অল্প স্বল্প সুদূর অতীতের প্রকাশনার গল্প : পিনাকী চৌধুরী

পিনাকী চৌধুরী
অল্প স্বল্প সুদূর অতীতের প্রকাশনার গল্প :  পিনাকী চৌধুরী      
    
এখনতো বাজারে হাজার একটা প্রকাশনা সংস্থা, প্রত্যেকেই একটা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সংবাদ পরিবেশন করে, জনমত গড়ে তোলে। কিন্তু ভারতে স্বাধীনতার আগে কেমন ছিলো সেইসব স্বদেশী প্রকাশনা? 'দ্য অল ইন্ডিয়া স্বদেশী ডিরেক্টরী' এইরকমই এক পুস্তক,  যা কিনা আদ্যন্ত ইংরেজীতে প্রকাশিত হতো। প্রাথমিকভাবে ছোট উদ্যোগ হলেও পুস্তকটি পরবর্তীকালে ক্রমে ক্রমে ডানপালা মেলতে থাকে এবং জনমানসে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। 

বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশকের কলকাতার স্বনামধন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এস.কে বসু ১২৬, আশুতোষ মুখার্জী রোড থেকে এটি সম্পাদনা করতেন। বইটির প্রতিটি পাতায় যেন লুকিয়ে থাকতো স্বদেশী জিনিসের ব্যবহারের আর্জি! প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , ডাঃ এস.কে বসু ছিলেন ' স্বদেশী খদ্দর বোর্ডের অবৈতনিক সম্পাদক। ডাঃ বসুর লেখনশৈলীও ছিলো অসাধারণ! তিনি জানতেন কিভাবে আপামর ভারতবাসীকে জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত করা যায়, তাই প্রতিটি সংখ্যার সম্পাদকীয়তে তিনি স্বদেশী অভিবাদন জানিয়ে, সুচিন্তিত মতামত পোষণ করতেন। 

তদানীন্তন জাতীয়তাবাদী কিছু বিখ্যাত প্রকাশনা, যেমন- আনন্দবাজার পত্রিকা, হিন্দুস্থান টাইমস্, অমৃতবাজার পত্রিকা এই পুস্তকটিকে সহযোগিতা করতো। বেশী সময় লাগলোনা, পাঠকের দরবারে বইটির গুরুত্ব বেড়েই চলতে লাগলো ! ক্রমে ক্রমে দেশের পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনে বইটির অবদান যেন অনস্বীকার্য। কিন্তু একটি প্রকাশনা চালানোর ব্যয়ভারতো বিশাল ! খরচাপাতির অঙ্কটাওতো কম নয়! তাহলে উপায় ? বলাবাহুল্য, অন্ধ্রপ্রদেশ, ,মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দরাজ হস্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো, বিজ্ঞাপন আসতে লাগলো প্রচুর, উত্তরোত্তর কলেবর বৃদ্ধি পেতে থাকলো পুস্তকটির। 

সেইসময় ভারতের কিছু বিখ্যাত নেতাদের সুচিন্তিত অভিমত গুরুত্ব সহকারে ছাপতে শুরু করে বইটি। তখন ব্রিটিশ শাসনকাল ! ভারতবাসীর প্রতি পদে বিড়ম্বনা ! পরাধীন দেশবাসীর আর্থিক বা সামাজিক সুস্থিতি ছিলো না ! বিদেশী সিগারেট বা চুরুটে বাজার ছেয়ে গিয়েছিলো তখন ! বেকারত্ব চরম আকার ধারণ করেছিলো ! কিন্তু সেই ঘন অন্ধকারেও আলোর পথ দেখিয়েছিলো এই বইটি, যে বইয়ের পাতায় পাতায় যেন ফুটে উঠতো স্বদেশীয়ানার জয়গান ! 

সময় থেমে থাকেনি , স্বদেশী ভাবধারায় অনুপ্রানিত আরো তিনটি স্বদেশী সংস্থা এই প্রকাশনাটিকে সাহায্য করতে লাগলো , তারা হলো - ' স্বদেশী খদ্দর লীগ', ' স্বদেশী বস্তু প্রসার সমিতি' এবং ' দ্য স্বদেশী লীগ'।  মূলত বিদেশী পণ্য বয়কট করে সম্পূর্ন  স্বদেশে তৈরি দ্রব্যের ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বইটিতে বিভিন্ন চিত্তকর্ষক প্রবন্ধ এবং প্রতিবেদন লেখা হতে থাকলো ! স্বাধীনতার আগে অনেক বিরুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবিলা করে 'দ্য অল ইন্ডিয়া স্বদেশী ডিরেক্টরী' বইটি আপামর ভারতবাসীর কাছে সমাদৃত হলো !
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.