![]() |
| চাষী সিরাজুল ইসলাম |
-হ্যালো, চাচাজান কেমন আছেন?
- ভালো নেইরে ভাতিজা। শোয়া অবস্থায় ফোন টা উঠিয়ে বলতে থাকেন অশিতিপর বৃদ্ধ মগবুল হোসেন। তারপর ভাতিজাকে বলেন,
-ভাতিজা, মনে বড় স্বপ্ন ছিলো এই বৃদ্ধ বয়সে মরলে পরে কবরটা যেন হয় আমার গ্রামের বাড়ি মাওয়ায় আমার স্ত্রীর কবরের পাশে।
- তা অসুবিধা কী চাচাজান? হইব।
-ওই পাগল টিভিতে দেখস নাই? ইটালীর কী একটা অবস্থা! সারি সারি কফিন সাজাইয়া রাখছে!! আরো দেখস নাই মরলে পরে দূর থাইকা লাশগুলোরে গর্তে ছুইড়া তারপর মাটি চাপা দিতাছে! ভয়ে সব লোকজন ঘরের ভেতর হান্দাই গেছে!
-কাফন নাই, জানাজা নাই,মাটি চাপা দিতাছে...
হায়রে এমন একটা অবস্থা দেখতে হইব ইহ জীবনেও ভাবি নাই। কাফন পাবনা জানাজা হইবনা কবর হইবনা এইডা কী ভাবা যায়?
-ঠিক কইছেন চাচাজান। করোনায় সব সাবার কইরা দিতাছে। তবু লোকজনের হুস হয়না। যেই দশদিনের ছুটি দিছে সংগে সংগে লঞ্চে ফেরীতে ট্রেনে পাগল হইয়া ছুটছে হাজার হাজার মানুষ গ্রামের বাড়ি। এইডা কিছু হইল!
-ভাতিজা কেউ কাউরে ছুঁতে পর্যন্ত চায়না। ধরলে সেও মারা যাবে। একজন ধরে আক্রান্ত হলে,স্পর্শে এলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও ছুঁতমার্গে আক্রান্ত হয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। কেউ কেউ মারাও যাচ্ছে। খুব দ্রুত বিদ্যুতের মত এসব ঘটছে! হায়রে খোদা পাপে সব ভইরা গেছে,পাপে সব ভইরা গেছে তাই এমন একটা অবস্থা!
-হ চাচাজান ঠিক কইছেন!
-শোন ভয়ঙ্কর কথা হইলো ফেসবুকের নিউজ ফিডে দেখলাম,
একজন মারণছুত রোগে অাক্রান্ত হইয়া মারা গেছে। তারে খিলগাঁও কবরস্থানে দাফন করতে গেলে স্থানীয় লোকজন কবর দিতে বাঁধা দিছে। লাশেরে কবর পর্যন্ত দিতে দেয় নাই। তিনবার চেষ্টা কইরাও কবর দিতে পারে নাই সে লাশের!
-তারপর কী করছে জানস ভাতিজা?কবরতো দিতেই দেয়নাই,উপরন্ত্ত
খিলগাঁ ও রামপুরার সর্বস্তরের জনগণ কবরস্থানে ব্যানার লাগাইছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লাশ খিলগাঁও তালতলার কবরস্থানে দাফন করার না করছে।
-হায় আল্লাহ মনুষ্যত্ব কোথায়, মানবতা কোথায়? মরলে কবরও হইবোনা!! যামু কোথায়?
-ভাতিজা এক কাম করিস মরলে পরে একটা ঠেলা গাড়িতে তুইল্লা ধাক্কা দিয়া ছাইড়া দিস। ঠেলা গাড়ি যেখানে নেওয়ার লইয়া যাইব।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন