বড় মাছ : দেবাশিস দে

দেবাশিস  দে
বড় মাছ

    গিন্নী, তোমার কথাই ঠিক – এই দেখ কত বড় মাছ। আমার জীবনে এত বড় মাছ আমি কোনও দিন ধরিনি।

    শুকদেব মন্ডল তার শিকারটা দাওয়ায় গিন্নীর সামনে রেখে ঘরে  ঢুকে দরজা বন্ধ করে। বৌয়ের একটা কাপড় গলায় জড়িয়ে আড়কাঠে নিজের শরীরকে ঝুলিয়ে দেয়।

    দর্মার বাড়ি। মাটির মেঝে, ঘরের সামনে ছোটো দাওয়া, পুরোটাই টালির চাল, ঘরের দুদিকে দুটি জানলা। একটি তক্তপোষ, তাতে তোষক বালিশ সবই আছে। তবে ঘরের আসবাব ও অন্যান্য জিনিসে  দিন আনা দিন খাওয়ার ছাপ। দাওয়ার এক ধারে উনোন জ্বেলে শুকদেবের স্ত্রী কমলা রান্না করে। পাশে কমদামী কাঠে বানানো সেলফে রান্নার সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক টুকিটাকি থাকে। শুকদেব, কমলা আর ওদের দুটো ছেলে – বড়টা পাঁচ ছোটটা তিন – এই নিয়ে শুকদেবের ছোটো সংসার। পেশায় ছুতোর।

মোটামুটি রোজই কিছু না কিছু রোজগার জুটে যায়। তাই দিয়ে দিনের শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাজার করে আনে সে। বাড়ির সামনে ছোটো এক ফালি জমি। কলা লঙ্কা, লাউ, কুমড়ো গাছ আর কিছু শাকসবজি লাগিয়েছে সেখানে।  জমির পাশে একটা ছোটো পুকুর। পানা ভর্তি। পুকুরের মালিক অবশ্য শুকদেব নয় – অধীর মিত্র। শুকদেবের বাড়ির উল্টোদিকে যে হলুদ  রঙের দোতালা বাড়িটা দেখা যায় – ওটাই অধীর মিত্রর। অধীর মিত্র শুকদেবকে দয়া ও স্নেহের চোখে দেখেন। প্রয়োজনে শুকদেব ওঁর বাড়ির টুকটাক কাজও করে দেয়। অধীর মিত্র পুকুর থেকে খুব কমই মাছ ধরেন। মাঝে মাঝেই শুকদেব ঐ পানাপুকুরে বর্শা দিয়ে মাছ ধরে। অধীর মিত্র তাতে কিছু বলে না। বাজার থেকে মাছ কেনার তেমন ক্ষমতা নেই শুকদেবের। যে দিন পুকুরে মাছ পায় মাছ রান্না করে কমলা।

    কমলা দাওয়ায় রান্না করতে করতে হঠাৎ দেখে পানা পুকুরে পানাগুলি খুব নড়ছে। কমলা  বুঝে  যায় বড় মাছ আছে। শুকদেবকে বলে, ‘দেখ পুকুরে মনে হচ্ছে বড় মাছ আছে, ধরবে’? শুকদেব তার বর্শা নিয়ে এগিয়ে যায়। পানাগুলির নড়ন চড়ন লক্ষ্য করে বিদ্ধ করে সে। বর্শা আটকায়।

বর্শা আটকায় শুকদেবের পাঁচ বছরের ছেলের পিঠে। তা বুক ভেদ করে সামনে বেরিয়ে আসে। কমলা খেয়ালই করেনি তার বড় ছেলে খেলতে খেলতে কখন পুকুরের ধারে গিয়ে জলে পড়ে গেছে।
Share on Google Plus

About Shraboni Parbat

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.