুলো ঝেড়ে দিও।
স্বামী - আচ্ছা দেবো সব করে দেবো কিন্তু সিগারেট ..,...
স্ত্রী --- ওই হলো তো শুরু ? খেতে হবেনা ছাইপাশ বন্ধ করো ওসব ( চোখ বড়ো বড়ো করে)
কাজ নেই শুধু বাইরে যাওয়া আর কি !
(বিকেলে চা খাওয়ার পরে )
স্বামী - বলছি কী কিছু ওষুধ নিয়ে আসি প্যারাসিটামল আর ওই কিছু .... খুব প্রয়োজনীয় জানো করোনার ওষুধ তো তৈরী হয়নি তাই ওই এনে রাখি কয়েকটা।
স্ত্রী --- যাও যাও বাইরে যাওয়ার জন্য হাত ধুঁয়ে পড়েছে একেবারে উঃ।
স্ত্রী -- টিভি তে নিউজ দেখছে শহরে পুলিশ আর কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা র্যাফ ( র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ) নেমেছে পাড়ার মোড়েও পুলিশ এসেছে সবাইকে লাঠি পেটা করছে , লোকজন দৌড়ে বাড়ী ঢুকছে কিছু মানুষ কে কান ধরে উঠবস করাচ্ছে কারো অজুহাত শুনছেনা।
হাতে ছাপ দিচ্ছে অকারণে যারা বেরিয়েছে , আর সাথে সাথে সাংবাদিকরা ভিডিও করছে সব চ্যানেলের।
স্বামী -- খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঘরে ঢোকে। এই শুনছো .....!!!
সমাপ্ত
বি দ্রঃ (ঘটনাটা কাল্পনিক , দেশবাসীকে সতর্ক করতেই লেখা )

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন