![]() |
| মনোনীতা চক্রবর্তী |
অবিলম্বে মুছে দাও ছায়াদের। ছায়াদেরও অনুবাদ হোক কোনও অসংযত হাতে, আমি চাই না। একটা অন্ধকার থেকে আর-একটা অন্ধকারের ভিতর একটা সিজিন্যাল গ্যাপ থাকে। আইব্রুফেন থাকে। পরলোকগত কোনও মধুবালাকে দেওয়ালে সেঁটে কেউ-কেউ পার ও পর করে দেয় কত প্রিয় না-মেলা ফ্যালাসি!
অবিলম্বে টানটান করো ছয়-সাতের গোলাপি-বেডকভার। নইলে অপ্রকাশিত থাকবে
একটা অতি বেগুনীর প্রতিশ্রুতি আর নাগালের বাইরের একটা সাসপেন্স।
অবিলম্বে এসব দূরত্ব লিপিবদ্ধ হোক
একটা নির্জন কেবিন অথবা শুনশান শ্মশানে।
ইশারা থাক দীর্ঘ-বেণীর চেয়েও দীর্ঘ। অপরিপুষ্ট
কিশোরীর মায়াময় চোখে একটি জিওল মাছ।
সাঁতরে কত-কী বলে যায়! জলের ছায়ায় একটা
প্ল্যানচেটের মোম-শিখা তির্যক হাসি রেখে উধাও হয়। একটা আলোর বলয় আসলে বিশ্বাসের তর্জনী।
অবিলম্বে ক্লান্ত-অবসন্ন অসংখ্য পা-দের মর্গে পাঠানো হোক। ওদের পেট আমাদের জন্য রেখে গেছে সীমাহীন অভিশাপ ও অকাল বর্ষা। ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে নদী। রেখো এসো নাভিকুণ্ড ও সমূহ শোক। আমরা তো সেই কবে থেকেই দূরত্ব নিয়েই আছি; এখন যার ব্যবহৃত টার্ম 'স্যোশাল-ডিস্টান্স'! যবে থেকে সামাজিক হয়েছি, সেই তখন থেকেই দূরত্বে মুড়ে রেখেছি নিজেদের। যখন সবাই হাতে-হাত মিলিয়েছি, তখনও কি আসলে মিলিয়েছি? অথবা যখন বুকে বুক চেপে জড়িয়েছি; তখন কিন্তু মনে রেখো তোমার পিঠের দিকে ছিল আমার মুখ আর আমার পিঠের দিকে তোমার মুখ। আসলে, কোন মুখটা আততায়ীর গড়নে কেউ জানি না!
অবিলম্বে সমস্ত যতি-চিহ্ন উঠিয়ে ব্যালকনিতে সদ্য ফোটা জারবেরা ফুলটাকে দ্যাখো...দু'চোখ বন্ধ করো এবার... প্রিয় মুখ মনে করো...অবিলম্বে...
চারপাশে প্রখর অমাবস্যা, তীব্র অন্ধকারে আমরা পুড়ে যাচ্ছি...যদি পারো কিছু আলো রেখে যেয়ো...

1 Comments:
এমন গভীরে ডুবি, ভাসি কম তলিয়ে যাই বেশি...
ভালো থেকো কবি
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন