![]() |
| সই : স্মৃতিজিৎ |
-- কী করছিস অনুভা ? চলভাষের ওপার থেকে প্রথম প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল প্রীতি ।
-- মার্কেটিং ।
-- এই অসময়ে ? কোথাও প্রোগ্রাম ?
-- হাঁ রে । শীতের কিছু পোষাক-আশাক । তোকে বলা হয়নি । লোলেগাঁও যাচ্ছি । বিকাশ তিনদিনের ছুটি পেয়েছে ।
-- শুনেছি লোলেগাঁও আমেজিং প্লেস ! ইচ্ছে আছে আমিও একদিন বেড়াতে যাব ।
-- তাই ? চল না আমাদের সাথেই । দারুণ মজা হবে !
-- সত্যিই একসাথে গেলে তো দারুণ হতো । আমার তো তোর মত ইয়ে নেই ।
-- তাই তো বলি, এইবার বিয়েটা করে ফ্যাল ।
-- করব করব । আমার সমস্যা তো তুই ( একটু থেমে ) বুঝবি না । আগে সেটা দূর করি । তারপর নিশ্চয়ই করবো । আচ্ছা তুই বলছিস যখন, তখন দেখি, বসকে বলে । ছুটি ম্যানেজ করতে পারি কিনা ।
চারদিকে বরফ আর বরফ ! কী নয়নাভিরাম দৃশ্য ! এই নৈসর্গিক দৃশ্যের মাঝে অনুভা ও প্রীতি পরস্পরকে মুঠোমুঠো গুঁড়ো বরফকুচি ছুঁড়ে মারছে ! হঠাৎ অনুভা বিকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, অ্যাই, তুমি দাঁড়িয়ে কী ভাবছো ? বিকাশ থতমত খেয়ে বলল, কবিতা ! ভাবছি, একটা কবিতা লেখা যায় কিনা । হঠাৎ প্রীতি পেছন থেকে জাপ্টে ধরল বিকাশকে । সোল্লাসে চিৎকার করে বলল, অনুভা, তুই বরফ ছোড় এই কবিমশাইকে ! প্রাথমিকভাবে অনুভা একটু অপ্রস্তুত বোধ করল । তারপর হাসতে হাসতে বরফ ছুঁড়তে লাগল । বিকাশ 'অ্যাই অ্যাই, করছো কী, করছো কী বলে' চিৎকার করছে আর দু'হাতে বরফ ঠেকাচ্ছে ।
প্রীতি ও বিকাশ পিছোতে পিছোতে বরফের একটা ছোটো চাঁইয়ে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ল । প্রীতি পিছলে যেতে যেতে বিকাশের বাঁ পায়ের বুটটা ধরে ফেলল । নীচে সাড়ে পাঁচ হাজার ফুট গিরিখাত । প্রীতির অর্ধেক শরীর ঝুলে আছে । মরণপণ চিৎকার করছে সে । বাঁচাও অনুভা, প্লিজ হেল্প মি !
বিকাশ হামাগুড়ি দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে চাইছে । সেও চিৎকার করে বলছে, পা ছেড়ে দিয়ো না । শক্ত করে ধরো ।
অনুভার চোয়াল শক্ত । সে বিকাশকে বলল, তুমি নড়াচড়া করো না । আমি দেখছি । সাবধানে সে বিকাশের বাঁ পায়ের বুটের চেনটা খুলে দিল । বুট আলগা হয়ে খুলে গেল । বুট হাতে ধরা অবস্থাতেই প্রীতি পালকের মত ভাসতে ভাসতে সাড়ে পাঁচ হাজার ফুট খাতের দিকে পড়তে লাগল । 'বাঁচাও বাঁচাও' চিৎকারটা নিমিষেই মিলিয়ে গেল লোলেগাঁও পাহাড়ের উজ্জ্বল অন্ধকারে !

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন